এইহ বহটি কে. কে. বিভলা ফাউপ্ডেশনের আনুদানে তৈরী

1১]১ &1-১3/-1338-2%

- শপ সপ

প্রথম প্রকাশ : 1995 শেক 19179) দ্বিতীয় ম্রদ্রণ : 2000 শেক 1922) মূল ৫১ পদ্মপরাগ বায় বেণু রাপাস্তর ভারত যাযাবর, 1995 1১৭1721৬520 [1 19010091200 (43272212) সুল্য : 6.0 টাকা

নির্দেশক, ন্যাশনাল বুক ট্রাস্ট, ইত্ডিয়া, এ5 শআ্রীন পার্ক নয়াদিল্লি-1 10016 কর্তৃক প্রকাশিত

নবসাক্ষর সাহিত্যমালা

পালোয়ানের ঢোল

ফণীশ্বরনাথ “রেণু”

অনুবাদ, প্রবজ্যোতি রায়চৌধুরী

জগদীশ জোশী

গায়ের সব লোকই লুট্টন সিং পালোয়ানকে চিনত। দুনিয়ার লোক চেনে। তবে, এখানে গোটা দুনিয়া মানে গ্রাম ছাড়িয়ে জেলা তক।

নয় বছর বয়সে লুট্টনের মা-বাবা মারা যায়। তবে, তার আগেই লুট্টনের বিয়ে হয়ে যায়। বিধবা শাশুড়ি ওকে খাইয়ে-পরিয়ে বড় করে তোলে। ছোটবেলায় সে গোরু চরাত। দুধ খেত। আর, ব্যায়াম করত। : নিয়মিত কসরৎ করার ফলে ওই বয়েসেই ওর ছাতি আর হাতের গুলি ইয়া হয়ে উঠেছিল। একটু জোয়ান বয়েসে, সে নিজেকে এক বড় পালোয়ান বলে মনে করল। লোকে একটু ভয়- ভয় চোখে দেখছে বুঝতে পারল। ব্যাসূ, দু হাত পঁয়তাল্লিশ ডিগ্রি ফীক করে, বুক চিতিয়ে সে এবার

পুরো পালোয়ান ঢঙে হাঁটাচলা করতে লাগল। ছাড়া, নিয়মিত কুস্তি করে যেতে লাগল।

একবার স্সে শ্যামনগরের মেলায় গেল। মেলায় জোর কুস্তি-লড়াই হয়। পালোয়ানদের কুস্তি আর হাক ডাক দেখে ওর আর আশ মেটে না। গায়ের জোর আর প্যাট-পয়জার দেখে তার নেশা লেগে গেল। কোনো-কিছু না ভেবে সে ঠিক করে নিল, সে-ও লড়বে।

কুক্তির দলে সবচেয়ে বড পালোয়ান চাদ সিং _ বলে ঠিক করল। চাদ সিং -- ওর গুরু বাদল সিং- এর সঙ্গে এই প্রথম পাঞ্জাবের বাইরে, শ্যামনগরে এসেছে। গান্টা গোন্টা চাদ সিং একেবারে পাট্রা জোয়ান। তিন দিনের মধ্যে পাঞ্জাবী আর পাঠান পালোয়ানদের চিৎপটাং করে সে 'বাঘের বাচ্চা" খেতাব পেয়েছে। কুত্তির আখড়ায় চাদ সিং তাই দুলকি চালে চলাফেরা করছিল। আর, মাঝে মাঝে বাঘের মতো হালুম করছিল।

শ্যামনগরের বুড়ো রাজাসাহেব চাদ সিংকে দরবারে রেখে দেবেন বলে ঠিক করছিলেন। এমন সময়,

4

লুট্ুটন বলে উঠল, টাদের সঙ্গে সে লড়বে। চাদ সিং প্রথমে লুট্টনকে দেখে হাসল-তারপর বাঘের মতো ছুটে গেল। গিয়েই মারল এক ধাক্কা।

ব্যাপার দেখে লোকদের চোখ ছানাবড়া! ওরা বলতে লাগল : পাগল আর কাকে বলে-মরার জন্য পাখনা গজিয়েছে।'

তারপরই, “সাবাশ!” লুট্টন চাদ সিং-এর ধাকা থেকে চমৎকারভাবে নিজেকে কাটিয়ে নিল। তারপর উঠে দাঁড়িয়ে পাঁয়তাড়া কস্তে লাগল।

রাজাসাহেব কুত্তি বন্ধ করে দিলেন। লুটুটনকে ঠিকই কিন্ত টাদের সঙ্গে লড়তে যেও না। দশ টাকার একটা নোট দিয়ে বললেন, যাও-মেলা দেখে বাড়ি যাও।'

লুট্টন কিন্তু রাজাসাহেবের কথায় রাজি হলো না। দুই হাত জোড় করে প্রার্থনা জানাল, “আপনি হুকুম করুন হুজুর_ আমি লড়ব।'

ধ্যুৎ! পাগল নাকি? যাও...

রাজাসাহেবের ম্যানেজার থেকে দারোয়ান সবাই মিলে লুট্টনকে বকাবকি করল: চাদের সঙ্গে লড়তে

6

যেও না, বাপু- প্রাণটা চলে যাবে_ও হলো গিয়ে বাঘের বাচ্চা-রাজাসাহেবের বারণ শোনো--, নইলে আমি পাথরে মাথা ঠুকে মরব।” এতক্ষণ অবধি ঢোলের বাজনা বন্ধ ছিল। লোকেও রেগে উঠছিল। কেউ কেউ গালাগাল দিল। কেউ-বা আবার লুট্টনের হয়ে বলল, ওকে লড়তে দিন।,

টাদ সিং আখড়ায় দাড়িয়ে হাসবার চেষ্টা করছিল। প্রথম ধাকাতেই সে লুট্টনের গায়ের জোর আন্দাজ করে নিয়েছিল।

রাজাসাহেব আর কী করেন। শেষটায় রাজি হলেন। বললেন, যাও-লড়ো তাহলে।

ঢোল বেজে উঠল। দেখতে দেখতে ভিড় বেড়ে গেল। টেচামেচি শুরু হয়ে গেল। দৌকানদাররা ঝাপ ফেলে দৌড়ে এলো। চাদ সিং-এর জুড়ি! বাঘের বাচ্চার কুত্তি!

ঢোলের আওয়াজে বোল ফুটল। চট্‌ ধা-গিড় ধা-চট ধা-গিড় ধা_। লুট্টন যেন ঢোলের বোল বুঝতে পারল; চট ধা_ভিড়ে যা-গিড় ধা_যা যা ভিড়ে যা! ঢোলই যেন লুট্টনকে প্রথম বাহবা দিল : তাক্‌

8

দিন, তাক্‌ দিন__বাহাদুর! বাহাদুর!

লুট্টনকে চাদ তখন জোর একটা প্যাচ মেরেছে। লোক হাততালি দিয়ে উঠল: “গেল! গেল! আরে বাবা-ওর নাম চাদ সিং বাঘের বাচ্চা-হালুয়া হয়ে যাবে একেবারে!

ঢোলের আওয়াজ কিন্তু সাহস দিল লুট্ুটনকে_

ঈটিাকিট নিয়ন মানে, ভয় পেও না - ভয় পেও না...

লুট্টনের চোখ তখন বেরিয়ে আসার জোগাড়। দম বন্ধ হয়ে আসছে। বুক ফেটে যাচ্ছে। রাজাসাহেব কিন্ত লুট্টন বেচারাকে সাহস দেওয়ার কেউ নেই। শুধু ঢোল ছাড়া। ঢোলের আওয়াজেই গায়ের জোর আর মার-প্যাচের যেন পরীক্ষা চলছিল। হঠাৎ ঢোল হালকা করে বলে উঠল, “তাক ধিনা_তাক ধিনা__তিরকট তিনা-_তিরকিট তিনা' অর্থাৎ, “পালটা টার লিনা মার বেরিয়ে আয়! তিরকিট তিনা!;

অবাক কান্ড! লোক হকচকিয়ে গেল। লুট্টন এক পালটি খেয়ে চাদের ঘাড় ধরে ফেলেছে।

9

লোকজন বাহবা দিল, “সাবাশ! সাবাশ!, উঠল, চটাক-চট-ধা চটাক-চট-ধা! মানে, চিৎ করে ফেল! চিৎকরে ফেল!

লুট্টন চালাকি করে প্যাচ একটু আলগা করল। তারপর চাদকে ধরে মাটির ওপর আছড়ে ফেলল।

ঢোলের আওয়াজও বদলে গেল -_ ধিক ধিনা, ধিক ধিনা-_তা ধিন তা ধিন-চিৎ-চিৎ-চিৎ!” লুট্ুটন এবার চাদকে সাপটে ধরে চিৎ করে ফেলল

ঢোল এবার লুট্টনকে বাহবা দিল। বোল উঠল: 'বাহাদুর! বাহাদুর! - ধা গিড় গিড়, ধা গিড় গিড়....

লুট্টনের এই জেতায় চারদিকে জয়-জয়কার পড়ে গেল। আকাশ অবধি সেই জয়ধ্বনি পৌঁছে গেল। লুট্টন আনন্দে নাচতে লাগল। লাফাতে লাগল। কিন্তু সে সবার আগে গেল, যে ঢোল বাজাচ্ছিল তার কাছে। ঢোলটাকে মাথায় ঠেকিয়ে প্রণাম জানাল। তারপর, রাজসাহেবের কাছে গিয়ে তাকে কোলে তুলে নিল। রাজা সাহেবের কাপড় ধুলোয় ভর্তি হয়ে গেল। ম্যানেজার সাহেব হে হে করে তেড়ে এলেন। কিন্ত, রাজাসাহেব ততক্ষণে লুট্টনকে বুকে জড়িয়ে ধরেছেন,

19

তুমিই আমার রাজ্যের নাম রেখেছ-বেঁচে থাকো- দীর্ঘজীবী হও বাবা!

পাঞ্জাবী পালোয়ানদের মধ্যে চাদ সিং তখন চোখ মুছছে। রাজাসাহেব লুট্টনকে পুরস্কার দিলেন_আর নিজের রাজসভায় তাকে সর্বক্ষণের জন্যে রেখে দিলেন। এরপর থেকে লুট্টন “রাজার পালোয়ান হয়ে গেল। রাজাসাহেব ওকে লুট্ুটন বলে ডাকতেন না। লুটুটন সিং নামে ডাকতেন।

রাজ-পন্ডিতেরা মুখ বেঁকিয়ে জিজ্ঞেস করেছিল, আপনি সিং বলছেন?

ম্যানেজার সাহেব ছিলেন জাতিতে রাজপুত। তিনি বললেন, হুজুর- এটা অন্যায়।'

রাজাসাহেব সবার কথা শুনে একটু হেসে বললেন, “ও তো কাজ করেছে ক্ষত্রিয়ের মতো।,

এইভাবে লুট্টন সিং পালোয়ানের নাম দূরে দূরে ছড়িয়ে পড়ল। ভাল খাওয়া-দাওয়া আর কসরৎ। দুই-এক বছরের মধ্যে লুট্টন ওখানে যত নামী পালোয়ান ছিল, তাদের এক এক করে হারিয়ে দিল।

ওই এলাকায় কালা খাঁ পালোয়ানের সঙ্গে কেউ

12

এঁটে উঠতে পারত না। লোকের ধারণা ছিল, ল্যাঙট হাত পা ঠীন্ডা হয়ে যায়। এই কালা খাঁ-কেও লুট্টন হারিয়ে দিল। এরপর, অন্য কোনো পালোয়ান তার সঙ্গে আর লড়তে চাইত না।

লুট্টন এবার রাজ দরবারের পালোয়ান। সবাই ওকে দেখতে আসে। চিড়িয়াখানার খাঁচায় আটকান বাঘ ডাকে: হালুম! সবাই ভাবে “রাজার বাঘ” কথা বলছে।

ঠাকুরবাড়ির কাছে এসে পালোয়ান বলে: মহাবীর!” লোকে বোঝে, পালোয়ান কথা বলছে।

পালোয়ান মেলায় আসে লম্বা পাঞ্জাবী পরে। মাথায় পাগড়ি বেঁধে। হাতির মতো হেলতে-দুলতে সারা মেলায় ঘোরে। মিষ্টিওয়ালা হাক দেয়, “পালোয়ান কাকা! তাজা রসগোল্লা বানাচ্ছি- একটু খেয়ে যাও।” ্‌ “দেবে তা দাও দেড়-দু'সের।” বলেই সে বসে পড়ে। তারপর সের দুই রসগোল্লা খেয়ে, মুখে আট-দশটা পান গুঁজে, ঠোট লাল করে মেলায় ঘুরে বেড়ায়।

13

7 1 ৮2788. 1118, ।. 1.1 4. 1 5/ 1 2 7৮ ] / 7

য় 1)

10511 ধা

-::101/ 14" 117

পি ৮৮ র্‌ 1

মেলা থেকে ফেরার সময় ওকে আজব দেখাত। চোখে রঙিন চশমা হাতে খেলনা। মুখে পেতলের বাশি। পিঁপপিকরে “সিটি” বাজাতে-বাজাতে, হাসতে- হাসতে সে দরবারে ফিরত। চেহারাটা অত বড় হলে কী হবে। মন ছিল একেবারে বাচ্চাদের মতো। নেচে উঠত। কিন্তু ওর সঙ্গে লড়ার কেউ ছিল না। দিতেন না। এই জন্যে, লুট্টন হতাশ হয়ে ল্যাউট পরে, সারা শরীরে ধুলো মেখে ষাঁড় কিংবা মোষের মতো মাটিতে গড়াগড়ি খেত। রাজাসাহেব ওর কীর্তি দেখে হাসতেন।

এইভাবে পনেরো বছর কেটে গেল। পালোয়ানকে কেউ হারাতে পারেনি। এখন, দুই ছেলেকে নিয়ে কুস্তির আখড়ায় যায়। লুট্টনের শাশুড়ি আগেই মারা গিয়েছিল। দুই ছেলে জন্মাবার পর বউও মারা যায়। দুই ছেলেই এখন পালোয়ান। ঠিক বাপের মতোই গড়ন। আখড়ায় ওদের দেখে লোকেরা বলাবলি করত, “এরা বাপকেও ছাড়িয়ে যাবে ।'

দুই ছেলেকেই রাজ দরবারের ভবিষ্যৎ-পালোয়ান

15

বলে ঘোষণা করা হয়েছিল। তাদের থাকা-খাওয়ার খরচ রাজ দরবার থেকেই দেওয়া হতো। রোজ সকালে লুটুটন ঢোল বাজাত। আর সেই সঙ্গে দুই ছেলেকে কসরৎ করাত। দুপুরবেলায় বিশ্রাম নিতে নিতে সে ছেলেদের বোঝাত: “ঢোলের আওয়াজ মন দিয়ে শুনবি। আমার গুরু কোনো পালোয়ান-টালোয়ান নয়-আমার গুরু হলো এই ঢোল। ঢোলের আওয়ীজ আমাকে পালোয়ান বানিয়ে দিয়েছে। লড়ার আগে ঢোলকে প্রণাম করবি, বুঝলি?” ছাড়া, আরও অনেক কিছু বোঝাত। মনিবকে কী করে খুশি রাখা যায়। কার সঙ্গে কেমনভাবে চলতে হয়।

কিন্তু সব একদিন ভেস্তে গেল। বুড়ো রাজাসাহেব মারা গেলেন। রাজকুমার নতুন রাজা হলেন। ভার নিয়েই সব অদলবদল করতে লাগলেন। .আখড়া তুলে দিলেন। সেখানে ঘোড়ার আস্তাবল তৈরি হলো। পালোয়ান আর তার দুই ছেলের খাওয়া খরচ অনেক ।' রাজকুমার ম্যানেজার সেই খরচ দিতে হিমসিম ওদের আর দরকার নেই। পালোয়ানকে কিছু বলার সুযোগও দেওয়া হলো না।

17

১০

10)

ওই দিনই, লুট্টন কাধে ঢোল নিয়ে, দুই ছেলেকে নিয়ে নিজের গ্রামে ফিরে এলো। ওখানেই থাকতে লাগল। এক জায়গায় গায়ের লোকেরাই.ওদের কুঁড়ে ঘর বানিয়ে দিল। খাওয়া-দাওয়ার খরচও গায়ের লোকেরা দিত। আর লুটুটন সকাল-সন্ধ্যায় ঢোল বাজিয়ে বাজিয়ে ছেলেদের কসরৎ শেখাত। গ্রামের ছেলেরাও এদের সঙ্গে শিখত।

কিন্তু গ্রামের গরিব চাষী-মজুরের ছেলে কী খেয়ে কুম্তি লড়বেঃ ফলে, পালোয়ানের কুস্তির আখড়া ফাকা হতে লাগল। নিজের দুই ছেলেকেই পালোয়ান কুম্তির মারপ্যাচ শেখাতে লাগল। সারা দিন দুই ছেলে মজুরি খেটে যা পেত, তাই দিয়ে দিন কেটে যেত। | আচমকা গ্রামে বিপদ এলো বৃষ্টি হয় নি। সব দিকে খরা। লোকে খিদের জ্বালায় ছটফট করতে লাগল। তার ওপর শুরু হলো ম্যালেরিয়া। একে- বারে মহামারি। খিদে আর মহামারিতে বহুলোক মারা গেল। প্রত্যেক দিনই মড়ার পাহাড় তৈরী হতো। গ্রাম এইভাবে ফাকা হতে লাগল চারদিকে হাহাকার আর কান্না। দিনের বেলা সবাই সবাইকে সাহস দিত।

17

সঙ্গে লড়তে লড়তে যখন কেউ মিইয়ে পড়ত, তখন তাদের" শক্তি যোগাত পালোয়ানের টোল। সকাল থেকে সন্ধ্যে অবধি পালোয়ানের ঢোলে একটিই বোল বাজত: “চট-ধা, গিড়-ধা-চট-ধা, গিড় ধা-_? মানে, চিৎ করে দাও! চিৎ করে দাও!

পালোয়ানের ঢোলের আওয়াজে মানুষ যেন বল পেত। খিদে আর মহামারীর সঙ্গে তারা সমানে লড়ে যেত। ঢোলের আওয়াজ যেন সঞ্জীবনী কোনো ওষুধ লোকের মনে পড়ত কুস্তির আখড়ার কথা। ঢোলের আওয়াজে অসুখ সারে না। মহামারি থামে না। সবই ঠিক, কিন্তু এই আওয়াজে মরার কষ্ট চলে যায়। লোকে মরতে ভয় পায় না।

পালোয়ানের দুই ছেলে এবার অসুখে পড়ল। যন্ত্রণায় ছটফট করতে করতে ওরা বলল, “বাবা, ওই তালটা বাজাও--উঠা পটাক দে"_

'চটক্‌ চট্-ধা, চটক্‌ চট-ধা- পালোয়ান সারা রাত ধরে ঢোল পিটিয়ে চলল। মাঝে মাঝে মুখে পালোয়ানি-ভাষায় উৎসাহ দিল, “সাবাশ! সাবাশ! লড়ে যাও।'

20

ভা

চর

2৮ বাজ

আছে। দু'জনেরই পেট ঢুকে গেছে। একজন আবার মরার আগে দীতে একটু মাটি রগড়ে নিয়েছে। পালোয়ান হাসল, “দুই বাহাদুর চিৎ!”

সেইদিন পালোয়ান রাজাসাহেবের দেওয়া রেশমি ল্যাউট পরল। সারা গায়ে ধুলো মেখে কসরৎ করল, তারপর, দুই ছেলেকে কাধে নিয়ে নদীর দিকে চলে গেল। লোকে বলল, “পালোয়ানের মন ভেঙে গেছে। সাহস চলে গেছে।+

তবুও, পালোয়ান কিন্তু কীদল না। বুক চাপড়াল' না। রাতে ফের পালোয়ানের ঢোলের আওয়াজ পাওয়া গেল। সেই আওয়াজে লোকে মনে বল পেল। দুঃখী মা-বাবারা বলল, “দুই ছেলে মারা গেছে, কিন্তু পালোয়ানের হিমমৎ দেখ ভেঙে পড়েনি। কলজের জোর একেই.বলে!ঃ

চার-পাঁচদিন পর একদিন আর ঢোলের আওয়াজ পাওয়া গেল না। ঢোলের বোল শোনা গেল না।

সকালে দেখা গেল, পালোয়ানের মৃতদেহ “চিৎ হয়ে পড়ে আছে। পালোয়ানকে কেউ চিৎ করতে পারে নি। মৃত্যু তাকে চিৎ করেছে। হারিয়ে দিয়েছে।

ঠা

মারা গেলে তোরা আমাকে চিৎ করে চিতায় দিসনি_ উপুড় করে দিস। আমি জীবনে কখনও চিৎ হইনি। আর চিতা ভ্বালাবার সময় টোল বাজাবি তোরা ।' অনেক বছর হলো পালোয়ান মারা গেছে। তবুও কিন্তু গায়ের লোক ওকে ভোলেনি। এখনও, দুঃখী, অসুখে কাবু লোক পালোয়ানের ঢোলের আওয়াজ শোনার জন্যে কান পেতে থাকে আস]

শী স্্স্স্প্প্প শি11050 ৪1: 30019191 0591 ৮4015, 9810215, 0৩1-1 10932