২১৩ টু

২৫

স্‌ ১২৬ ৩০ রি রস 1৮..৬

সরাতে

৮৫৮ 7 ডে পানে দি 6১ রি 3 ১০ তশ ৮৬

নী

টি 4

শি!

রণ হ্‌শ ডি, পা (৮ তু 7 £ 5.

প্‌ টি রি

* বটি $

এরি টি ঠত 1৮৪

টা ১২ /

ছু 2৫

৫৯ রে *

সি ৩৫০৩ [0 + ছে 8

89০০

4 ৯৭

, ক,

রর. ১২

টু

(৮০৪৯১

৫-১, রমানাথ মজুমদার দ্ত্ীট,

কলিকাত?-৯ প্রথম প্রকাশ : চেত্র ১৩৬৮ 882 80 5/ হট

প্রকাশক -ময়ুখ বন্ধ

গ্রন্থপ্রকাশ

৫-১ বমানাঁথ মজুমদার স্তীট

কলিকাতা-৯

মুন্তরক _-বগ্রনকুমীর দাঁস শনিরগরন প্রেস ৫৭ ইন্দ্র বিশ্বাস রোড কলিকাতা-৩৭

72৩2 ্চ্ছদপট ছবি ভ্াঠা5 151 [1২2 118২)৭৭ 18210

স্স্থবোধ দাশগধ চুাগরগল* গ্রন্থক--বেঙজগল বাইতার্স

তিন টাকা পঁচাত্তর ন. প.

নতুন কালের শক্তিমান কথাকান শ্রীমান বমাপদ চৌধুরী নেহাস্পদ্দেষু

রাজকন্তার স্বয়ন্বর রূপবতী

মাষ নামক জন্ত রক্তের বদলে রক্ত মাহুষ গড়ার কারিগর আগস্ট, ১৯৪২ এক বিহঙ্গী ওগে। বধূ সুন্দরী জলজঙ্গল

নবীন যাত্রা

বকুল রর বাশের কেন্গ। বৃষ্টি, বৃষ !

ভুলি নাই শত্রুপক্ষের মেয়ে সবুজ চিঠি নৈনিক

আমার ফাদি হল বন কেটে বসত

ভ্রমণ চীন দেখে এলাম ১ম ২য় সোবিয়েতের দেশে দেশে পথ চলি নতুন ইয়োরোপ : নতুন মাচ্য

গল্প-পঞ্চাশৎ গল্প-সংগ্রহ (১ম খণ্ড) একদ] নিশীথকালে কাচের আকাশ কিংশ্তুক

কুমকুম

খগ্যোত

দেবী কিশোরী নরবাঁধ

পৃথিবী কাদের

মনোজ বহর শ্রেষ্ঠ গল্প

নাটক

ডম্বর ডাক্তার

চক

নৃতন প্রভাত

প্লাবন

বিপর্যয়

বিলাসকু& বোডিং

রাখিবন্ধন

শেষ লগ্ন

ডাকবাংলে। (দেবনারায়ণ গু নাট্যায়িত)

এক

বিরাট অট্টালিকা সদর মহল, অন্দর মহল। সোনাটিকারির রাজবাড়ি। সত্যি সত্যি রাজ। উপাধি ছিল এদের এক পূর্বপুরুষ রামকুমার সোমের। রাজা রামকুমার সোম চৌধুরি। নবাব সরকারে কানুনগে ছিলেন তিনি, জরিপ করে লাখ ছুই বিঘে জমি বের করে দিলেন। এত জমি জোতদারের৷ বিনি খাজনায় ফাকি দিয়ে খেয়ে আসছিল। নবাব খুশি হয়ে গোটা সোনাটিকারি পরগন। রামকুমারকে বন্দোবস্ত দিয়ে দিলেন। আর রাজা বলে সনদ দিলেন।

জনপ্রবাদ এমনি কেউ বলে সত্যি, কেউ বলে মিথ্যে। বলে, ঘুঘুলোক ছিলেন রামকুমার। নাজিরের সঙ্গে যোগসাজসে সোনাটিকারি গ্রাস করেছিলেন আসল মালিককে বঞ্চনা করে। রাজা উপাধিও ভূয়ো-_ভূসম্পত্তির মালিক হয়ে নামের আগে জোর করে তিনি রাজা লিখতে/ লাগলেন। নবাব-সরকারে অভিযোগ উঠল। রামকুমার টা নামই আমার রাজা-রাম, পুরো৷ নামটা ক্ষেপে করে তাবৎ রাম বলতাম। এর উপর বলবার কিছু নেই। ডঙ্কা মেরে সারাজীবন রামকুমার নামের আগে রাজা চালিয়ে গেলেন।

» সে যাই হোক, তিন বিঘের উপর বিশাল অট্টালিকা আকাশ জুড়ে দেই আমল থেকে ঠীড়িয়ে। অহরহ মানুষজনে গমগম করত।

?

! এখন দিনকাল ভিন্ন। দেশ ভাগ হয়ে গিয়ে লোকে নানান রকমে

নাস্তানাবুদ হচ্ছে। রাজবাড়ির অন্য শরিকর1 সময় থাকতে জমি-

জমা বিক্রি করে সরে পড়েছেন। আছেন মেজরাজ। অশ্বিনীকুমার " পরগনার দেড়আন! হিম্তার মালিক তিনি। অতবড় বাড়িখানার

ভিতরে কারা কয়েকটি মাত্র প্রাণী--তা বলে মেজরাজার দৃক্পাত

রাজকভার---১

নেই। রীতিমত ডাকহাক (করেই আছেন। এতখানি বয়সের মধ্যে অঞ্চলের বাইরে যান নি বড় একট1। যাবেনও না জন্মস্থান ছেড়ে, গোঁ ধরে আছেন এখন বাড়ির মধ্যে একল। একটি পরিবার কিন্তু সমস্ত মানুষ চলে গিয়ে মোনাটিকারি গায়ের ভিতরেও যদি একলা হন, তবুও নড়বেন না দেহের ভিতরে জীবন থাকতে এক. ছেলে আর এক মেয়ে রেখে স্ত্রী গত হলেন। বাঁশি ছ' মাসের তখন। ছেলে আশিস বাশির বছর পাঁচেকের বড়। বিধবা বড় বোন বিরজ্জা' এই সময়ে সংসারে এসে ছেলে-মেয়ের ভার নিলেন রক্ষা পেলেন মেজরাজা, তাকে আর বিয়ে-থাওয়ার ঝামেলায় যেতে হল না। ছোট্ট সংসার-_-এ চারটি প্রাণীর রাজবাড়ির উপর তলায় নিচের তলায় পনের-বিশখানা ঘর-_মাঠের মতন এক- একখানার আয়তন, আকাশের মতন উচু ছাত। মোটা মোটা থাম রাতদিনের পাহারাদারের মতো অলিন্দ ঘিরে দাড়িয়ে আছে। চারটি ছোটখাট মানুষ এর ভিতরে যেন নজরে আসে ন1। পালানোর হিড়িক পড়েছে। আর তিনজনে ছটফট করছে, কিন্তু অশ্বিনী অবিচল £ চিরকাল মানইজ্জত নিয়ে কাটিয়ে বুড়ো- বয়সে এখন কোন্‌ ভাগাড়ে মরতে যাব 1 যেতে হয়, তোমরা! সব চলে যাও। আমি থাকব, আর-_

মেজরাজার দাবার নেশা!। খেলার সঙ্গী হাই-ইন্কুলের ভূতপূর্ব সেকেও-মাস্টার সদাশিব বাঁড়ুয্যে। তাকে দেখিয়ে বলেন, আমি থাকব আর থাকবে আমার শিব-দাদা। ছু'জনে মজা! করে রাধৰ বাড়ব খাব, দাবা খেলব, সন্ধ্যা দেব বাপ-পিতামহের জায়গায় |; আমার কি!

সদাশিবেরও খুব সায় £ গাখানা আমার সাজানো বাগান। একর্ফোট। বয়স থেকে শুধু এই গঁ! নিয়ে আছি। একল] মানুষ কে আমার কি করবে? গ' ছাড়লে ছটে। দিনও. বাইরে গিয়ে বাঁচব ন। মেজরাজ।।

দাবা খেলছেন কতকাল, তার লেখাজোখ। নেই। বাঁশি তখন একেবারে ছোট, বয়স ছুই কি আড়াই বছর-_সেই সময়ের একটা দিনের কথ। ধক করে সদাশিবের মনে পড়ে গেল। বজ্জাতি মেয়ের সেই বয়স থেকেই। সদাশিব আলাদ! নামে ডাকেন বাশিকে-__ কাঞ্চনবরণী। থপথপ করে বাঁশি খেলার জায়গায় এসে দীড়ায়। দাড়িয়েই আছে। নিপাট ভালমানুষ, কিছুই যেন জানে না। মুখ তুলে সদাশিব হেসে একবার বললেন, ছ'ঃ দেখে দেখে খেলাটা শিখে নাও দিকি কাঞ্চনবরণী। বুড়ো হয়ে গেলাম_-কবে আছি, কবে নেই। আমি গেলে মেজরাজার অনুপায়। খেলুড়ে পাবে না, দিন কাটবে কি করে? মেজরাজা তখন তামাক টানতে টানতে নিবিষ্ট হয়ে চাল ভাবছেন। বড় বিপাকে ফেলেছেন সদাশিব। বাঁশি হঠাৎ ডাকাতের মতন ঝাপিয়ে পড়ে কোটের উপরের ঘু'টি হাগুলপাঙ্ুল করে দিল। সদাশিব রে-রে করে ওঠেন £ দেখ, তোমার আহ্লাদে মেয়ের কাগ্ডখান। দেখ মেজরাজ।

অশ্বিনী চটেমটে বলেন, ফাড়াও, বড্ড বাড়িয়েছ তুমি। মজা দেখাচ্ছি। এমন শিক্ষা দেব, কোনদিন আর ঘ্ঁটিতে হাত ঠেকাতে আসবে না।

প্রকাণ্ড চড় উচিয়েছেন। সদাশিবের সঙ্গে চোখোচোখি হতে হেসে ফেললেন চড় ন! মেরে কোলে টেনে নিলেন বাঁশিকে।

সদাশিব বলেন, সে আমি জানি। কাঞ্চনবরণীও বোঝে সেটা। তাই অত প্রতাপ

মেজরাজা তম্বি করেন £ পারিনে মারতে 1 তবে দেখ

চড় তুলেছিলেন, আদর করে সেই হাতে বাঁশির গাল টিপে দেন। সদাশিব বলে ওঠেন, কি কর, কি কর! আহা, অনেক তো হল। একফৌটা মেয়ে এত মার কী করে সইবে !

আবার অন্য স্বরে বলেন, মারবেই বা কেন শুনি? কাঞ্চনবরণী

তোমার উপকারই করে দিল? আর পাঁচ-সাত চালে মাত হয়ে যেতে সাদাসিধে মাত নয়, অশ্বচক্র করে ছাড়তাম। ঘোড়ার চালে চালে তোমার রাজ! সারারাত চক্কোর দিয়ে বেড়াত মেজরাজা বলেন, বেশ, সাজিয়ে নাও ফের। কার ঘ্বুটি কোথায় ছিল সব আমার মনে আছে। মাত কে কাকে করে, দেখা যাক। সাজাতে গিয়ে দেখা যায় লাল ঘু'ঁটি ছু-তিনটে বাঁশির ছু-হাতের মুঠোয় দেবে না কিছুতে তখন খোশামুদি করতে হয় £ আচ্ছা, তুমি সাজিয়ে দাও বাশি। বাঁশির মত কেউ পারে না। আমাদের চেয়ে ভাল পারে বাঁশি।

খোশামুদিতে দেবতার্গোসাই অবধি গলে জান, বাঁশি আর কী! মনের আহলাদে সে ঘুঁটি সাজাচ্ছে। রাজার জায়গায় বড়ে, রাজা গেলেন ঘোড়ার জায়গায়। বাঁশি একেবারে বিধাতাপুরুষ হয়ে যাঁকে যেখানে খুশি বসিয়ে দিচ্ছে।

সদাশিব বলেন, খাসা হয়েছে! যাঁও তুমি এইবারে, আমর একটু সরিয়ে ঘুরিয়ে নি।

কিস্ত যতবার ঘু'টি নিজ স্থানে নিয়ে আসেন, জেদি মেয়ে উল্টোপাল্টা করে দেয়। সহসা দার্শনিক তত্ব সদাশিবের মনে ভেসে আসে। বলেও ফেলেন মুখে £ দেখ, শিশু হল ভগবান-_ ত্রিকালদর্শী যা ভধিতব্য, তাই বলে দিচ্ছে। রাজা-প্রজা সব একাকার হয়ে যাবে, এর জায়গায় ও, তার জায়গায় সে। ছুটির গোলমাল করে শিশু সেই কথ! আগেভাগে বলে দিল।

মেজরাজ। নিশ্বাস ফেললেন। খেলার মধ্যে এই সমস্ত চিস্তাঁ_ কেঁচো খু'ড়তে খুঁড়তে সাপ বেরিয়ে পড়ে যেমন হঠাৎ বলেন, দেরি বেশি নেই 'সেদিনের। ঝড়ের বেগে আসছে। রাজবাড়ির মেজরাজাকে সকাল-সন্ধ্যা কাছারি-দালানে ইদানীং নিজে গিয়ে বসতে হচ্ছে। ঠাটটুকু কোন রকমে বজায় রেখে প্রজাদের কেবল পায়ে ধরতে বাকি রাখি। খাঁজনাকড়ি ঠিক মতো। উশতল হলে

তবে উন্থুনে হাঁড়ি উঠবে। নয় তো দ্ীজপুত্র-রাজকন্তা। মন্ত্রী-কোটাল সবনুদ্ধ পাইকারি উপোস। রাজার যে চাকরিবাকরি করতে নেই, চাকরির বিদ্ধেবুদ্ধিও নেই। কোন একটা উপায় থাকলে, সত্যি বলছি শিব-দাদা, কবে এদ্দিন রাজ্যপাট ছেড়ে পালাতাম। সতের-আঠার বছর আগেকার কথাবার্তা কী হয়ে গেল তারপর নিরাল৷ রাজবাড়ি প্রেতভূমির মতো। বাড়ির বাইরে সমস্ত সোনাটিকারি আর দশটা গ্রাম জুড়ে কখন কি ঘটে, এমনি ভয়ে বিহ্বল মানুষের দল। মুখে সেদিন যত বলাবলি করুন, এতখানি সর্বনাশ কেউ ভাবতে পারেন নি।

দুই

রাজবাড়ির ভিতরে আরও একজন আছেন-_হরিবিলাস ঘোষ রাজ-এস্টেটের পুরানো! খাজাঞ্জি। রাজবাড়ির ঘেরের মধ্যে কর্মচারীদের কোয়া্টীর ছু'খান। তিনখানা করে বসতঘর এবং রান্নাঘর ইত্যাদি। এমনি চারটে কোয়ার্টার পাশাপাশি ম্যানেজার স্ুপারিণ্টেণ্ডেটে সদর-নায়েব খাজাঞ্রি থাকতেন। এখন সম্পত্তির সাড়ে-চৌদ্দআন। বেহাত হয়ে গেছে। চারজন বাঘা-বাঘ। কর্মচারী বিশ-পঁচিশজন আমলা নিয়ে সামাল দিয়ে পারতেন না-_সমস্ত গিয়ে একমাত্র হরিবিলাসে ঠেকেছে। একাধারে তিনি ম্যানেজার নায়েব খাজাপঞ্রি। তা-ও কাজ খুঁজে পান না। পুরানো অভ্যাস মতো অশ্বিনীকে অতিশয় সমীহ করেন পারতপক্ষে মেজরাজার মুখোমুখি হতে চান না। প্রাণের কথা যা-কিছু সদাশিবের সঙ্গে। এক এক সময় সদাশিবকে বলেন, চিরকেলে খাটনির মানুষ, শুয়ে বসে বাত ধরে যাবার যোগাড় মাস্টারমশায়। ভাবি, যাই চলে কলকাতায়, ছেলের কাজ- কারবারে লেগে পড়িগে। ছেলেও তাই বারম্বার লিখছে

একা মানুষ, তবু মস্তবড় বাস! ভীড়া করে আছে। মাকে নিয়ে তুলবে সেই বাসায়, খুব বড় ডাক্তার দেখাবে। কিন্তু বলুন মাস্টারমশায়, রুগিকে এই অবস্থায় ঠাইনাড়। করা কি উচিত? তার উপরে আমারও ঠিক মেজরাজার মতন-_নতুন জায়গায় গিয়ে উঠতে সাহস পাই নে। হোক কলকাত। শহর-_জায়গ! নতুন তো বটে! বলে, হাজার রকমের সুবিধে শহরে তবু আমাদের সোনাটিকারিই ভাল। কি বলেন মাস্টারমশায়?

হরিবিলাসের ছেলের নাম বিনয়। তিন-তিনবার ইন্তু্প-ফাইনালে ফেল হল। সদাশিবের ইস্কুলের ছাত্র। গায়ের সকলে হ্যাক-থু করে বিনয়কে। মুর্ন্য মূর্খ। এই সদাশিব মাস্টারমশায়ই কতবার বলেছেন। নিঃসহায় একদিন সে বেরিয়ে পড়ল। মনের ঘেন্নায় বল! যেতে পারে সেই বিনয় শহরে গিয়ে এত চালাকচতুর হয়ে উঠবে, এমন জমিয়ে বসবে, কে ভাবতে পেরেছে! মায়ের অস্ুখ শুনে মাস ছুই আগে একবার সে এসেছিল। ছিল গোনাগুনতি মাত্র ছুটো দ্রিন। বেশি থাকবার উপায় নেই, সে দিকে তা হলে লগুভণ্ড হয়ে যাবে। হরিবিলাস যা বললেন- এলাহী কাণগ্ুকারখানা। মস্তবড় ছাপাখান। করেছে, ত্রিশ-চল্লিশটা মানুষ খাটে হুড়ুম-হাড়াম মেশিন চলছে সমস্ত দিন--কখনে। বা রাত ছুপুর অবধি। মায়ের জন্ত একগাদা ফল নিয়ে এসেছিল বিনয়। আর কোটেো! কোটে। রকমারি বিলাতি পথ্য। যে ছু-দিন ছিল, ছু-হাতে খরচপত্র করে চলে গেল অথচ তিরিশ বছরের মাস্টারিতে বিনয়ের মতো অঘ ছেলে দেখেন নি সদাশিব। তখন বিনয় ক্লাস এইটে পড়ে হেলাফেলার ক্লাস নয়, আর তিনটে বছর পরেই ধর ফাইনালে গিয়ে বসতে হবে। সদাশিবকে সেকেগু-মাস্টারি থেকে নামিয়ে দিয়েছে, তবু তখনো! এসিস্টান্ট-টিচার হয়ে আছেন। দোর্দগপ্রতাপ আগেকার দ্রিনের

মতোই। ছেলের! কাছ ঘেঁষে না। তিনি আসছেন দেখতে পেলে ঝোপবাড় অপথ-কুপথ ভেঙে পালাবে

ক্লাস এইটের ছেলে বিনয় একদিন কাচামিঠে আমের লোভে দৈববুড়ির গাছে উঠে পড়েছে। দৈবসুন্দরী চোখে ঠাহর করতে পারেন না, ধরিয়ে দিল মেজরাজার মেয়ে বাঁশি মেয়ে একটা বটে-_বাশি ন। হয়ে বিচ্ছু কেন ওর নাম হল না! বিনয়ের চিরশক্র বাশি। দৈব ক্যারক্যার করছেন, বিনয় কানেও নেয় না। তখন বাশিই বুড়ির কানে কানে বাতলে দিল £ মাস্টারমশায় যাচ্ছেন ঠাকুমা, ওঁকে ডাক দাও।

সদাশিব গাছতলায় এসে শান্ত স্বরে বললেন, নেমৈ আয়-_

উঠে পড়েছিল সেই একেবারে মগডালে, এডাল-ওডাল করে নামছে। বাশি একছুটে গিয়ে একগাছা ফুলো-কঞ্চি এনে সদাশিবের হাতে দিল। শয়তানি বুদ্ধির হাড়ি মেয়েটা বাঁশির দিকে এক নজরে তাকিয়ে সদাশিব অন্ত্রটা নিয়ে নিলেন। ফুলো- কঞ্চি দেখে শম্কুকের গতি হল বিনয়ের

উপরের দিকে তাকিয়ে সদাশিব হুস্কার দিলেন £ কই রে, তাড়াতাড়ি নেমে আয়।

একসময় অবশেষে নামতেই হল ভুঁয়ে। সদাশিব হাতের কঞ্চি আস্ফালন করছেন, অদূরে দাড়িয়ে বাঁশি তৃতপ্তিভরে নিরীক্ষণ করছে। এইবার, এইবার! পুলকের আতিশয্যে পা ছু-খান। নাচের মতন ওঠানামা করছে।

কিন্ত না মেরে সদাশিব প্রশ্ন করলেন £ 'পরাকাষ্ঠা” মানে কি?

ঘা কতক কঞ্চির বাড়িতে কী আর হত! এই শাস্তি অধিক গুরুতর বিশেষ করে মহাশক্র বাশির চোখের উপরে

কী হল, মুখের বাক্যি হরে গেল যে!

কম্পমান কণ্ঠে বিনয় বলে, 'পরাকাষ্ঠা' মাস্টারমশায়? 'প'এ আ-কার--

বানান চাই নে, মানে

একটুখানি ভেবে বিনয় বলে, পরের কাঠ-..

যা শঙ্কা করা গিয়েছিল-_বাঁশি হাসিতে ফেটে চৌচির। দৈববুড়ি কী বোঝেন-_তবু অন্য মানুষ ন! পেয়ে বাশি তাকেই সালিশ ধরে £ শুনলে তো ঠাকুমা! 1 “পরাকাষ্ঠা” মানে পরের কাঠ-__হি-হি-হি__ বিনয় গরম হয়ে বলে, তুই পারিস?

অন্ত ব্যাপারে যাই হোক, এটা পারবে বাশি নির্ভুল বলতে পারবে কথাটা তারই বইয়ের সদাশিব সকালবেল। বাঁশিকে পড়িয়ে আযেন। আজকেই পাওয়। গেছে কথাটা মাথার মধ্যে ঘুরছিল, বিনয়কে জিজ্ঞাসা করতে গিয়ে সেইটেই তার মুখে এসে গেল।

জবাব দিয়ে বাশি সঙ্গে সঙ্গে ভানহাত বাড়িয়ে দিয়েছে £ কান মলে দিই মাস্টারমশায়? উঠ যা লম্বা বিনয়দ?, কান হাতেই পাওয়া যায় না।

সদাশিব চটে উঠলেন £ কান মলতে তোকে কে বলল?

আহত কে বাঁশি বলে, বাঃ রে, পেরেছি তো! আমি

তা বলে যে তোর বড়ভাইয়ের মতন-_এক বাঁড়িতে থাকিস, বড়ভাই ছাড়! কি ?--হুট করে তার কান মলতে যাস, বজ্জাত কোথাকার !

স্বযৌগ পেলেই বাঁশি বিনয়ের পিছনে লাগবে বিনয় বেকুব হলে তার আনন্দ। পসীতারট! বাঁশি খুব ভাল পারে। জল কেটে সা-সা করে বেরিয়ে যায় উড়ন-তুবড়ির মতো। তারা কাটতে কাটতে যেন। ঘাঁটে পড়ে বিনয় হয়তো তখন পা দাপাচ্ছে। তাই নিয়ে কী হাসাহাসি মেয়েটার-জলের মধ্যে থেকেও বিনয়ের গ! জ্বালা করে

একদিন তাই মরিয়া হয়ে খানিকটা দৃর্ধ চলে গেল- গিয়ে আর সামলাতে পারে না। ডুবছে, ভেসে উঠছে। জলের উপরে হাত

করে কি বলছে যেন বাঁশির উদ্দেশে বাঁশি জল থেকে ঘাটের উপর উঠে পড়েছে তখন, ভিজে কাপড়ে দাড়িয়ে বুকের উপর ছ-হাত আড়াআড়ি রেখে নিঃশবে হাসছে। আর জল তোলপাড় করছে বিনয়। সত্যি সত্যি যখন তলিয়ে গেল, লাফ দিয়ে বাশি জলে পড়ে চক্ষের পলকে তাকে ধরে ফেলে। বিনয়ের মা! জ্ঞানদ। সেইমাত্র ঘাটে এসেছেন শরীর ভাল নয়, তবে শধ্যাশায়ী হয়ে পড়েন নি তখনো এটুকু এক মেয়ে--চোখ মেলে দেখবার বস্তই বটে-_মেয়েটা কেমন অবহেলায় একখণ্ড শোলার মতন বিনয়কে ভাসিয়ে নিয়ে ঘাটের দিকে আসছে। এত সমস্ত পলকের মধ্যে ঘটল। ঘাটে এলে সোয়াস্তি পেয়ে জ্ঞানদ! ছেলেকে বকে উঠলেন £ সাতার জানিস নে, কোন্‌ আকেলে অতদূর চলে যাস? বাঁশি তখন আবার বিনয়ের হয়ে ঝগড়া করে £ তোমার অন্যায় কথা কাকিমা ঘাটের রান। ধরে পা দাপিয়ে জলই ঘোলা হয় শুধু। সাতার শিখতে গেলে দূরে যেতে হয়। জ্ঞানদা গম্ভীর কণ্ঠে বলেন, বিনয়ের প্রাণদান দিয়েছিস ম1। তুই না থাকলে এক্ষুনি সর্বনাশ হয়ে যেত। বিনয় সামলে নিয়েছে এতক্ষণে বলে, মরেই কখন্ঘননীম মা, বাঁশিট। ধ্লাড়িয়ে দাড়িয়ে মজা! দেখছিল। তুমি আসছ দেখতে পেয়েই হয় তো-_ বাঁশি বলে, না কাকিমা, মরবার কি হল? দেখছিলাম, নিজে যদি আসতে পারে সাঁতরে তা একটা পাতিহাস য1। পারে, বিনয়-দা'র সে মুরোদটুকু নেই। টি নগাাদি সদর ঢোকে জল খেয়ে ফেললাম কতটা-_ প্রবীণ আঙভীবন্দে মতো। বাঁশি সাম্বন! দিচ্ছে; কী হয়েছে! পুকুরের জল- লোন। নয়, বিষাক্ত নয়। ডুবৰে এক-একবার,

জল খাবে, আবার ভেসে উঠবে এমনি করেই তো শেখে মানুষে। বলার ভঙ্গিতে জ্ঞানদার হাদি পেয়ে যায়। আগ্ভিকালের বুড়ি- ঠীকরুন। কত ছোট তখন, কাধের উপর থোপা থোপা চুল নাচিয়ে বেড়ায়__সেই তখন থেকেই পাকা পাকা কথা মেয়ের মুখে। ঝলকানো রূপ, বুদ্ধিও ক্ষুরধার | জ্ঞানদার শরীর দিনকে দিন খারাপ হয়ে পড়ছে__বেশি দিন বাঁচবেন না, অহরহ তার মনে হয়। মরার আগে এমনি একট ছোট্র মেয়ে ঘরে আনতে পারতেন-_হেসে খেলে ঝগড়াঝ'টি করে ঘুরত চোখের উপরে ! বাঁশির কথা হচ্ছে না অবশ্ঠ। রাজবাড়ির মেয়ে, হরিবিলাস ঘোষ নিতাস্তই পেনস্ প্রতিপাল্য ধাদের। মনে মনে এমন কথা ভাবতে যাওয়াও পাগলামি ইন্কুল-ফাইনাল পরীক্ষায় বিনয় ফেল হল। বার বার ছু-বার ফেল হয়ে পুনশ্চ দেবে মরিয়া হয়ে লেগেছে--পাশ করবেই এই তৃতীয় বারে। একপ্রহর রাত থাকতে উঠে মুখস্থ করে, পড়ার চোটে পাড়ামুদ্ধ ঘুম ভেঙে যায়। সেই কথা হচ্ছিল। মেজরাজ! বলেন, যেমনধারা খাটছে, নির্ঘাত এবারে পাশ ফাস্ট ডিভিসনে যাবে। সদাশিব ঘাড় নাড়েন £ কচু! মাথার মধ্যে ওর ঘিলু নেই, গোবর তিন বারে কেন, তিরিশ বার দিয়েও যদি পাশ করে হাতের তেলোয় রোয়! উঠবে আমার কথাটা বললাম, এখন শুনে রাখ, পরিণামে মিলিয়ে দেখে নিও। বাঁশি এই সময়টা এসে পড়ল। খাজাপ্রির কোয়ার্টারের দিক থেকে আসছে। জ্ঞানদার কাছে প্রায়ই যায়। বড় আদরযত্ব করেন তিনি, এটা-ওটা খাওয়ান কাছে বসিয়ে বাশিকে দেখে সদাশিব বলেন, সত্যি সত্যি যার হবার ছিল তাকে তো সংসারের রাধাবাড়া কুটনো-কোটায় লাগিয়ে দিচ্ছ তোমর!।

বির! বলেন, ছ-মাস ন1 পুরতে মা খেয়ে অবসর হল, সংসারের কতক কতক না দেখলে বুড়োমানুষ একলা আমি কত টানব? তারপর হেসে উঠে বলেন, তা দেখছ না, কত খাটনি খেটে বাড়ির গিন্নি বেলাম্ত পরে এবারে বাড়ি ফিরলেন

মেজরাজ| ফোঁস করে দীর্ঘশ্বাস ছাড়েন £ ছেলেটাই ইস্তফা দিয়ে বসে রইল, মেয়ে বিদ্ভাদিগ গজ হয়ে কি হবে?

কোলেপিঠে করে আশিসকে এত বড়টি করে তুলেছেন, তার নিন্দার কথায় বিরজা রক্ষা রাখেন না। ভাইয়ের উপর করকর করে ওঠেন রাজবাড়ির কোন্‌ ছেলে কবে এল. এ, বি. এ, পাশ করে বিদ্বান হয়েছে শুনি? একট পাশ দিয়েছে সেই ঢের। তোমার তো তা-ও হয়নি। তবে কি জন্য ছেলের কথা বলতে আস? বড়রাজার ছেলে যে কাণ্ড করে বেড়াচ্ছিল--ছেলের ঘেন্নাতেই ওর] তালুক বেচে দেশাস্তরী হল। আর দিলীপের বউটা তে গলায় দড়ি দিয়ে বাচল-_দারোগাকে ছু-শো। টাক। খাইয়ে কেলেঙ্কারি চাপ! দিয়ে দিল। আমার আশিসকে নিয়ে বলুক দেখি কেউ অমন একটা কথা !

সদাশিবও জোর গলায় বিরজার সঙ্গে সায় দেন ; সত্যিকার ভাল ছেলে আশিস। লেখাপড়া না করুক, দশের কাজ করছে তিলেক বিশ্রাম নেয় না। গ্রামস্ুদ্ধ সকলের বলভরস। ওইটুকু ছোকরা” মানুষের উপর কি ভেবে হাসেন মৃছু মৃছ। হাসতে হাসতে আবার বলেন, বলেছ ঠিক কথাই বিরজাদিদি। একট] পাশ করেছে, বাড়ির পক্ষে সেই তে! অনেক। রাজপুত্র হয়ে অফিসের কেরানি হবে না» ইস্কুলের মাস্টারও হবে না। হয় যদি তে] মিনিস্টার তদতে বেশি লেখাপড়া লাগে না। ওই একটা পাঁশই হয়তো! বা বেশি হয়ে গেছে লাগে তার ভম্য দশের কাজে কোমর বেঁধে লেগে পড়া--যে দশের ভোট কুড়িয়ে এসেম্বলি যাবে।

১১

মেজরাজ। বলেন, মিনিস্টার নয়, পরিণামট1 হবে তোমারই মতন সে আমি দিব্যচক্ষে দেখতে পাচ্ছি শিব-দাদা। তোমার ওই বয়সের কথ। ভেবে দেখ তুমি কি হয়ে জীবন কাটালে? কিন্তু সে কথা থাক। মেয়ের পড়া নিয়ে তুমি আর তাল লাগিও না। সেয়ান। হয়ে উঠেছে, দিনকাল ভাল নয়। গায়ের এবাড়ি ওবাড়ি ধিতিং- ধিতিং করে বেড়ায়, এ-ও আমি পছন্দ করিনে। বিয়েখাওয়া দিয়ে পরঘরি করতে পারলে বাঁচি।

সদাশিব নিরস্ত হবার পাত্র নন £ ষন্ধিন বিয়েখাওয়। না হচ্ছে ঘরে বসে পড়াশুনো করুক। ওই একটা পাশই করুক না, বেশি কে বলছে। আমি পড়াব। ঘাড়ে দায়িত্ব পড়লে মেয়ের পাড়ায় ঘোর! বন্ধ হয়ে যাবে বিয়েরও সুবিধা--সবাই আজকাল পাশ-করা মেয়ে খোজে বাশি যা মেয়ে, একটু খাটলে ওর পাশ কেউ রুখতে পারবে না।

সদাশিবের জেদাজেদির কারণ আছে। গ্রামের হাই-ইন্কুল তিনিই একদিন গড়ে তোলেন। সদাশিব এবং তার সমবয়সী ছেলে- ছোকরার1। মুরুববীরা মাথার উপর ছিলেন, কিছু কিছু টাকাপয়সা দিয়ে তারা খালাস। লোকের ঝাড়ের বাশ ক্ষেতের উলুখড় চেয়েচিন্তে এনে নিজেরা গায়ে-গতরে খেটে মাঠের মধ্যে বড় দোচাল ইস্কুঙ্গঘর তুলে দিলেন। গোড়ায় মাইনর-ইস্কুল-_হচ্ছে হতে তারপর হাই-ইস্কুল মাস্টার না জোটায় সপদাশিবকেও একজন মাস্টার হতে হল। সেই প্রথম অবস্থায় মাইনেকড়ি কিছু নয়, ঘরের খেয়ে ঠিক দশটায় ইস্কুলে হাজির! দিতে হত। একটাও পাশ করেন নি, সেইহেতু হেডমাস্টার এসিস্টাপ্ট-হেডমাস্টার ন! হয়ে সেকেগু-মাস্টার। কিন্তু অঞ্চলের মানুষ জানে, হেডমাস্টারের কাজ শুধুমাত্র ক্লাসে পড়ানো" ইস্কুল বলতে সেকেগু-মাস্টার সদাশিব বাড়ুয্যে।

১২

সেই মাস্টারি চাকরি চলছে আজও ইস্কুল বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিস্তর আইনকানুন, নতুন গভনিং-বডি। মেম্বার বাছাইয়ের জন্ ভোটাভুটি দস্তরমতো। সদাশিব এখন সেকেগু-মাস্টারও নন, জনৈক এসিস্টাপ্ট-টিচার। বিনা পাশের মানুষ বলে নব্য হেডমাস্টার তাকে ক্লাস ফোরের উপরে পাঠাতে ভরসা পান না। একেবারে ন। তাড়িয়ে নিচের মাস্টার করে রেখেছেন এ-ও কত দিন চলবে, সন্দেহ আছে। সদাশিব তাই সবশেষ একবার দেখিয়ে দিতে চান, পড়ানোর ক্ষমতা আছে কিনা তার। বাঁশি মেয়েটাকে পেলে পাশ করানোর সম্বন্ধে কিছুমাত্র সংশয় থাকে না।

সদাশিবের কথায় বাঁশিও মেতে উঠল। সকাল-সন্ধ্যা দু'বার এসে সদাশিব পড়ান বিনয়ের ধারণা, লেখাপড়ায় বাশির অমন উৎসাহ-_সে কেবল বিনয় জব্দ হবে বলেই। বাঁশি পাশ করলে লোকে তুলন]। করে দেখাবে £ ছ্যা-ছ্যা, বেটাছেলে পেরে উঠল না একটা মেয়ের সঙ্গে !

সত্যি তাই হল, সদাশিবের কথা বর্ণে বর্ণে ফলে গেল। বিনয় এবারও ফেল। এবং তারই বছর খানেক পরে বাঁশি পরীক্ষায় প্রথমবার বসেই ড্যাং-ড্যাং করে বেরিয়ে গেল।

বিনয় সেই থেকে লোকের সামনে বোরোয় না বাড়িতে সর্বক্ষণ মুখ গুঁজে থাকে তবু রক্ষে নেই, যখন তখন বাঁশি গিয়ে পড়ে £ পরীক্ষা আরও ছু-একবার দিলে পারতে বিনয়দা।

নিরুত্বরে ঘাড় গুজে আছে তো বাঁশি বিরক্তির সুরে বলে, ন! পড়বে তে! কাকামশায়ের সঙ্গে কাছারি-দালানে গিয়ে বোষে। কাল থেকে কান-ফৌড়া খাতা লিখতে লেগে যাও। লিখতে লিখতে হাতের অক্ষর ভাল হবে, পরিণামে খাজাঞ্জি হবে আমাদের

হলই ন1 হয় মনিবের মেয়ে, তা বলে ঘরের মধ্যে উঠে এমনি ট্যাঙস- ট্যাঙষ শোনাবে! গ্রামছাড়া হয়ে তবে রেহাই। বিনয়ের

১৩

ছোটমাম। কলকাতার মেসে থেকে চাকরি করেন, তার কাছে গিয়ে উঠল। সেখান থেকে একজনের ধরায় ছাপাখানার কাজ পেল একটা আজ সেখানে হর্তাকর্তা-বিধাতা। যে ভদ্রলোকের ছাপাখানা, তার নাম রঞ্জিত রায়। কলকাতার মানুষ রায় মশায়কে একডাকে চেনে কাজের মানুষের বড় মর্যাদ। রঞ্ধিতের কাছে, বিনয়কে নাকি চোখে হারান তিনি

'হুরিবিলাস জাঁক করে বলেন, পাশটা করে নি ভাগ্যিস। পাশ করে কি হত? আমার ছোট শাল! গ্রাজুয়েট হয়ে ঘাট টাকায় সারাদিন অফিসে কলম ঘষে। তোমাদের দশজনের আশীর্বাদে বিনয় অমন বিশটা ষাট টাকার মানুষ পুষছে

তিন

স্বাধীনতা নিয়ে ভামাডোল। পুলকে হৃৎকম্প সকলের চারিদিকে পালানোর হিড়িক। ছাড়া কথ! নেই মানুষের মুখে কি হবে, উঠব গিয়ে কোথা ?

হরিবিলাসের এসব ভাবনার অবসর নেই। জ্ঞানদার বাড়াবাড়ি অনুখ- সর্বক্ষণ সেই চিস্তা। অসহা যন্ত্রণা কাটা-কবুতরের মতন জ্ঞানদা ছটফট করেন বিছানায়, সে কষ্ট চোখে দেখ! যায় না। বিনয় আসতে পারবে না, কাজের চাপ বড় বিষম। এসেই বাকি করবে, এক-আধ দিনে সারার ব্যাধি নয়। তবে চিঠি আসে প্রায় প্রতিদিনই মায়ের জন্য বিনয়ের প্রাণ পড়ে আছে এই সোনাটিকারিতে

পঁচিশ মাইল দূরে জেলার সদর, সেখানে নাম-করা বড়-ডাক্তার একজন আছেন। তাকে এনে দেখানো হল। অঢেল খরচ। কাচা-রাস্তায় ট্যাক্সি করে আনতে হল, টাকা চল্লিশের মতো গেল সেই বাবদে। ডাক্তারবাবুর ফী বত্রিশ, বলে-কয়ে পঁচিশে

১৪

রাজি করানো গেল। তার উপরে ওষুধপধ্যি আজেবাজে আর দশটা খরচা। প্রাণের বড় কিছু নেই-_-কথা সত্যি হলেও এত খরচা রাজাবাদশার পক্ষেই সম্ভব শুধু। তাই করছেন খাাঞ্জি হরিবিলাস, খোদ মালিক মেজরাজা যা এই বাজারে পেরে ওঠেন না।

সদাশিব বলেন, কেন করবে না বল। খু'ঁটোর জোরে মেড়া লড়ে। বিনয় হরবখত চিঠি দিচ্ছে, মায়ের চিকিৎসার কোন রকম ক্রটি না হয়-_

আবার বলেন, সাত চড়ে সুখে একট] কথা ফুটত নাঃ সেই বিনয় একদিন এমন হয়ে উঠবে কে ভাবতে পেরেছে !

অশ্বিনী নিশ্বীন ফেলে বলেন, কপাল! কপাল ছাড়া কী আর বলি। আশিসের কথা £ভামরাই সব বলে থাক-_কত বুদ্ধিমান আর কী রকম চৌপিঠে। বিনয়ের যদি একগুণ হয়, আশিসের বিশগুণ হবার কথা। কিস্তু পরহিতের ভূত চেপে আছে ঘাড়ে। গ্রামের লোকে কোথায় গিয়ে উঠবে কি করবে, সর্বক্ষণের সেই ভাবনা। আমার নিজের কথা বলি নে-_গল! কেটে ছুই খণ্ড হলেও পিতৃপুরুষের ভিটে ছেড়ে এক পা আমি নড়ব না। কিন্তু সোমত্ত বোন আর পিসি রয়েছে, তাদের ভাবনা ভাবা উচিত উপযুক্ত ছেলের

সদাশিব তাড়াতাড়ি বলেন, আশিসের নিন্দে কর ন। মেজরাজ।। এখনে। বলছি হীরের টুকরো ছেলে যার যে কাজ, যে পথে যার আনন্দ। এই নিয়ে তুলনা! করার কিছু নেই। টাকাই জীবনের পরমার্থ নয়; আবার টাকা কিছু নয় এমন কথাও বলিনে। যে দিক দিয়ে যে জীবনের সার্থকত। খোজে

ভাল ভাল কথা নিঃসন্দেহ। কিন্তু অশ্বিনীর আপাতত কানে ঢোকে না। মনে মনে তুলনা করছেন হরিবিলাসের সঙ্গে পোষ্ব হোক প্রতিপাল্য হোক, কর্মচারীর অবস্থা অনেক ভাল মনিবের চেয়ে।

১৫

সোনাটিকারির বাস যদি তুলতেই হয়, মাথা পিছু টাকা চারেকের মতো সংগ্রহ হলেই হরিবিলাসের হয়ে গেল | গ্রিমার ট্রেন ভাড়া এবং মাথার সংখ্যাও ছটি মাত্র স্বামী আর স্ত্রী। ছেলে কলকাতায় জমিয়ে বসেছে-_-উৎকৃষ্ট বাসা) ভাড়ারে চাল-ডাল মজুত, ব্যাঙ্কে টাকা উঠে পড়লেই হল। কিছু করতে হবে না, পায়ের উপরপা দিয়ে বসে ছেলের রোজগারের ভাত খাওয়া গাঁয়ের উপর ভালবাসা ইত্যাদি যত যা-ই বলুন, জ্ঞানদ! শষ্যাশায়ী বলেই আজও সেটা! পেরে ওঠেন নি। সদরের ডাক্তার এনে এত খরচ- খরচার কারণও তাই। স্ত্রকে কোন রকমে একটু খাড়; করে তুলতে পারলে বেরিয়ে পড়েন

আর মেজরাজ! অশ্বিনীর হল অকুল-পাথার। ভাবতে গিয়ে থই পান না। সবচেয়ে দায় হয়েছে সেয়ানা মেঠ্রে বাশি। শুধু সেয়ানা বললেই হল না, সুন্দরী মেয়ে। সদাশিব যার নাম দিয়েছেন কাঞ্চনবরণী। রাজবাড়ির কিছুই আর নেই, কিন্তু প্রাচীন বৈভবের ছাপ পড়ে আছে স্থুপ্রাচীন অট্টালিকায় আর মানুষগুলোর চেহারার উপর। ধবধবে ফা রং, নিখুঁত মুখ-চোখ-নাক প্রায় সকলেরই। কিন্তু বাঁশি দিন-কে-দিন কী হয়ে উঠছে! পরিবারের সমস্ত মেয়েপুরুষকে ছাড়িয়ে গেল। যে বিধাতা- পুরুষ মানুষের ভাগ্য নিয়ন্ত্রণ করেন, রাজবাড়ির এশ্বর্য হরণ করে নিয়ে সুদে-আসলে যেন পুরণ দিয়ে যাচ্ছেন একটি মেয়ের চেহারায়। আগুন নিয়ে পথে বেরনো বিপদ। অট্রালিকার নিভৃতে গোপন করে রাখবেন-_দেশ ভাগাভাগির হাঙ্গামায় তারও আর উপায় রইল ন1।

জ্ঞানদ। খাড়া হয়ে উঠে কলকাতা : ছেলের বাসায় যাবেন, সে বুঝি এজীবনে আর হুল ন1। সদরের বড়-ডাক্তার রোগ পরীক্ষ। করে রায় দিয়ে গেলেন ; হরিবিলাসকে নিভৃতে নিয়ে কানে কানে রোগের

১৬

নাম বললেন, ক্যার্সার শিবের অসাধ্য যে ব্যাধি। রোগও খুব এগিয়ে গেছে। সুস্থ হবার আশা নেই, তবে জীবনের মেয়াদ সামান্য হয়তো। বাড়ানে। যায়। এবং ওধুধপত্বর দিয়ে রোগের যন্ত্রণার কিছু উপশম কর! যেতে পারে গাড়িতে উঠে বসে ডাক্তার আবার বলেন, অসীম সহাশক্তি আপনার স্ত্রী। আমি যতক্ষণ ছিলাম, একবার উ:-আঃ পর্যস্ত করলেন না। দাতে দাত চেপে রইলেন। কিন্তু পেটের ভিতর কী রকমটা হচ্ছে আমি জানি। নিজের জন্যে তাই বলি, অন্য যে ব্যাধি হয় হোক, ক্যান্সার হয়ে যেন মারা না যাই। ওর কষ্টের তুলনা নেই। শুনতে শুনতে হরিবিলাস কেঁদে পড়লেন ছু-চোখে জলের ধারা গড়াচ্ছে। বলেন, জীবনটাঁও ঠিক এমনি মুখ বুজে সহা করে গেল ডাক্তারবাবু। কোন দিন কারও কাছে একট! ছঃখের কথা বলল না। আমার কাছেও না। তিন তিনটে পেটের সম্তান গেছে। ংসারিক অভাবও লেগে আছে বারোমাস তিরিশ দিন ভাল কাজকর্ম করে ছেলেট। আ্যান্দিনে ছুটো৷ পয়সার মুখ দেখছে। বাস! করেছে মাকে নিয়ে ভাল রকম চিকিচ্ছে করাবে বলে। কিছুই যে হল না৷ ডাক্তারবাবু। ওর মনেও কত আশা ছেলের বিয়ে দিয়ে কলকাতার বাসায় গিয়ে সংসারধর্ম করবে-_ খপ করে হরিবিলাস ডাক্তারের হাত ছুটে! জড়িয়ে ধরলেন £ তাই করুন, কষ্টটা যাতে কম পায়। অস্তত যদি ছুটো৷ মাসও আর ধরে রাখতে পারেন, ছেলের বিয়ে দিয়ে বউয়ের মুখ দেখিয়ে দেব। ওর বড সাধ। ছেলে রোজগেরে হয়েছে, খরচপত্রের ক্রটি হবে না ডাক্তারবাবু। সদরের ডাক্তার আরও কয়েকবার এসে গেলেন। অজ পাড়াগ! জায়গায় রাজন্য় চিকিৎসা এমন সমারোহ অন্ধ কারো! বাড়ি দেখ। যায় নি। কৃতী ছেলের ভাগ্যধরী মাঁ-হবে না কেন ? চিকিৎসার গুণে কষ্টভোগ কিছু কমই বটে, কিন্তু মেয়াদ বুঝি আর

১৭ বাজকভার---২

বাড়ানো যায় না। রোগিনীর এখন-তখন অবস্থা কাজকর্ম ফেলে বিনয় কলকাত। থেকে হাহাকার করে এসে পড়ল। মায়ের বিছানার পাশে বসেছে, টপটপ করে চোখের জল পড়ছে। বাপ ছেলে দু-জনেরই নরম মন, চোখের জল কেউ সামলাতে পারে না। ছিঃ বিনয়-দা_

কখন এসে পড়েছে বাঁশি, পিছন দিক থেকে হাত বাড়িয়ে বিনয়ের চোখ মুছে দিল। জ্ঞানদ। চোখ বুজে ছিলেন। গলার স্বরে চোখ মেলে দেখেন, ত্বর্ণ টাপার রঙের হাতখান৷ ঝিলিক মেরে অদৃশ্য হল। হাতের মালিকটিকেও আর দেখতে পাওয়া যায় ন!।

এই সময়ে একদিনের ব্যাপার বিরজা দেখতে এসেছেন মিনমিন করে অতি অস্পষ্টভাবে জ্ঞানদা কথা বলেন। মোটের উপর কিছু ভাল আছেন আজকের দিনটা ম্লান হেসে জ্ঞানদা বললেন, চলে বাচ্ছি দিদি। একবার পায়ের ধূলো। দাও।

বালাই যাট।_ বলতে হয়, তাই মুখের স্তোক দিচ্ছেন বিরজা : হয়েছে কী তোমার বউ! এমন কত জনের হয়ে থাকে এর চেয়ে বেশি হয়। আবার সেরেস্থরে উঠবে।

জ্ঞানদা বলেন, তোমরা ভালবাস দিদি, তোমাদের আশীবাদ্। কিন্তু যমদূত শিয়রের কাছে ওৎ পেতে রয়েছে, সর্বক্ষণ আমি চের পাই। দেখ, একটা কথা মনের মধ্যে অনেক দিন ধরে আনাগোন। করে। সেদিন দেখলাম বাঁশি মা আমার বিনয়ের চোখ মুছিয়ে দিচ্ছে। কথাটা সেই সময় আবার নতুন করে মনে উঠল

বিরজ। তাড়াতাড়ি চাপ! দিয়ে দেন £ ভাল হয়ে ওঠ বউ তারপরে অন্ত কথা।

ভাল আমি আর হব না

'হৰে বই কি, নিশ্চয় হবে।

বির! একল। অতঃপর জ্ঞানদার কাছে বসতে সাহস পান না।

৯৮

কি বলে বসেন, এমন অবস্থায় স্পষ্টাম্পর্টি “না” বলা কঠিন। বিনয়কে দেখছি নে। সে কোথায় গেল? বন্থুক এসে মায়ের কাছে--ডাকতে ডাকতে ব্যস্তভাবে বিরজ। সরে গেলেন কথাবার্তাগুলে! কি ভাবে বিনয় টের পেয়েছে ক্ষণপরে সে এসে বলে, অসুখ হয়ে তোমার ম! মাথা খারাপ হয়েছে

জ্ঞানদা বলেন, কেন, কম কিসে আমরা? বংশের দিক দিয়ে আমরাই বরঞ্চ উচু। জীক করবার মতো! ছেলে তুই আমার বিনয়।

তোমার ছেলে নিয়ে মনে মনে তুমি যত খুশি গরব নিয়ে থাক-_ কিন্ত আমরা আশ্রিত, ওরা মনিব আমাদের, এটা কোন দিন ভুলে যেও না।

জ্বানদা মুখ বাকিয়ে বললেন, ফুটে রাজত্বের দেমাক বেশি দিন নয় আর। বিদেশে থাকিস, তাই খবর জানিম নে। মেয়ের বিয়ের ভাল ভাল সম্বন্ধ কেঁচে যাচ্ছে শুধু টাকার জন্যে

ক্লান্তিতে একটু চুপ করে থেকে বলেন, রোগা মানুষ কথাট। বললাম, তা বিরজা-দিদি মুখ ঘুরিয়ে উঠে পড়লেন। বেঁচে থাকব না যে! নয়তো ভাইঝিকে কেমন ঘরে-বরে দেন দেখতে পারতাম আমার ছেলের তুলনায় কী রকম সে পাত্র !

রোগিনীর ক্ষীণ চাপা দিয়ে সহস! বিনয় কলরব করে ওঠে £ দেখ মা, বাশি তোমার জন্য তালশাম নিয়ে এসেছে দেখ। সেই যে তন কথ! হুচ্ছিল-_

জ্ঞানদা বেকুব হলেন। কথাবার্ত শুনে ফেলল নাকি বাঁশি! রেখেটেকে তো কিছু বলেন নি--শুনেছে ঠিক। পেটের মধ্যে বিষম জ্বালা, সেন্জন্ত তালশীসের জল খাওয়ার কথ! উঠেছিল--আর দেখ, মেয়েট। তাই শুনে লোকজন যোগাড় করে কাচা ভাল পাড়িয়ে নিয়ে এসেছে। ভাল মেয়ে, বড় ভাল মন, টান আছে খুব জ্ঞানদার উপর। মেয়েটার অত দেমাক নেই।

; ১৯

টে কি রর পিস রে . এতারসেট০৯ পিউ হত গু ধার, ডগ হি ৮০ পর টা... 7 (রা রর সি টা ০:৯০ বিন ক... ক্রন্দন ৯৬ চু টি ০৯০৯৯ আত এ. নু পি, ইস চি, ২৯২০ ১:৭৯,

৪৮০ ১০৯ ৪, ১১৯ 2৬ ৩০ পর গা ৪০ বু :২০ 6৯৮৬ ১৯ সত:

চটি হা ৭৬. ০৪ জহর ওই গে সা ৮০৮ ঘট হি. উই

ছষ্৪ *. রশ তে রঙ গর সদ

১০

টি ডো তে &.

৮৮ ছি ২০44৮, এরা? হাটি উট -. ১৯ প্র রঃ

১১2৮ ১০৯৩ সু শা ?7৮০রত তিক টি

৬৪৮৬ ্ি কত চু ১৯ ৪. ব্য টা 5৫ ডি ০৪ চি কি ৮১০ ডট 65, $% 8৯০ মং কেপ ঝা নু ...

চে. টিক,

২২৫

4২৭ ওই) 2 ন্‌ টি

২৪৩৫

কথাবার্ভার কিছু তার কানে গিয়েছে, মনে হল ন1। সন্ধ্যা গড়িয়ে

বাশি অনেকক্ষণ রইল জ্ঞানদার গায়ে হাত বুলায়। পাখ৷ করে। গেছে। জ্ঞানদাই বললেন, যাও মা এবারে।

ফোঁস করে জ্ঞানদা একটা দীর্ঘশ্বাস

হঠাৎ থমকে দাড়ায় ব।শি সেই বাশবনের শিচে ঘনাঙ্ককারের যধ্যে উঠে দাড়িয়ে বাশি ডাকে £ শোন বিনয়-দা। বাঁশঝাড়ের নিচে ভয় করে আমার। জায়গাটা পার করে দিয়ে যাও।

হঠাৎ থমকে দীড়ায় বাশি সেই বাশবনের নিচে ঘনান্ধকারের মধ্যে। তীক্ষ কঠে বলে, আমরা! দোতলার উপর থাকি আকাশ- ছৌঁওয়া কোঠাবাড়িতে। তোমরা! একতলার খুপরি-ঘরে। হাত বাড়াতে যেও ন1 কখনো উপর দিকে পয়সা হয়ে তোমার হাত যত লম্বাই হয়ে উঠুক, অভদূর নাগাল পাবে ন1।

বলে ছুমহরম করে পা ফেলে সদর-উঠানে পড়ে, উঠান পার হয়ে লহমার মধ্যে ভিতর-বাড়ি ঢুকে গেল।

॥চার

জ্ঞানদা মারা! গেলেন মায়ের শ্রাদ্ধশাস্তি চুকিয়ে ম্যাড়া মাথায় বিনয় কলকাতা ফিরল কত লোক ঠিকানা চেয়ে নেয় £ গীয়ে থাকা যাবে না। আমরাও গিয়ে পড়ব বিনয়। কোন একটা ব্যবস্থা করে দিতে হবে। তুমি কলকাতা শহরে আছ, কত বলভরসা! গিয়ে উঠব তোমার বাসায় যতক্ষণ কিছু না হচ্ছে, নড়ব না। তাড়িয়ে তে! দিতে পারবে না।

এত মানুষের ভবিষ্যতের ব্যবস্থা করবার শক্তি রাখে, বিনয় স্বপ্নেও কখনে! ভাবতে পারে নি। শুনে শুনে আত্মপ্রসাদ জাগবার কথা, কিন্তু অন্বস্তিতে মন ব্যাকুল হয়ে ওঠে এই গ্রাম, গ্রামের ঘরবাড়ি, লোকজন, সমাজ-সামাজিকতা কিছুই আর থাকবে না। টলছে। ভেঙে পড়ে চুরমার হবে, দেরি নেই আর তার। সকলে কলকাতা- মুখো তাকিয়ে। কলকাতা অবধি অতদূর না-ও যদি হল, অন্তত- পক্ষে সীমান্ত পার না হয়ে সোয়াস্তি নেই। পার হয়ে গিয়ে হয়তো বা মাঠ-জঙ্গল খাল-বিল--এ'রা ভাবছেন, অনেক ভাল এখানকার এই বীধ। ঘরবাড়ির চেয়ে।

আশিসের কাজ খুব। অহোরাত্রি ঘুরছে সে চরকির মতো ২১

সোনাটিকারিতে লোক এসে পড়ছে বাইরের গা-গ্রাম থেকে। মানুষ আগে যা ছিল, এখন তার চার-পাঁচ গুণ। ঝাপিয়ে এসে পড়ছে-_বান ডাকলে কিম্বা বাঘে তাড়া করলে যেমন হয়। মানুষ- জন চলে গিয়ে সারা অঞ্চল ফাকা', শুধু এই রাজা মশায়দের গাঁয়েই বা-হোক কিছু আছে। সকলে একসঙ্গে থাকলে বল অনেক। শরিকরা চলে গিয়ে রাজবাড়ির বিস্তর ঘর খালি পড়ে ছিল। আশ্রিতেরা এসে জুটেছে, মানুষ কিলবিল করছে এখন সেখানে সত্যি, কেমন হয়ে গেল দেখতে দেখতে চিরকালের পড়শিদের দৃষ্টি আলাদা হয়তো বা চোখের দোষ এ-পক্ষেরই। কামলা রোগ হলে মানুষ যেমন ছুনিয়াময় হলদে রং দেখে খবরের কাগজে দাঙ্গার খবর--এপারে লেগেছে, ওপারেও। তবে এই সোনাটিকারি অঞ্চলে কিছু নয়। তবু এমনি হয়েছে__চারটে মানুষ দুরে দাড়িয়ে কথা বলছে, অস্তরাত্বা অনি গুরগুর করে ওঠে £ এই » লেগে যায় বুঝি ! দাঙ্গ। বাধানোর শলাপরামর্শ হচ্ছে।

টেকা যাবে না, নিঃসন্দেহ যেতেই হবে--আজ হোক আর কাল হোক। যেতে যখন হবেই তখন আর কাল কেন, আজকেই বেড়া-আগ্ুনে কাল হয়তো! বেরবার পথ বন্ধ হয়ে যাবে।

মেজরাজা! ছেলের নিন্দে করতেন, চোখ মেলে এবারে দেখুন কাজকর্ম খাটতে পারে বটে আশিস। কয়েকটা দিন বিষম ঘোরাঘুরি, আহার-নিন্রা এক রকম বন্ধ এর বাড়ি যায়, ওর বাড়ি যায়। ঘরে ঘরে গিয়ে গাটরি বেঁধে দিচ্ছে তারপর এক রাত্রে রওন। হয়ে পড়ল, সঙ্গে নানান বয়দি একগাদ। শ্রী-পুরুষ। আশিস দলের কর্তা। খুলনা-ঘাটে সকলকে নামিয়ে তাড়াতাড়ি হোটেলে খাইয়ে ট্রেনে তুলে নিল। ট্রেনে শিয়ালদহ স্টেশন। সেখানে পৌছানোর পর ছুটি শহরে হরেক দল গড়েছে--তারাই এবার ভার নিয়ে নিল। যা-কিছু করবার তার করবে, না করলে নাচার। ছুটো। কথা ঠাণ্ড। হয়ে শোনারও সময় নেই আশিসের পরের

৮৬

গাঁড়িতেই ফেরে সোনাটিকারিতে ইতিমধ্যে নতুন এক দল তৈরি হয়ে আছে, তাদের আবার পৌঁছে দিতে হবে। গ্রাম আর শিয়ালদহ--টানাপোড়েন অবিরত চলছে।

ট্রেন সীমান্তের কাছাকাছি এসে যাচ্ছে, হিন্দুস্থান অনতিপরেই। মানুষে ঠাসা কামরাগুলে!। ছাতের উপরেও উঠেছে কতক, বিচিত্র কৌশলে চাকার পাশে রডের উপরেও গিয়ে বসেছে। ওর মধ্যে চোদ্দআন। মানুষের মুখে টু-শবটি নেই__যেন মড়া। হিন্দুস্থানে গিয়ে উঠবে তারা বাকি ছু-আনা। কাজেকর্মে চলেছে, আবার ফিরবে, খুব হল্লা-স্কৃতি তাদের গাড়ি না থামতে চাঁচা করে চেঁচাচ্ছে। পান কিনে ছুটে! করে একসঙ্গে মুখে ভরছে। হঠাৎ ব1 তান ধরে ওঠে কেউ একজন

সীমান্তের স্টেশন পার হল তে। মুহুর্তে পট-পরিবর্তন | যাদের হে-হল্লায় কান পাত যাচ্ছিল না, মায়ামন্ত্রে তারা একেবারে নিস্তন্ধ। আর যারা মরে ছিল এতক্ষণ সমকঠে তার। হুরিধ্বনি দিয়ে উঠল £ বল হরি, হরিবোল ! কেহিন্দু কে মুসলমান এখন আর নাম-ধাম জিজ্ঞাসা করতে হয় না, ভাবের বদল দেখে বলে দেওয়া যায়।

নতুন দল নিয়ে রওন। হবার মুখে প্রতিবারই আশিস বাপকে বলে, চল বাবা এইসঙ্গে।

অশ্বিনী জ্রকৃটি করেন £ নতুন কী হল আবার ?

আশিসের হাতে পাকানে। খবরের-কাগজ কলকাত। থেকে ফিরবার সময় সে রকমারি কাগজ কিনে নিয়ে আসে। হইদ্বানীং খবরের-কাগজ দেখলে অশ্বিনী ক্ষেপে ওঠেন £ যত ঝঞ্ধাট বাড়ায় এই কাগজে, মানুষের মন তেতো করে দেয়। ছু-পক্ষের গবনমেণ্ট কাগজ্জগুলে। কেন ষে বন্ধ করে দেয় না!

আশিস বলে, চোখ বুজে থাকলেই বাঁচ। যায় বাবা ?

৯৬

চোখ মেলে থাকলেই বুঝি বেঁচে যাবে! পাকিস্তান-হিন্দৃস্থান ছুটো পথের কোনট! ঘম চেনে না, যমের চোখ কোথায় পড়বে না, বল দিকি আমায় বাপু।

সদাশিবকেও আশিস জিজ্ঞাস করে, আপনার কি ইচ্ছে মাস্টার- মশায়? যাবেন?

ইচ্ছে হলেই তো যাওয়! যাবে না পথ আটকাবে আমার আশিস গর্জন করে ওঠে £ আনসার-বাহিনী ? যাবার ইচ্ছে থাকে তো বলুন। কত জোর তাদের, দেখে নেব।

সদাশিব হেসে বলেন, মে বাহিনী আনসারের চেয়ে অনেক বড় বাবা। সেকালের একালের আমার যত ছাত্র কিছুতে তার৷ আমায় ছেড়ে দেবে না।

ইদানীং সদাশিব কিন্তু মাস্টারই নন মোটে। ইন্কুলটা সম্পূর্ণ তার হাতে-গড়া বলে চস্ষুলজ্জায় তাকে একেবারে তাড়িয়ে দেয় নি, কেরানি করে রেখেছে। সেই গোড়ার আমলের এক ছাত্র আফজল খবরটা শুনে একদিন এসে পড়েছিল £ মাস্টারমশায়, সত্যি সমস্ত? আপনাকে নাকি ক্লাসে পড়াতে দেয় না, মাইনে আদায় করতে হয়?

সদাশিব বলেন, একটা পাশও করি নি, পড়ানোর কি জানি আমি 1? হোকগে, হোকগে- আছি তে ছাত্রদের মধ্যে সারাদিন দিব্যি কেটে যায়।

আফজলের মুখের দিকে চেয়ে বললেন, আরে ছোড়া! এমন ক্ষেপে যাচ্ছিস কেন রে তুই? কী হয়েছে? আফজলের দাড়িতে পাক ধরে এল। সদাশিবের কাছে কিন্তু সে ছোঁড়া বই আর কিছু নয়। চোখ হুটো চকচক করে ওঠে আফজলের। অবরুদ্ধ কণ্ঠে বলে, এত খাটুনি খেটে ইস্কুল বানালেন, শেষ পাওনা! এই মাস্টারমশায়? নামাতে নামাতে কোথায় এনে ফেলল আপনাকে !

২8

সদাশিব প্রবোধ দিচ্ছেন £ দায়িত্ব খসে যাচ্ছে, ভালই তো রে! দেশের যা হাল, কবে আছি কবে নেই। যা স্বপ্নেও ভাবি নি--. পালাতে হয় কোন্‌ দিন বা সোঁনাটিকারি ছেড়ে !

আফজল বলে, হু* ছাড়বেন! যেতে দিচ্ছে কে? পায়ে ধরে আছাড় খেয়ে পড়ব না! এক। আমি নই--যত ছাত্র আছে সেই গোড়ার আমল থেকে

সদাশিব বলেন, না রে, খবরের-কাগজে নানান গোলমালের কথা লিখছে ভয়ের কথা।

কিন্ত সদাশিবের ছাত্র আফজল বিন্দুমাত্র ভয় পায় না। বলে, কাগজের ব্যাপার সত্যি সত্যি যদি আমাদের তল্লাটে ঘটে, খোদার কসম, জান থাকতে কোন ছুশমন আমাদের মাস্টারমশায়ের গায়ে হাত দ্রিতে পারবে না।

সদাশিব অতিভূত হয়ে রইলেন ক্ষণকাল। তারপর বকে উঠলেন £ এই যে বললি ছোড়া, কোন-কিছু আমি পাই নি। তোদের সব এমন করে পেয়েছি--এর চেয়ে বড় পাওন। কবে কার হয়েছে রে ? যা মুখে বলছে, আফজলের! করবে তাই স্ুুনিশ্চিত। যেতে দেবে না সদাশিবকে, পথের উপর আছড়ে পড়বে দল বেঁধে

হয়েছে ভাল! পালানোর হিড়িক ষত প্রবল হচ্ছে, মেজরাজা আর সদাশিব দরজ। ভেজিয়ে ততই আরও দাবায় মেতে উঠছেন। বিশাল সোনাটিকারি গ্রাম ওদিকে শ্বাশানঘাটার মতো জনহীন হয়ে উঠল, ছুই প্রাচীন সুহৃদের সেদিকে দৃকপাত নেই।

নৌকোর এক মোক্ষম কিস্তি দিয়ে অশ্বিনী হীক দেন, বাঁশি ! সদাশিবও ডাকেন, মা কাঞ্চনবরণী-_

বাঁশির পাড়ায় ঘোরাঘুরি বন্ধ। লোকজন নেই, যাবে কার কাছে? সর্বক্ষণ ঘরে থাকে ডাক শুনে সে কাছে এসে দীড়াল।

তোর জ্যেঠাকে পান দে। আর কলকেট। পালটে দিয়ে যা আমার

বাশি যেন পাখি হয়ে উড়ে বেরল ঘর থেকে ক্ষণপরেই ফিরে আসে। ভানহাতে ডিবের মধ্যে পানের খিলি। বাঁহাতে কলকের মাপ্রায় কাঠকয়লার আগুন--ফু দিতে দিতে আসছে আগুনের আচে দেবীপ্রতিমার মতো মুখে রক্ত-আভা ফুটেছে ডিবা রাখল তক্তপোশের উপর, সদাশিব ডিবা খুলে ছটো৷ খিলি মুখে দিলেন। হছ'কোর উপর কলকে বসিরে বাশি বাপের হাতে এগিয়ে দেয়।

মেয়ের দিকে এক নজর তাকিয়ে দেখে অশ্বিনী বললেন, রাজবাড়িতেও ভয় ঢুকে গেল, আশিস নিয়ে বের করতে চায়। বলে দিয়েছি, যাও যদি ইচ্ছে হয়। যাকগে ওরা চলে দিদি চলে যান, আশিস চলে যাক শিব-দাদা আর আমি-_তার উপরে আমাদের মা-জননী গার্জেন হয়ে এমনি যদ্দি আশেপাশে ঘ্ুরঘুর করে, কাউকে আর দরকার নেই। কী বল শিব-দাদ! ?

সদাশিব মাথা নেড়ে সায় দেন £ বটেই তো, কী দরকার !

বলতে গিয়ে চমক খেলেন সদাশিব। কোথায় ছিলেন বিরজা, করকর করে এসে পড়েন। সদাশিবের দিকেই চেয়ে তাকেই সাক্ষি মেনে বলেন, শোন কথা মা-জননীকে ফেলে আমরা চলে বাব, সে তোমাদের পান-তামাক সেজে খাওয়াবে কিছু না হোক ওই মা-জননীর জন্তেই তো! পাগল হয়ে ছুটে বেরুনে। উচিত। সোমত্ত মেয়ে নিয়ে ভাবনায় আহার-নিদ্রা বন্ধ হবার কথা, তা৷ নয় নিবিকার বাপ বসে বসে দাবা খেলেন আর তামাক খান।

সদ্বাশিব সঙ্গে সঙ্গে বলেন, ঠিক !

অশ্বিনী সুখ তুলে ম্লান হেসে বললেন, -দাব। খেলে আমি ভাবনা ভুলতে চাই দিদি। ভেবে কোন হদিস পাই নে। মেয়ে নিয়ে ঘরে থাক। মুশকিল- কিন্তু পথে বেরুনো! আরও যে মুশকিল, সেট ভেবে দেখেছ? বাঁশি আমার যদি কালো-কুচ্ছিৎ কিন্তুতাকার যেয়ে হত!

১৬

সদাশিব পুনশ্চ সমর্থন করেন £ সত্যি কথা!

একটু চুপ করে থেকে সদাশিব আবার বলেন, কিন্ত উপায় তো৷ কিছু চাই। আমি বলি, কাঞ্চনবরণীকে পরঘরি করে দ্লাও তাঁড়াতাড়ি। পথে বেরুল না, ঘরেও রইল না। যাঁদের বউ, তারা তখন বুঝবে। বিয়ের জন্য উঠেপড়ে লাগ।

চেষ্টাকি কম করছি! কিন্ত--| আঙুলে কাল্পনিক টাক। বাজিয়ে অশ্বিনী বলেন, তার জন্তে চাই রুধির। রাজকোষে নিতান্তই ফুলোডুমুর মেয়ের রূপ আছে সে ভালই, তা বলে পাওনাগণ্ড ছাড়বে বাজারে এমন হাদারাম কেউ নেই। খাজাঞ্ধি হরিবিলাস তো৷ শুকিয়ে আছে। বলে, পৌষমাস অবধি ঠায় বসে থাকুন এখন। প্রজাপাটকের উপর যত হাকডাক করুন, পৌষের কিস্তির আগে কেউ আধেল। পয়সা ঠেকাবে না। বষে বসে তা হলে কি করব বল দাবাখেল। আর তামাক খাওয়। ছাড়। ?

পাঁচ

ক-দিন পরের কথা পাইক চূড়ামণি সর্দার হস্তদস্ত হয়ে চলেছে। মেজরাজ! তাকে ডেকে মধুত্বরে বললেন, শোওয়া নেই বসা নেই, সর্বসময়ে তো টহল দিচ্ছ। আদায়পত্বরের গতিকটা কি, তোমার কাছেই গুনি। | মনিবের তোয়াজে গলে গিয়ে ছড়ামণি বলে»*হুজুরের হুকুম হয়েছে-_ সকাল বিকাল একগাদ। কুরে প্রজা এনে কাছারি-দালানে হাজির করে দিই।

সে তে। জানি। কিন্তু এসে কি বলে তার? টাকাকড়ি দেয় কই! সগবে ছুড়ামণি বলে, ন! দিলে ছাড়ব কেন? একবারের জায়গায় দশবার যাব সেই লোকের বাড়ি। কোথাও পালিয়ে থাকে তো

চেপে বসে থাকব, দরকার হলে উঠানের উপর উন্মুন খু'ড়ে রান্না- খাওয়া করব সেখানে

তুমি এত খাটনি খাটছ, কিন্ত হরিবিলাসকে জিজ্ঞাসা করলে তো মাথা চুলকায়। বলে, আসেই মান্ুষ__এসে তামাক-টামাক খেয়ে চলে যায়। টাঁকাকড়ির বেল! লবডস্কা চূড়ামণি চুপ করে থাকে

আশিস এর্সে পড়েছে কখন। হেসে উঠে সে বলে, বাক্যি হরে গেল যে সর্দার। পথে পথে ঘুরি, কিন্তু ঘরের খবরও কিছু কানে আসে। বলে ফেল পেটের মধ্যে যে সব কথা আকুপাকু করছে। আজ্ঞে, খাজনাকড়ি আদায় বড়দের ব্যাপার। খাজাপ্রিমশায় জানেন। সামান্ত পাইক মানুষ আমি এর মধ্যে কি বলব? হাসিতে উচ্ছুসিত হয়ে আশিস বলে, ভাগে বনিবনাও হচ্ছে না- জানি গো, জানি সে খবর |

অশ্বিনী ছেলেকে তাড়া দিয়ে উঠলেন £ আচ্ছা, তুমি কি জন্য বাগড়া দাও কথার মধ্যে এসে, বৈষয়িক ব্যাপারের তুমি কি বোঝ ? পরের হিত নিয়ে আছ, সেই কাজে চলে যাও।

চড়ামণি আহত কণ্ঠে অশ্বিনীর দিকে চেয়ে বলে, তাই বলুন হুজুর। আমি পাইকগিরি করি, ছুটোছুটি গালমন্দ করে প্রজা হাজির করে দেওয়া! কাজ, আমার সঙ্গে কে ভাগাভাগি করতে যাচ্ছে? কেনই বাযাবে?

আশিস তবু নিরস্ত হয় না বলে, ভাগ যদি না থাকবে, তোমার দশ টাকা মাইনে আর খাজাঞ্জি-কাকার পঁচিশ--এই মাইনের উপরে এমন তেলটি-ফুলটি হয়ে থাক কেমন করে শুনি? 28255 মানুষ বলে চোখ মেলেও আমাদের অন্ধ হয়ে থাকতে হয়। কিন্ত দেখতে পাই সব।

হাসতে হাসতে আবার বলে, চাইও আমার ঠিক এই। বরাবর চেয়ে এসেছি এই মাইনেয় কারে চলতে পারে না, সেটা কে না

কট

বোঝে? ঠারেঠোরে তাই বল! আছে- আমাদের মেরো না ভাইসকল, হাবাগবা প্রজাগুলোর উপর দিয়ে যন্দ;র পার, উত্ডল করে