সোভিয়েতে বংস্কৃতি

(ভ্রেনিনগ্রাদ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রদত নী

এম. এ; পি-এইচ. ডি.

ডজ্যশুজোষ ভঢাচাথ

কলকাতা বিশববিগ্ভালয়ের বাংল সাহিত্যের অধ্যাপক

প্রতিআ পুশ্ভহ্ষ

১৩, কলেজ ল্রা; করলি: -&

প্রকাশক £/ বিমলেন্দু চক্রবর্তাঁ, বি. এ. সাহিত্যভারতী, প্রতিমা! পুম্তক

১৩৯-ডি-১, আনন্দ পালিত রোড, কলিকাতা -১৪।

প্রথম প্রকাশ £ দেবীপক্ষ ২০শে আশ্বিন ১৩৭১ সন।

বিক্রয় কেজ্দ্ £ প্রতিমা পুস্তক ১৩, কলেজ রো কলিকাতা-_৯।

প্রচ্ছদপট £ শক্তিময় বিশ্বাস

ঘুদ্রক 2

তুলসী চরণ বকৃসী শ্তাশনাল প্রিন্টিং ওয়ার্কস্‌ ৩৩-ডি, মদন মিত্র লেন, কলিকাতা-_-৬।

পাম £ ৮৫০ (আট টাক। পঞ্চশ পয়সা ) রেক্সিন বাধাই ১০০০ ( দশ টাক্ষা )

ভারত-সোভিয়েত সংস্কৃতি-সংঘের সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক শ্রীযুক্ত হুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় অশেষ শ্রদ্ধাভাজনেযু

নিবেদন

গত মার্চ-এপ্রিল মাসে সোভিয়েত রাশিয়ার লেনিনগ্রাদ্‌ রাষথীয় বিশ্ববিগ্ঠালয়ে বাংলার লোক-সংস্কৃতি নাটক সম্পর্কে ইংরেজি ভাষায় যে বক্তৃতাগুলে। দিয়েছিলাম, সেগুলোর পরিবর্ধিত বাংলা অনুবাদ সকল শ্রেণীর বাঙ্গালী পাঠকেরই উপযোগী করে এই গ্রন্থে প্রকাশিত হলো। মূল বক্তৃতাগুলো এক ঘণ্টার উপযোগী করে বিদেশী শ্রোতার শোনবার এবং বোঝবার মত সাধারণভাবেই রচিত হয়েছিল, বাংল! অন্থুবাদকালে যাতে তা বাঙ্গালী পাঠকের উপযোগী হয়, সেই উদ্দেশ্যে তাদের মধ্যে অনেক খুঁটিনাটি বিষয় এনে যোগ করা হয়েছে কারণ, যথাযথভাবে অনুবাদ করে সেগুলো প্রকাশ কর্লে বাঙ্গালী পাঠকের কাছে তাদের বিশেষ কোন মূল্য থাকত না। মূল বক্তৃতাগ্ুলো৷ ইংরেজি ভাষায়ও প্রকাশ করবার ব্যবস্থা হয়েছে

বিদেশে গিয়ে বাংলাদেশের লোকশ্রতি সম্পর্কে বলার স্থযোগ দেওয়ার জন্য ভারত সরকারের শিক্ষা দপ্তরের নিকট আমি কৃতজ্ঞ। পশ্চিমবঙ্গ সরকার আমার পাশপোর্ট পাওয়ার দ্রুত ব্যবস্থা করে এই কার্ষে যে ভাবে আমাকে সাহায্য করেছেন, তার জন্যও তাদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। শ্রদ্ধাম্পদ ডক্টর শ্রীযুক্ত নীহাররঞ্জন রায় এম. পি. শ্রীযুক্ত চপলাকাস্ত ভট্টাচার্য এম. পি, এই বিষয়ে আস্তরিক আগ্রহ প্রকাশ করে আমার বিদেশ যাত্রা ত্বরান্িত কর্তে সাহায্য করেছেন। তারাও আমার আস্তরিক কৃতজ্ঞতার পাত্র।

এই গ্রন্থে আমার প্রদত্ত বক্ততাগুলোর বাংলা অনুবাদ ব্যতীতও ভূমিক। স্বরূপ একটি ভ্রমণবৃত্তান্ত যোগ করা হয়েছে; কিন্তু এই গ্রন্থের কলেবর বৃদ্ধির ভয়ে বৃত্তান্তটি অসম্পূর্ণ রেখেছি স্বতন্ত্র আর একটি

1/০

খণ্ডে লেনিনগ্রাদের বিস্তৃত সাংস্কৃতিক জীবন বর্ণনার সঙ্গে সঙ্গে আমার সেখানকার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার বিষয়ও বপ্লিত হবে। দুইটি খণ্ডেই এই গ্রন্থটি সম্পূর্ণ হবে।

এই খণ্ড প্রকাশের কার্ষে আমার স্নেহাম্পদ ছাত্র অধুন! অধ্যাপক শ্রীমান্‌ স্বধীন্দ্রকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় এম. এ. যে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন, তার ফলেই তা অতি অল্পদিনের মধ্যেই প্রকাশিত হওয়া! সম্ভব হয়েছে অধ্যাপক শ্রীমান্‌ সনৎকুমার মিত্রও নানাভাবে আমাকে সাহায্য করেছেন। তরুণ প্রকাশক পরম সাহিত্যান্ুরাগী শ্রীমান্‌ বিমলেন্দু চক্রবর্তী এই গ্রস্থখানি প্রকাশের জন্য যে উৎসাহ প্রকাশ করেছেন, তাও উল্লেখযোগ্য তার যত্ব এবং চেষ্টার ফলেই এই গ্রন্থের সুষ্ঠ প্রকাশ সম্ভব হয়েছে। কবি-ব্ধ শ্রীযুক্ত সধীর গুপ্ত বইখানির নামকরণ করে দিয়েছেন; সেজন্য তার কাছেও আমি খণী।

সবশেষে আর একটি কথা নিবেদন করি। আমি আমার ভ্রমণের অভিজ্ঞতায় যা! দেখেছি, তাই লিখেছি ; যা শুনেছি কিংব! পড়েছি, তা লিখিনি। সুতরাং এই বইয়ের সকল তথ্যেরই দায়িত্ব আমার নিজের, অন্য কারুর নয়। আমি দেখতে কিংবা বুঝতে যদি ভুল করে থাকি, তার কথা 'অন্য। এই অল্পদিনের মধ্যেও কোন কোন বিষয় ভূলে যাওয়াও অসম্ভব নয়।

ুদ্রণ বিষয়ে ন্যাশন্যাল প্রিন্টিং ওয়ার্কসের সহযোগিতার ফলে এই গ্রন্থখানির প্রকাশন! তরান্বিত হয়েছে।

কলিকাত] বিশ্ববিদ্যালয়

বাংলা বিভাগ শ্রীনাশুভোষ ভট্টাচার্য গান্ধী-জন্মদিন, ১৩৭১ সাল

লেলিনগ্রাদের সংবাদপত্রে ষে বিবরণী মুক্রিত হয়েছিল, তার বঙ্গানবাদ--. কোলকাতার অতিথি,

“কয়েক দিন আগে ভারতীয় ভাষা-শিক্ষা-বিভাগের অধ্যাপক ছাত্রছাত্রীগণ বহুদিনের প্রত্যাশিত অতিথি কোলকাতা বিশ্ববিদ্ভালয়ের অধ্যাপক ডক্টর আশুতোষ ভট্টাচার্যের সঙ্গে মিলিত হবার সুযোগ লাভ করেছিলেন অধ্যাপক ভট্টাচার্য বাংল! সাহিত্যের ইতিহাস বিষয়ক কয়েকটি বিজ্ঞান-সম্মত উপায়ে রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের রচয়িতা, তছুপরি তিনি জাতিতত্ব এবং ন্ৃতত্ব বিষয়ক তথ্য সংগ্রহের জন্য বহু অভিযানে অংশ গ্রহণ করেছেন। কিছুদিন পূর্বে অধ্যাপক ভট্টাচার্য কয়লা খাদের শ্রমিক ভারতীয় কৃষক-জীবন ভিত্তি করে একখানি সম্পূর্ণ ছোট গল্পের গ্রন্থও রচনা করেছেন

লেনিনগ্রাদ বিশ্ববি্ঠালয়ের ভারতীয় ভাষা! শিক্ষা বিভাগে অধ্যাপক ভট্টাচার্য বাংলার লোক-শ্রুতি নাটক সম্পর্কে বক্তৃতা দিয়েছিলেন। ২৬ শে মার্চ তারিখে অধ্যাপক ভট্টাচার্য এই সহরের ভারতবিষ্তা বিভাগের এক আলোচনা সভায় ( 5210017)81 ) অংশ গ্রহণ করেন। তিনি তা'তে এক চিত্তাকর্ষক বক্তৃতায় বাংল৷ নাটকের উদ্ভব ক্রমবিকাশ বিষয়ে আলোচনা করেন এবং বাংলা নাটকের বিশেষত্ব ব্যাখ্যা করেন। তারপর তিনি তার টেপ রেকর্ডে গৃহীত কতকগুলে। বাংলার লোক-সঙ্গীত বাজিয়ে শোনান এবং তাদের অর্থ বিশ্লেষণ করে বুঝিয়ে দেন। যাবার আগে তিনি গভীর আগ্রহ নিয়ে সোভিয়েত যুক্ত সমাঁজ-তান্ত্িক রাষ্ট্রের বিজ্ঞান পরিষদের অস্তভূরক্ত লেনিনগ্রাদে অবস্থিত প্রাচ্য বিষ্ভাভবন পরিদর্শন করেন এবং সেখানে যে প্রাচীন পু'ির বিরাট সংগ্রহ আছে, তাদের সঙ্গে পরিচিত হন। তিনি সেখানে সংরক্ষিত কয়েকটি বাংলা প্রথির পরিচয় বলে দিয়ে সেখানকার গবেষকদের প্রভূত উপকার সাধন করেন ।'

'লেনিনগ্রাদ ইউনিভাসিটি' বিবরণ প্রদান-কারিণী ই. ব্রেসেলিন। ১০ই এপ্রিল, ১৯৬৪ ভারতীয় ভাষা-বিভাগের সম্পাদিক৷

বিষয়-সুচী

বিষয় ভূমিকা ভ্রমণকথা

কোলকাতা £ দিল্লী £ তাসখন্দ £ মস্কো ৮৪?

লেনিনগ্রাদ

পুস্কিন ভবন

প্রাচ্য বিদ্যাভবন

জাতিতত্ব-সংগ্রহশালা

বিশ্ববিদ্যালয় গ্রস্থাগার £ প্রাচ্য বিদ্যাবিভাগ

বর্তৃতামাল৷

বাংলার লোকশ্রুতি পরিক্রমা! ভূমিকা লৌকিক ধর্ম লোক-সাহিত্য লোক-নাট্য লোক-নৃত্য লোকাচার যাদুবিদ্যা লোক-বিশ্বাস লোক-শিল্ল লোকোৎসব

বাংলার সর্পশ্রুতি

লৌকিক দেবদেবী মঙ্গলকাব্য

যাত্রা

বাংল! নাটকের উদ্ভব সাম্প্রতিক বাংল! নাটক

৮৪ ৯২

১৭২৩

১৩৩

র্ চি

] শর্ট

4৯

[1

5891

১০৪১০

8 8. 01. নত

রঃ / ন্‌ ||| 1] পা রি

]/ ।) রে £ গা] |] | ঠা রি না শোলার উপর আকা সর্পদেবীর চিজ্রপট £ ( পৃধমৈমনপিংহ )

সৌজগ্তে প্রাপ্ত

ইহ

শা

০৩

রে ০. ৮... ০৮০০০ টি ০০ রর্লিত ৮৮৮০৮ -্ পাপ পে্্্

চিন্তামণি মনসার ঘট, কেন্দুলি গ্রাম, বীরভূম

সে জন্গে প্রাপ্ত

নাগপঞ্চমীর আলপন।, মেমনসিংহ জেলা সৌজন্টে প্রাপ্ত

শত সপ নে

সিডির ডিস

নীগঘট £ মৈমনসিংহ জলা সৌজন্যে প্রান্ত

শ্হট জেল৷

সেঁজগ্ছে প্রাপ্ত

নাগঘট

লয়ের সভাগৃহে বক্তৃতা রত বিষয়

লেনিনগ্রাদ বিশ্ববিদ্যা

বাংলার যাত্রাগান

পার

£ লুষেজিন

টা

ফা

ব্রোজজ অশ্বারোহী লেনিনগ্রা্দ নেভা নদীর তীরে সাস্ত্াজ্জী ছিতীয় ক্যাথারিণ পত সেপ্টপিটার্সবুর্গের ( লেনিনগ্রাদ ) প্রতিষ্ঠাতা পিটার

দি গ্রেটের অশ্বারোহী প্রতিমৃতি। অশ্বপদতলে সর্প বিদিলিত; 90152 [70£567081) বলে এটী পরিচিত

রুশ ভাম্কর্ধের একটি বলিষ্ঠ নিদর্শন লেখক। ফটে! ভিক্টোক্ থলিন

টি

ফিন দেশীয় শ্লেজ গাড়ী পরিশান্ত লেখকবে গ্রযুক্তা ভেরা নভিকোভা ফিনদেশীয় শ্লেজ গাড়ীতে বমিয়ে তারীভূত ফিন্‌ উপমাগরের দিকে নিয়ে যাচ্ছেন। বরফের উপর এই একমাত্র ধান। ফিনল্যাও থেকে যানটি কুশ দেশে এমেছে বলে তা ফিনদেশিয় গ্লেজ গাড়ী বলে পরিচিত। কেবলমাত্র গ্রয়োজনীয় যান হিমাবেই যে এটি ব্যবহত হর, তা নয়- শিশ্ত থেকে বৃদ্ধ পযন্ত মকলেরই বরফের উপর এটি একটি খেলার

জিনিম। মেইজন্য তা ছোটবড় অনেক আকারেরই হয়ে থাকে। * ফটো; নিবলাই নভিকাভ

মংশ্য শ্লিকার

লেলিনগ্রাদের তুধারীভৃত হনে মধ্য শিকার ; বরফের মধ্যে গর্ত খু'়নেই জন বেরোয়। হৃতোতে ধড়শি বেঁধে টোপ দিয়ে জলে ফেলে বে মাছে খাবার জন্যে লৃতে| ধরে অপেক্ষা! বরা, অবমর যাপনের একটি পরম বিলাম। পট-

ভূমিকায় হিম বনভূমি মধাস্থলে লেখক কটা; শিবচরখ মুখাগাধয

বিদ্া-পক্কানবীণ

হোটেলের ভারী বাঙ্গালী ছাত্রের দক (মর্ঘিয়

মস্কো

1

'ছোটেন রাধিয়া

নেনিনগ্রাদের

|

টে! :

শি? মুধোগাধায

রেপিনের গৃহোষ্ঠান উনবিংশ শতীষীর ্রেঠ কুশ চিত্রশিল্পী রেপিন তীর যে গরীগৃহে বাম করে মে যুগের জেট চিতা একেছেন, ভা ল্েনিনগ্রাদ থেকে কুড়ি মাইন উত্তরে ফিন উপমাগরের তীরে অবস্থিত। তার গৃহটিতে তাবুই নামে একটি মংগ্রহ- শালা (10050) প্রতিগিত হয়েছে। মেই গৃহের চারপাশে তুষারা

উষ্ঠানের একাংশে শ্রনিকলাই নভিকোভ-এর মঙ্ধে (বামে ) লেখক। কটে|; ভেরা মভিকোত।

ভুমিকা

কোলকাত৷ £ দিল্লী; তাসখন্দ; মস্কো

গত ডিসেম্বর মাসে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে অপ্রত্যাশিত ভাবে এক পত্র পাই, তা'তে জানতে পারি যে, তিন সপ্তাহের জন্য সোভিয়েত দেশে গিয়ে লেনিনগ্রাদ রাষ্তীয় বিশ্ববিষ্ঠালয়ে 'বাংলার লোক সংস্কৃতি' বিষয়ে কয়েকটি বক্তৃতা দেবার জন্য সোভিয়েত সরকার আমাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। ভারত এবং সোভিয়েত সরকার উভয়ই আমার যাতায়াত এবং অন্তান্ত সকল বিষয়ের ব্যয়- ভার বহন করবেন এবং সকল রকম ব্যবস্থ। করবেন। এখন আমার সম্মতির অপেক্ষা

ভারতবর্ষের পক্ষ থেকে বাইরে গিয়ে বক্তৃতা দেবার এত বিষয় এবং এত লোক থাকতে সোভিয়েত দেশের বিদ্বং সমাজের আমার কাছ থেকে "বাংলার লোক-সংস্কৃতি' বিষয়ে বক্তৃতা শোন্বার আগ্রহ যে কেন দেখা দিল, তা সহজে বুঝে উঠতে পারলাম না; বিশেষত £ সোভিয়েত দেশ এবং তার রীতিনীতি, তার ভাষা সব সম্পর্কে আমার কোন জ্ঞানই সেদিন ছিল না, সুতরাং এই অপ্রত্যাশিত আমন্ত্রণ পেয়ে একদিক থেকে যেমন নিজেকে পরম সম্মানিত মনে করলাম, তেমনই অন্ত দিক থেকে নিতান্ত বিপন্ন বোধ করলাম। বিশেষতঃ বিদেশ বল্তে, পাকিস্তানকে যদি বিদেশ বলা যায়, তবে কয়েক বার আমি পাকিস্তান গিয়েছি, একথা সত্য; একবার সমুদ্র যাত্রাও ভাগ্যে জুটেছিল; কিন্তু তাতেও আন্দামান-নিকোবর পর্যস্ত মাত্র গিয়েছিলাম তবে তাও অব্য ভারত সরকারের সহকারী নৃতত্ববিদ্রূপে নৃতত্ব সমীক্ষার কাজেই যেতে হয়েছিল। স্মৃতরাং সোভিয়েত দেশের এই আমন্ত্রণ গ্রহণ করবার মধ্যে আমার জীবনের

সোভিয়েতে বঙ্গ-সংস্কৃতি

সর্বাধিক দূরবর্তা বিদেশযাত্রার একটি অভাবনীয় সুযোগ লাভ করলাম। আমি আমার সম্মতি জানিয়ে দিলাম এবং বাংলার লোক-সংস্কৃতির মধ্যে কোন্‌ কোন্‌ বিষয়ে বিশেষ করে আমাকে বক্তৃতা দিতে হবে, তা জানাবার জন্য লিখলাম

রুশদেশে লোক-সংস্কৃতির যে বিশেষ চর্চা হয়ে থাকে, তা? জানবার আমার একটু স্বযোগ যে না হয়েছিল, তাও নয়; কিন্তু রুশ ভাষা না জানবার জন্তে সেই চা যে কোন্‌ ধারা বা প্রণালী অনুযায়ী হয়ে থাকে, ত1 কিছুমাত্র আমার জানবার স্থযোগ ছিল না। যতদুর মনে হয়, ১৯৫৭ সনে যখন আমি কোলকাত। বিশ্ববিদ্ভালয়ের বাংলা সাহিত্যের অধ্যাপক, তখন একদিন আমার একটি ছাত্রী এসে আমাকে বলল, একজন রুশ মহিলা আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ কর্তে চান।

আমি তাকে বললাম, আমি রুশ ভাষ। জানিনে, আমি কি করে তার সঙ্গে আলাপ কর্ব ?

সে বল্ল, তিনি চমৎকার বাংলা বল্তে পারেন। তিনি বাংলাতেই আপনার সঙ্গে আলাপ কর্তে পারবেন।

আম তাকে আমার কাছে নিয়ে আস্বার জন্তে বল্লাম। বিশ্ববিদ্ালয়েই তিনি এসে আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন, বাংলা ভাষায় তিনি আমাকে নমস্কার জানিয়ে আমার ক্লাশ করবার জন্টে তিনি অনুমতি চাইলেন

আমি বললাম, আমি এখন মনসা-মঙ্গল পড়াচ্ছি, আপনি তার কি বুঝবেন? বাংল! সাহিত্যের তা একখানি প্রাচীন গ্রন্থ, দেবদেবী এবং ধর্মের কথাও তা'তে আছে।

তিনি বল্লেন» আমি এই বিষয়ই পড়তে চাই, আমি বেশ বুঝতে পারব, আপনি দেখবেন

আমার একটু কৌতুহল হলো, তাঁর পরিচয় জিজ্ঞাসা করলাম তিনি তার পরিচয় দ্রিয়ে বললেন, তিনি লেনিনগ্রাদ রাস্ীয় বিশ্ব- বি্ভালয়ের প্রাচ্য বিছ্ভা1! বিভাগের অস্তভূক্ত ভারতীয় শাখার অধ্যক্ষা,

ভূমিকা বাংলা ভাষ! বাংল। দেশের সংস্কৃতি বিষয়ে একটু বিশেষ জ্ঞান লাভ করবার জন্যে ভারতে এসেছেন। তিনি ইতিপূর্বেই বাংলা সাহিত্য থেকে কিছু কিছু রুশ অনুবাদ করেছেন, বঙ্কিমচন্দ্রের কয়েকখানি উপন্যাসের অনুবাদ ইতিপূর্বেই প্রকাশিত হয়েছে, আসন্ন রবীন্দ্র-জন্ম শতবাষিকাঁ উৎসব উপলক্ষে সমগ্র রবীন্দ্র-রচনাবলীও অনুবাদ করবেন, সে কাজ দ্রুত অগ্রসর হয়ে চলেছে। শুনে তার উপর আমার শ্রদ্ধা হোলো ; রকম অনুমতি দেবার আমাদের কোন অধিকার আছে কি না, না জেনেই আমি তাকে আমার ক্লাস করবার কথা বল্লাম। তারই নাম শ্্রীযুক্তা ভেরা নভিকোভা, রুশ দেশের সাম্প্রতিক সাংস্কৃতিক জীবন সম্পর্কে ধার সামান্তও জ্ঞান আছে, তিনিই আজ তার নাম জানেন এবং অনেকে তার সঙ্গে ব্যক্তিগত ভাবে পরিচিত হবারও সৌভাগ্য লাভ করেছেন।

তার পরদিন থেকে আমি দেখতে পাই, তিনি নিয়মিত আমার “মনসা-মঙ্গলে'র ক্লাসে উপস্থিত থাকেন। বয়সে তিনি একটু প্রবীণ হলেও বয়ঃকনিষ্ঠা ছাত্রীদের সঙ্গে একত্রই তিনি ক্লাসের বেঞ্চিতে বসে আমার বক্তৃতা শোনেন এবং মধ্যে মধ্যে মাথা নীচু করে বইয়ের পাতার ধারে ধারে কি সব লিখে যান

ছাত্র-ছাত্রীরা যাতে আমার কথা কিছুই লিখে নিতে না পারে সে জন্য আমি বেশ দ্রুত আমার ক্লাসের বক্তৃতা দিয়ে থাকি ; কারণ, আমি জানি লিখলেই তারা ভুল লিখবে এবং সেই ভুল আমার ঘাড়ে চাপিয়ে দেবে | “তং বদ মা লিখ নীতিতে আমি খুব বিশ্বাসী ; কিন্তু তা" সত্বেও দেখতে পাই, ছু একজন ছাত্র-ছাত্রী-_বিশেষতঃ ছাত্রী আমার কথাগুলো! প্রায় নিভল লিখে নিতে পারে ; কিন্ত অধিকাংশই লেখনী উদ্যত করে শূন্য খাতা সামনে নিয়ে চুপ করে বসে থাকে, লেখ বার সুবিধা করতে পারে নী এই অবস্থায় শ্রীমতী নভিকোভা আমার কথ। কতদূর বুঝতে পার্ছেন এবং কি-ই বা! তার লিখে নিচ্ছেন, তা৷ জান.বার জন্য কৌতুহল হোলে।। একদিন তিনি নিজে থেকেই আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে এলেন।

সোভিয়েতে বঙ্গ-সংস্কৃতি

আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, ক্লাসে আমার কথা কি আপনি বুঝতে পারেন? আপনার জন্যে আমি সহজ করে কিংব! ধীরে ধীরে কোন কথা। বলি নে।

তিনি বল্লেন, আপনার কথা আমি চমৎকার বুঝতে পারি। বলে আমাদের বিভাগের আরও একজন অধ্যাপকের নাম করে বল্লেন আমি তার কথাও বেশ বুঝতে পারি ; কিন্ত আর কারে কথাই আমি বুঝে উঠতে পারিনে, ভাষা খুব শক্ত বলে মনে হয়।

সহজ বিষয়কে কঠিন করে বলতে না পারলে অধ্যাঁপনার, বিশেষ করে বাংলার অধ্যাপনার, কোন মূল্য থাকে না। তার কথা শুনে আমি ভাবলাম-__তাইত, তা হলে আমার কথা যখন একজন স্বল্প বাংলাঁজানা বিদেশিনীও বুঝতে পারেন, তবে আমার অধ্যাপনার কোন মূল্যই নেই। কিন্তু আমি বুঝতে পারলাম, তার মূল্য বাড়ানো আমার পক্ষে এখন আর সম্ভব নয়, এ' বয়সে আর নতুন করে ছুরূহ এবং ছবোধ্য হতে পারব না। সুতরাং শ্রীযুক্তা নভিকোভা আমার অধ্যাপনা! কার্ধকে সেদিন প্রশংসা কিংবা নিন্দা করলেন, তা আমি তখন বুঝে উঠতে পারি নি। সেজন্য তার কথায় যে একটা খুব খুসী হয়েছিলাম, তাও বল্তে পার্ব না।

সপ্তাহে একদিন করে “মনসা-মঙ্গলে'র ক্লাস হতো, আমি শ্রীযুক্ত! নভিকোভাকে প্রতি সপ্তাহেই আমার ক্লাসে উপস্থিত দেখতে পেতাম। মধ্যে মধ্যে তিনি আমার বস্বার ঘরে এসেও কোন বিষয় নিয়ে আলোচনা করতেন, তা থেকেই আমি বুঝতৈ পেরেছিলাম, তিনি যে আমার ক্লাসের কথাগুলো শুধু বুঝতেই পাচ্ছিলেন তাই নয়, গভীর ওৎসুক্যের সঙ্গে অনুসরণ করে যাচ্ছিলেন অথচ আমাদের ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে মনসা-মঙ্গলের মত সেকেলে একখানি বই সম্পর্কে কৌতুহল স্থৃষ্টি করতে আমাকে গলদঘর্ম হতে হতো, তাঁও শেষ পর্ধস্ত অরণ্যে রোদনের মত হয়ে দাড়াত।

ভূমিকা

প্রায় এক বছর ক্লাস করবার পর শ্রীযুক্ত নভিকোভা একদিন আমাকে বল্লেন, এবার আমার দেশে ফিরে যাবার পালা, যাবার আগে একদিন আপনার সঙ্গে সাক্ষাৎ কর্তে চাই।

আমি ঠাকে আমার বাড়ীতে একদিন সন্ধ্যায় চাঁপানের জন্য নিমন্ত্রণ করলাম, তিনি সাগ্রহে সেই নিমন্ত্রণ গ্রহণ করলেন

সে দ্িন তিনি বল্লেন, তার স্বামী শ্রীযুক্ত নিকলাই নভিকোভ রুশদেশীয় লোক-সাহিত্যের একজন বিশেষজ্ঞ ; প্রায় পঁচিশ বছর ধরে সোভিয়েত দেশীয় 4089610 90161)০6-এর অস্তভূক্ত [17500566 06130551819 [,102180016) 13051 1[70056-এর লোক-সাহিত্য বিভাগে গবেষণার কার্ষে রত আছেন। তিনি তার কাছ থেকে আমার বাংলার লোক-সাহিত্য বিষয়ক গবেষণার কথা জানতে পেরে সম্পর্কে গভীর ওঁৎসুক্য প্রকাশ করেছেন এবং তার রচিত রুশ লোক-সাহিত্য বিষয়ক কিছু কিছু রুশ ভাষায় লিখিত গ্রন্থ আমার জন্য উপহার পাঠিয়েছেন তবে তিনি রুশ ছাড়া আর কোন ভাষ! জানেন না, সেজন্য ইংরেজি ভাষায় কোন বই আমাকে উপহার পাঠাতে পারলেন ন! বলে ছঃখ প্রকাশ করেছেন। তিনি আমার কাছে একটি বিষয় চেয়ে পাঠিয়েছেন__বাংলা দেশে পর্যস্ত বাংলা লোক-সাহিত্য বিষয়ে যে অন্ুশীলন হয়েছে, তার একটি বিস্তৃত বিবরণী ইংরেজিতে লিখে শ্রীযুক্তা নভিকোভার হাত দিয়ে তার কাছে পাঠিয়ে দেবার জন্য তিনি আমাকে অনুরোধ জানিয়েছেন, শ্রীযুক্তী নভিকোভার সাহায্যে রুশ ভাষায় অনুবাদ করে তা" তিনি 17%55227; £701%101৪-নামে যে লোক-সাহিত্য গবেষণ। বিভাগের বাৎসরিক পত্রিকা প্রকাশিত হয়, তাতে প্রকাশ করবেন ; লেখক হিসাবে তা'তে আমারই নাম থাকৃবে

আমি সানন্দে স্বীকৃত হলাম এবং তাঁর দেশে রওয়ান৷ হবার আগেই তার কাছে তা" পৌছে দেব বলে তাকে আশ্বাস দিলাম। তারপর তার স্বামীকে উপহার দেবার জন্য আমার কয়েকখানি লোক-সাহিত্য বিষয়ক বাংলা বই এবং ইংরেজি

সোভিয়েতে বঙ্গ-সংস্কাতি

প্রবন্ধের পুনমুক্্রণ (16-01106) তার হাতে দিলাম। যথা সময়ে তার প্রাধিত প্রবন্ধটিও লিখে শ্শ্রীযুক্তা নভিকোভার হাতে দিলাম। সবগুলো বিষয়ই তিনি তার স্বামীকে রুশ ভাষায় অনুবাদ করে বুঝিয়ে দেবেন বলে আমাকে আশ্বাস দিলেন। 90805 [01] 11662196016 10 72176911 নামে যে প্রবন্ধটি লিখে তার হাতে দিয়েছিলাম, তা'তে উনবিংশ শতাব্দীর প্রথম থেকেই খৃষ্টান ধর্মপ্রচারকদের বাংলা প্রবাদ সংগ্রহ থেকে আরম্ত করে, ১৮৭৩ সনে জর্জ গ্রায়ারসনের মাণিকচন্দ্র রাজার গানের সংগ্রহ, ১৮৮১ সনে রেভাঃ লালবিহারী দের 701762195 1321221- এর প্রকাশ তারপর রবীন্দ্রনাথের এই বিষয়ক আগ্রহ তার ছেলে ভূলানো ছড়ার সংগ্রহ আলোচনা, তার লোক-সাহিত্য গ্রন্থের প্রকাশ, বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের এই বিষয়ক প্রয়াস, দক্ষিণারঞ্ন মিত্র মজুমদার, দীনেশচন্দ্র সেন রামেন্দ্স্ন্দর ত্রিবেদীর প্রচেষ্টা এবং স্তার আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের উৎসাহে কোলকাতা বিশ্ববিদ্ভালয় কর্তৃক ময়মনসিংহ গীতিকা?, পূর্ববঙ্গ গীতিকা, নাঁথগীতিক1 ইত্যাদির অনুসন্ধান এবং বাংলা এবং ইংরেজিতে তাদের প্রকাশ, গুরুসদয় দত্তের ব্রতচারী আন্দোলন এবং লোক-সংস্কৃতির পুনরুদ্ধারের প্রয়াস এই সব বিষয় বিস্তৃতভাবে আলোচিত হয়েছিল শ্ত্রীযুক্তা নভিকোভার অনুরোধে এই বিষয়ে আমার নিজেরও অকিঞ্চিংকর প্রয়াসের কথা তা'তে যুক্ত করতে হলে৷।

শ্রীযুক্ত নভিকোভা অল্পদিনের মধ্যেই দেশে ফিরে গেলেন। তার কিছুকাল পর একখানি 7১%5521 701%1979 নামক বৃহৎ গ্রন্থ তার কাছ থেকে উপহার লাভ করলাম। তা'তে দেখতে পেলাম, বাংল! দেশের লোক-সাহিত্যের অনুশীলন বিষয়ে আমি যে প্রবন্ধটি লিখেছিলাম, তাতে তা৷ রুশ ভাষায় অনুদিত হয়ে মুদ্রিত হয়েছে ।. আমার বোঝবার সুবিধার জন্যে শ্রীধুক্তা নভিকোভা। তা লাল পেন্সিল দিয়ে দাগ দিয়ে করে দিয়েছেন। একজন রুশ ভাষ! জানা বন্ধুকে বাড়ীতে চায়ের নিমন্ত্রণ করে নিয়ে এসে তাকে দিয়ে

ভূমিকা প্রবন্ধটি অনুবাদ করিয়ে বুঝতে পারলাম, আমি য৷ লিখে দিয়েছিলাম, তা সবই অনুবাদ করে প্রকাশ কর! হয়েছে এমন কি, আমার নিজের বিষয়টিও তা? থেকে বাদ যায় নি।

কিছুদিন পর শ্ত্রীযুক্তা নভিকোভা লেনিনগ্রাদ থেকে আমাকে একখানি চিঠি লিখে জানালেন যে, আমি আমার উক্ত প্রবন্ধে দক্ষিণারঞ্রন মিত্র মজুমদার সঙ্কলিত যে ছু'খানি বইয়ের কথা উল্লেখ করেছি__ঠাকুমার ঝুলি” ঠাকুরদাদার ঝোলা_এই বই ছ'খানি তিনি রুশ ভাষায় অনুবাদ করতে চাঁন, আমি যেন এই ছুখানি বই সত্বর তার কাছে ডাকে পাঠিয়ে দি আমিও কাঁলবিলম্ব না করে ছুখানি বই তার কাছে পাঠিয়ে দিলাম তিনি ধন্যবাদ সহকারে তার বিনিময়ে প্রচুর রুশ ভাষার লোক-সাহিত্যের গ্রন্থ আমার নামে উপহার পাঠালেন। উপহার প্রাপ্ত রশ বইয়ের সংখ্যা আমার ক্রমাগতই বাড়তে লাগল। সুন্দর বাধাই স্মুপরিচ্ছন্ন মুত্রিত বইগুলোর দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে কোনদিন ভাবি-যদি এগুলো! পড়তে পারতাম! কিন্তু সময়ের অভাবে এবং নানা কাজের চাপে মনের অভিলাষ মনেই রয়ে যেত, বাইরে প্রকাশ কর্‌তে পারতাম না।

এই ভাবেই দিন যায়। শ্ত্রীযুক্তা নভিকোভা চিঠিপত্রের সংযোগ কোন দিন বিচ্ছিন্ন হতে দেন না স্বামীর স্বাক্ষরিত রুশ ভাষার লোক-সাহিত্যের বই নিয়তই উপহার আসে; নববর্ষের শুভেচ্ছা! বিনিময় চলে এইভাবে প্রায় ছয় বছর কাটে, তার মধ্যে ্রীযুক্তী নভিকোভা অল্পদিনের জন্য একবার কোলকাতায়ও এসেছিলেন ; কিন্ত আমি তখন কোলকাতার বাইরে ছিলাম বলে, তার সঙ্গে তখন সাক্ষাৎ হয় নি। তারপর সহস। ভারত সরকারের পক্ষ থেকে এই চিঠি

চিঠি পেয়েই আমার সন্দেহ হোল যে, তার মধ্যে নিশ্চয়ই নভিকোভা-দম্পতির কোন হাত আছে; সেইজন্য তাদেরও এই সংবাদ জানালাম। প্রথম চিঠিখানির কোন জবাব পেলাম না,

সোভিয়েতে বঙ্গ-সংস্কৃতি

ভাবলুম কি ব্যাপার! নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে যখন আর একখানি চিঠি লিখলাম, তখন তার জবাবে শ্ত্রীযুক্তা নভিকোভা' লিখ লেন-- লেনিনগ্রাদ ২১১৬৪

শ্রীচরণেষু।

আজকে আপনার নববর্ষের শুভেচ্ছা জ্ঞাপক পত্র পেলুম আপনি যে লেনিনগ্রাদ বিশ্ববিষ্ভালয়ে বাংলার লোক-সাহিত্য সম্পকে বক্তৃতা দিবার জন্য নিমন্ত্রণ পেয়েছিলেন শুনিয়া আমরা খুব খুসি হ'লাম। খুবই আনন্দের কথা যে আমাদের চেষ্টা নিষ্ষল হল না। এই বিষয়ে আপনি আগে যে চিঠি লিখেছিলেন তাহা! আমি এখনও পেলুম না যতই শরীত্র তাহা পাব ততই উত্তর দিব

লোক-সাহিত্যের ছাড়া আপনি বাংল! নাটকের সম্পর্কে বক্তৃতা দিবার জন্য প্রস্তত হলে ভাল হবে। ফেব্রুয়ারী মার্চ মাসে' আমাদের দেশে খুব শীত, সে জন্য শীতকাপড় নিন

আমারা সব কুশলে আছি এবং আপনার সঙ্গে দেখা করার জন্য অপেক্ষা করছি। আপনার সোভিয়েত দেশের যাত্রা কল্যাণ প্রসন্ন হউক আমার স্বামীর আমার শুভকামনা নিন

ইতি-_- আপনাদের ভেরা নভিকোভা'

এই চিঠি পেয়ে এই ভেবে একটু আশ্বস্ত হলাম যে যত দূর- প্রবাসই হোক, সেখানে গিয়ে পৌছুতে পারলে অস্ততঃ একটি পরিবারের কাছ থেকে পরিচিতের সমাদর লাভ করতে পারব। প্রবল শীতের আশঙ্কা থাকা সত্বেও মার্চ মাসের প্রথম দিকেই আমার সোভিয়েত যাত্রার দিন স্থির করলাম

পাশপোর্টের হাঙ্গামা কাটিয়ে উঠতে উঠতে মার্চ মাসের ১০ দিন চলে গেল, তবু “ভিসা” এখনও জুট্ল না। কোলকাতার রুশ দূতাবাস জানাল, দিল্লী গেলে তাড়াতাড়ি ভিসা পাওয়া যাবে ; আর

ভূমিক। বিলম্ব না করে ১২ই মার্চ বিমান যোগে মস্কোর পথে দিল্লী রওয়ানা হলাম। সেদিনকার নতুন প্রবতিত ক্যারাভাল বিমানে দিল্লী যাত্রার কথা আজীবন স্মরণীয় হয়ে থাকৃবে। শীতের শেষরাত্রিকে উপেক্ষা করেও বিমান-বন্দরে কয়েকটি ছাত্রছাত্রী উপস্থিত ছিল, পরিবারের লোকজনও ছিল। বিমান ছাড়বার মুহুর্তে একটি ছাত্রী তার স্বামীর সঙ্গে এসে হাজির হলো-_এসব দেখেশুনেও মন একটুকুও বিচলিত হলো না। সকাল টায় দমদম থেকে রওয়ানা হয়ে আটটার আগেই অর্থাৎ ছু'ঘণ্টার কম সময়ের মধ্যেই দিল্লীর পালাম বিমান- বন্দরে গিয়ে পৌছলাম। বিমানে উত্তর দিকের জানলার ধারে বস্বার আসন পেয়েছিলাম দমদম থেকে বিমান ছাড়বার কিছুক্ষণের মধ্যেই সূর্যোদয় হলো

ভোরের আকাশ হচ্ছ নির্মল, ত্রিশ হাজার ফুট উপর দিয়ে অর্থাৎ এভারেস্টের সমান উচু পথ দিয়ে যখন দ্রুতগতি বিমান চল্ছিল, তখন হঠাৎ উত্তর দিকে তাকিয়ে এক অপূর্ব দৃশ্য দেখতে পেলাম-_সাদা মেঘের উপর দিয়ে সারি সারি মাথা তুলে হিমালয়ের তুষার শৃঙ্গগুলো যেন নিস্তব্ধ হয়ে ধ্যানাসনে বসে আছে, প্রভাত- সুর্যের আলো! তাদের গায়ে সোনার রঙ মাখিয়ে দিচ্ছে। এমন নির্ল আকাশ কদাচিৎ দেখতে পাওয়া যায়। তাই এই দৃশ্যও সহজে চোখে পড়ে না; আজ আমার সুদূর প্রবাস-যাত্রার পথের পাশে দাড়িয়ে যেন ভারতের অতিবৃদ্ধ পিতামহগণ আমাকে তাদের মৌন আশীর্বাদ জানালেন। দেখতে দেখ তে দেড় ঘণ্টা সময় যে কি ভাবে কেটে গেল, বুঝতেই পারলাম না, পালাম বিমান বন্দরে যখন নামতে শুরু করলাম, তখন চমক ভাঙ্গল

দুদিন দিল্লীতে নিরবচ্ছিন্ন কর্মব্যস্ততার মধ্যে কাটিয়ে ১৪ই মার্চ ভোর বেলা আধুনিকতম রুশ বিমান “এরোফ্রোটে? মস্কো যাত্র! স্থির হলো। ভোর সাড়ে পাঁচটায় নয়! দিল্লী এয়ার ইগডিয়া ইণ্টার ম্যাশনেলের আপিসে এসে হাজিরা দিতে হবে। সারা রাত্রি সেদিন আর ঘুম হলো না। তবে সেই জাগরণে আমার একটু পুণ্য সঞ্চয়

১০ সোভিয়েতে বঙ্গ-সংস্কৃতি

হয়েছিল। সেদিন ছিল শিবরাত্রি রাত্রি জাগরণ সেদিন অতি পুণ্যকর্ম। স্থতরাং আমার পক্ষে এই পুণ্যটুকু সহজেই সঞ্চয় করা হলো। শেষরাত্রি চারটার সময়ই ট্যাক্সি এসে হোটেলের দ্বারে হাজির হলো নয়া দিল্লীতে গিয়ে এয়ার ইপ্ডিয়ার আপিসে যখন পৌছুলাম, তখন সাড়ে পাঁচটা বাঁজবার অনেক দেরী বস্বার ঘরের দরজা তখনও খোলাই হয় নি। দিলীতে শেষরাত্রে তখন প্রচণ্ড শীত, ট্যাক্সি থেকে মালপত্র আপিসের দরজায় নামিয়ে রেখে বাইরেই চুপ করে একাকী দাড়িয়ে রইলাম। সারারাত ধরে মস্কোর শীতের পোশাক পরেছি, তার প্রথম সদ্ব্যবহার এখানেই হয়ে গেল।

কিছুক্ষণের মধ্যেই একজন শ্বেতাঙ্গিনী মধ্যবয়স্ক যাত্রিণী এসে সেখানে হাজির হলেন। তিনিও সেই বিমানেই কোথাও নিশ্চয়ই যাবেন বলে মনে হলো তিনিও তার জিনিসপত্র বিমান আপিসের দরজার কাছে নামিয়ে রেখে সেখানে চুপ করে দীড়িয়ে রইলেন আমার দিকে একবার তাকিয়ে দেখেও চুপ করে রইলেন ; সম্ভবতঃ তিনি মনে করলেন, আমি তার ভাষ! জানিনে। আমিও চুপ করেই দাড়িয়ে রইলাম সাড়ে পাঁচটা বেজে যাবার পরও আর কোন যাত্রী কিংবা আপিসের কোন কর্মচারী কেউ সেখানে এলো না প্রচণ্ড শীতের মধ্যে আমরা ছ'জন নিঃশবে দীড়িয়ে রইলাম এয়ার ইণ্ডিয়া আপিসের বসবার ঘরের দরজাটি 92]£ 079) 9০০7 অর্থাৎ আপন থেকে খুলে যায় ; কিন্ত তার সামনে একটা শিকলের গণ্ডী টেনে দিয়ে আপিস যে বন্ধ, তা বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে ; সেই শিকলটি ডিঙ্গিয়ে সহজেই ভিতরে ঢুকৃতে পারা যায়ঃ আমি আর ছড়িয়ে থাকৃতে পারলাম না।

শ্বেতাঙ্গিনী যাত্রীকে উদ্দেশ করে ইংরেজিতে বল্লাম, আমরা এখন ভিতরে গিয়ে বসতে পারি। বলে আমি গণ্ভী ডিঙ্গিয়ে দরজার সামনে দাড়াতেই দরজা আপনা থেকেই খুলে গেল। আমি ভিতরে গিয়ে ঢুকে একটা সোফায় বসে পড়লাম। মহিলা যাত্রীটিও নিঃশব্দে আমার অনুসরণ করলেন।

ভূমিকা ১১

কিছুক্ষণের মধ্যেই একজন কর্মচারী এলেন। কাছে এসে আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, কোথায় যাব।

আমি বল্লাম, মস্কো শ্বেতাঙ্গিনী যাত্রী বললেন, তিনি যাবেন সমরখন্দ-_-তাসখন্দ পর্যস্ত আমাদের বিমানে গিয়ে সেখান থেকে অন্য বিমানে যাবেন। এয়ার ইপ্ডিয়ার কর্মচারী একটা ট্যাক্সি ডেকে আনলেন আমাদের ছু'জনকে ট্যাক্সিতে তুলে দিয়ে পালাম বিমান বন্দরে নিয়ে যাবার জন্য ট্যাক্সিওয়ালাকে বলে দিলেন। আমাকে বললেন, ট্যাক্সির ভাড়া আপনারা দেবেন না, ওখান থেকেই সে পাবে।

তখনও দিল্লী নগরী অন্ধকারে আচ্ছন্ন। ছু'একটা গাড়ী শেষ- রাত্রির নীরবতা মুহূর্তের জন্য মাত্র ভেঙ্গে দিয়ে অন্ধকারে মিলিয়ে যাচ্ছে। আমি শ্বেতাঙ্গিনী সহযাত্রিণীকে পাশে নিয়ে নিংশকে বিমান বন্দরের দিকে চলেছি। সুপ্ত দিল্লী নগরীর আলোকোজ্জল রূপ পেছনে পড়ে রইল অন্ধকার গ্রামের পথে গিয়ে প্রবেশ করলাম। আমার সহযাত্রিণী স্তব্ধ হয়ে আমার পাশে বসে রইলেন যখন এই নীরবতা কেবল ছুঃসহই নয়, আমার আছে অসৌজন্যপুর্ণ বলে মনে হলো তখন আমিই সেই নীরবতা ভঙ্গ করে ইংরেজিতে বললাম, আজ শীতট। খুব পড়েছে

তিনি একটু নড়েচড়ে বসেও গায়ের ওভারকোটট1 আরও একটু এটে সেটে দিলেন মাত্র, মুখে কোন কথাই বল্লেন না। আমি সিদ্ধান্ত করলাম, তিনি ইংরেজি জানেন না। কিন্তু বিমান- বন্দরে গিয়ে শুন্তে পেলাম, তিনি কর্মচারীদের সঙ্গে সুন্দর ইংরেজিতে কথা বল্ছেন।

যাই হোক, সকাল সাতটার আগেই বিমানে গিয়ে আরোহণ করা গেল। বিমানটি কাল শেষরাত্রে জাকার্তা থেকে রেঙ্গুন হয়ে সোজা দিল্লী এসেছে বিদেশী যাত্রীতে ভতি; ছু'তিনজন যাত্রী দিল্লী নেমে গেলেন, তাই ছু তিনটি আসন সেখানে খালি হয়েছিল। তার মধ্যে একটি আসন আমার জন্য ছিল; রুশ আকাশ-নন্দিনী (4

১২. সোভিয়েতে বঙ্গ-সংস্কৃতি

1105559) নিজন্ব ভাষায় অভিনন্দন জানিয়ে আসনটি আমাকে দেখিয়ে দিলেন। আমি আমার ওভারকোট সহই তা'তে বস্তে যাচ্ছিলাম, এমন সময় আকাশ-নন্দিনী কিছু না বলেই আমার গা' থেকে ওভারকোটটি খুলে নিয়ে সামনের দিকে স্টোরের কাছে: একট] 1:87£০1-এর মধ্যে নিয়ে তা ঝুলিয়ে রাখলেন সেখানে: অন্থান্য যাত্রীদের ওভারকোট্গুলোও সারি সারি ঝুল্ছিল।

দেখ তে দেখ তে রোদ উঠে শীতের কুয়াসা কেটে গেল আবার' সেদিনকার মত সুনির্ল নির্মেঘ আকাশ ৭"১০ মিনিটে পালাম্‌ বন্দর থেকে তাসখন্দ অভিমুখে বিমানটি যাত্রা করল। সেদিন শিব- চতুর্দশীর পরের দিন, অর্থাৎ অমাবস্তা, শনিবার__হয়তো বারবেলাও' ছিল। এমনি দিনে ভারতের মাটি ত্যাগ করলাম

কাশ্মীরের উপর দিয়ে হিমালয়ের তুষার-শূঙ্গ অতিক্রম করে' ধএরোক্লাট” বিমান প্রথমতঃ চীন দেশের সীমানায় প্রবেশ করে, তারপর মধ্য এসিয়ার উপর দিয়ে পূর্বদিকে গিয়ে সোভিয়েত দেশের' সীমানার মধ্যে পৌছোয় ; পাকিস্তান আফগানিস্তানের উপর দিয়ে যে সোজা পথ আছে, ত। পরিত্যাগ করে যায়। আমার পাশেই যে রুশ যাত্রীটি বসেছিলেন, তিনি অস্ট্রেলিয়া থেকে জাকার্তায় এসে' এই বিমানটি ধরেছেন, তিনি ইংরেজি বলতে পারেন। আমাকে একটি মানচিত্র ধরে আমাদের এরোফ্লোট? বিমানের যাত্রাপথটি বুঝিয়ে দিলেন

কিছুদূর গিয়েই নীচের দিকে তাকিয়ে এক অপূর্ব দৃশ্য দেখতে পাওয়া গেল। আকাশের প্রাস্ত পর্যস্ত যতদূর চোখ যায়” কেবল অগণিত পর্বতমালার তুষারাচ্ছন্ন শৈলের স্থির তরঙরাশি, প্রভাতনূর্যের আলোকে পৃথিবীর ব্বর্ণ-কিরীটের মত শোভমান। এ' যেন রূপকথার রাঁজ্যের আকাশ দিয়ে আমর! নিরুদ্দেশের পথে উড়ে: চলেছি আমি যে আসনটিতে বসেছিলাম, তা' জানালা থেকে ছু'টি আসন বাদ দিয়ে একটু দূরে পড়ে গিয়েছিল। জানালার পাশেই একজন রুশ যাত্রী বসেছিলেন, তার আসনটি দেখে তার প্রতি আমার"

ভূমিকা ১৩ মনে মনে খুব ঈর্ষা হচ্ছিল। কারণ, বাইরের এই দৃশ্য দেখবার পক্ষে ধ্সেই আসনটিই যথার্থ উপযোগী ছিল।

আমাকে বার বার উৎকণ্ঠ হয়ে জানালার দিকে তাকাতে দেখে সেই রুশ যাত্রী ইংরেজি ভাষায় আমাকে জিজ্ঞেস কল্লেন, 'এই পথে তুমি বুঝি আর কোনদিন আস নি আমি বল্লাম, "না এই পথে আপনি আর কোনদিন আসো নি! এমন ভাবে কথাট। বল লাম যে, পৃথিবীর অন্যান্য পথে আমি সর্বদাই বিমানে ঘুরে বেড়িয়ে থাকি, কেবল এই পথটিই আমার পক্ষে দেখ! হয় নি। বিশেষতঃ রুশ বিমান বিভাগ বিমানের “এরোফ্রেট” হিমালয়ের উপর দিয়ে এই পথটি সম্প্রতি খুলেছে সুতরাং আমার পক্ষে এই পথ দিয়ে নৃতন যাওয়া কিছুই আশ্চর্য নয়। আমার বিদেশী প্রশ্নকর্তাও এই পথে নতুন আসবার জন্য আমাকে বিমান- যাত্রী হিসেবে অরাচীন বলে মনে করলেন না।

তবে তিনি যে এই পথে আরও এসেছেন এবং গেছেন, সেকথা তিনি বল্লেন। তিনিও অস্ট্রেলিয়া থেকে এসে জাকার্তায় এই বিমানটি ধরেছেন।

তিনি একটি আশাতীত সৌজন্য প্রকাশ করে বল্লেন»_আপনি এসে আমার আসনটিতে বন্থুন, আপনার আসনটি আমাকে দিন।

বলেই উঠে দাড়িয়ে তার আসনটি ছেড়ে আমায় বসতে বল্লেন আমি হলে কোন সিংহাসনের বিনিময়েও সেই আসনটি কাউকে ছেড়ে দিতাম না; কারণ, চোখ মেলে যেখান থেকে দেখে রূপকথার রাজ্যে এত সহজে প্রবেশ করা যায়, সেস্থান কাউকে ছেড়ে দেবার মত উদারতা আমার নেই, একথা প্রচার করতেও আমার কোন লজ্জা নেই। সেজন্য এই অপরিচিত রুশযাত্রীর এই অভাবনীয় উদারতার পরিচয় পেয়ে আমি যেমন তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলাম, তেমনই মনে মনে বিন্ময়ও বোধ করলাম। আমি জানালার পাশে সেই আসনটি দখল করে মন্ত্র মুগ্ধের মত বাইরের দিকে তাকিয়ে রইলাম। হিমালয়ের উচ্চ শ্রঙ্গগুলোর উপর দিয়ে বিমান

১৪ সোভিয়েতে বঙ্গ-সংস্কৃতি

চলেছে, নীচের দিকে তাকালে শুভ্র তুষারের স্বপ্ন, সূর্যের্ছআলোয়' সোনালি মায় মাখিয়ে রেখেছে ছই তুষার-শৃঙ্গের মাঝখানে তুষারাচ্ছন্ন উপত্যকা উচ্চ নীচ তুষার-শৃঙ্গের কঠিন তরঙ্গলীলা। '£এই ভাবে প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা বিমান চল্বার পর, তুষারমুক্ত সমতল ভূমি নীচে দেখতে পাওয়া গেল বিমান উজবেকিস্তানের-রাজধানী তাসখন্দের নিকটবতাঁ হলো সোভিয়েত দেশে এখানেই প্রথম ভূমি স্পর্শ কর্তে হবে

প্রায় সাড়ে দশটার সময় তাসখন্দ বিমান বন্দরে এসে বিমানটি নাম্ল। ইতিপূর্বেই যাত্রীদের উদ্দেশে রুশ এবং ইংরেজি ভাষায় ঘোষণ করে দেওয়া হয়েছিল যে, যতক্ষণ পর্যন্ত ডাক্তারী ছাড়পত্র পরীক্ষা করা ন। হয়, ততক্ষণ কোন যাত্রী যেন তার নিজের আসন ছেড়ে না ওঠেন। বিমান স্থির হয়ে দীড়াবার সঙ্গেসঙ্গেই একজন নাসের পোশাক ধারিণী প্রৌঢা মহিলা একটি কাচের গ্লাসের মধ্যে কতকগুলে। অস্বাভাবিক রকমের বড় থার্মোমিটর' নিয়ে আসনস্থ প্রত্যেক যাত্রীর হাতে দিতে লাগলেন, যাত্রীরা তা নিজেরাই বগলের নীচে পুরে চুপ করে বসে রইল একজন পুরুষ কর্মচারী প্রত্যেকের ডাক্তারি ছাড়পত্রগুলো৷ একে একে পরীক্ষা করে যেতে লাগলেন

থাঁর্মোমিটর বিতরণ এবং ছাড়পত্র পরীক্ষার পর প্রত্যেক যাত্রীর কাছ থেকে থার্মোমিটর'গুলো একে একে ফিরিয়ে নেওয়ার কাজ আরম্ভ হলে! এক-একজন যাত্রীর হাত থেকে যন্ত্রটি ফিরিয়ে নেবার সময় উক্ত পুরুষ কর্মচারীটি ( সম্ভবতঃ ডাক্তার ) ত1 খুব নিবিষ্ট ভাবে দেখে নিতে লাগলেন। দেখেশুনে আমার আপনা থেকেই জ্বর এল বলে মনে হলো ভাবলাম, এইবার বিমান থেকে নামিয়ে হয় আমাকে হাসপাতালে পাঠিয়ে দেবে, নয়তো, হিমালয় ডিঙ্গিয়ে ভারতবর্ষে ফিরিয়ে পাঠাবে ভয়ে ভয়ে আমার থার্মোমিটরটি

গ্রহকারীর হাতে দিলাম। তিনি খুব নিবিষ্ট হয়ে তা কিছুক্ষণ ধরে'

দেখে তার কাচের গ্লাসের মধ্যে তা" পুরে নিলেন। ঘাম দিয়ে, আমার জ্বর ছেড়ে গেল।

ভূমিকা ১৫ এই ভাবে ভাক্তারী পরীক্ষা যখন সবারই শেষ হলো, তখন “মাইকে” ঘোষণা করা হলো যে ধাত্রীদের এখন বিমান থেকে নেমে নিকটবর্তী কাস্টমস চেক অফিসে গিয়ে 09560103 02018180100 লিখে দিতে হবে একে একে সব যাত্রী এবার বিমান থেকে নামতে লাগল আমিও নেমে পড়লাম রোদ উঠেছে, কিন্তু রোদের সে তেজ নেই। মাটিতে কোথাও বরফের লেশমাত্র নেই। কিন্ত গাছের পাতাগুলে। সব ঝর! ; মনে হলো, কিছুদিন আগে তুষার পাতের ফলে সব পাতা ঝরে পড়েছে বসস্তের নোতুন পাতার আবির্ভাবের জন্য এখনো তাদের তপস্তা শেষ হয়নি। বিস্তৃত বিমান ক্ষেত্র জুড়ে নান! জায়গায় ফুলের গাছ ; এখন ফুল নেই-ই, পাতাও নেই ; একজন মজুর শ্রেণীর লোক কোদাল দিয়ে গাছের গোড়াগুলে। খু'ড়ে খুঁড়ে দিচ্ছে। বিমান থেকে নেমে একটু সামনেই ছুই সারি নিষ্পত্র ফুল গাছ। তার মধ্য দিয়ে কাকর ঢালা পথ ;কাস্টম্সের ছাড়পত্র নেবার আপিসটি সেই পথ বেয়ে গেলে একটু সামনেই। বিরাট কক্ষ, সুন্দর ঝাড় লগ্ঠন অন্যান্য প্রাচ্য কারুকার্য বিশিষ্ট চিত্র আসবাবে স্থসজ্জিত, সমগ্র পরিচ্ছন্ন পরিবেশটি কাস্টমসের অগ্রীতিকর ব্যাপারটিকে অনেকখানি ভুলিয়ে রাখবার মত। এক-একজন করে যাত্রী নিদিষ্ট “ফরম্‌* পূরণ করে দিতে লাগল। বাস্ব-পেট্রা খোলাখুলি করে যে কিছু দেখা হলো, তা নয়। রুশ ইংরেজি ভাষায়ই “ফরম, পাওয়া যায়; ইংরেজি ভাষায় ফরমটি পূর্ণ করে যখন কর্মচারীর হাতে দিলাম, তখন তিনি দোতালার ভোজ-গৃহে গিয়ে প্রাতরাশ করবার অনুরোধ কর্লেন। প্রাতরাশ একবার বিমানেই হয়েছিল। সুতরাং প্রাতরাশ কথাটির ঠিক উদ্দেশ্ঠ বুঝতে পারলাম ন।। তবু কার্পেট মোড়া সুন্দর সিঁড়ি বেয়ে দৌতালায় উঠে গিয়ে দেখলাম এক সুসজ্জিত বিরাট ভোজ-গৃহ ইতিমধ্যে অনেক যাত্রীই ভোজে বসে গিয়েছেন। ভোজ-গৃহের সাজসজ্জা আসবাব-

১৬ সোভিয়েতে বঙ্গ-সংস্কৃতি

উপকরণ দেখে বিস্মিত হলাম। উপরে ছোট-বড় নানারকম ঝাড় লগ্ন, দেয়ালের গায়ে বড় বড় তৈলচিত্রর আঁসবাব-উপকরণের পরিচ্ছন্নতা, স্থবেশ! স্বাস্থ্যবতী পরিবেষণকারিণীর দল সহজেই মনকে প্রসন্ন করে দেয়। পাশ্চাত্য জগতের বিলাস ভোগের রূপ প্রথম এই প্রত্যক্ষ করলাম।

একটি টেবিলে বসে পড়লাম। সঙ্গে সঙ্গেই একজন মহিলা একটি বেশ বড় প্লেটে এক প্লেট ন্তুপ' পরিবেষণ করে গেলো। নুপে'র মধ্যে একটি বিরাট মাংসের টুকরো মাংসের টুকৃরোটির দিকে তাঁকিয়ে আমার একটু সন্দেহ হলো এ-ত আমাদের পরিচিত পাঠা, খাসি, ভেড়া বলে মনে হচ্ছে না; হরিণ-ময়ুরের মাংসও খেয়েছি, তাও এনয়। সহজেই বুঝতে পারলাম, গো- মাংস। প্লেটটি সামনে করে চুপ করে বসে রইলাম

কিছুক্ষণ পর পরিবেষণকারিণী এসে রুশ ভাষায় আমাকে কি বল্লেন। আমি একটি মাত্র রুশ বাক্য শিখেছিলাম, “ইয়ান গভরিউ প-রুস্কি' অর্থাৎ আমি রুশ ভাষ! জানিনে ; তার কথা বুঝতে না .পেরে তাই বলে চুপ করে রইলাম। তিনি ধীরে ধীরে প্লেটটি তুলে নিয়ে গেলেন। তারপর আর এক প্লেট চপ. জাতীয় জিনিস কিছু কাঁচা শাকশব্জী রেখে গেলেন। জিনিসটি চপ জাতীয়, কিন্তু চপের আকার থেকে অনেক বড়, চামচ দিয়ে কেটে দেখা গেল, মাংসের চপ; কিন্তু এই মাংসও সেই মাংস। সুতরাং আবার চুপ করে বসে থাকা ভিন্ন কোন উপায় রইল না অন্যান্য যাত্রীরা নিজেদের সঙ্গী- সঙ্গিনীদের নিয়ে বসে মুখে কলরব এবং কাটা চামচে খটু খটু শব করে পরম পরিতোষের সঙ্গে আহারে মত্ত হয়েছে আর আমি সঙ্গীহীন যাত্রী, ভাষা-হীন বিদেশী, নিষিদ্ধ খানের থাল৷ সাম্নে নিয়ে চুপ করে বসে রইলাম চারদিকের গৃহ-সজ্জা আমার চোখের ক্ষুধা মেটাতে লাগল মাত্র। ভাবলাম, এই ভাবে কি বিদেশে এসে না খেয়ে প্রাণ দিতে হবে?

এমন সময় পরিবেষণকারিণী আমার সামনে এসে দাড়িয়ে আমার

ভূমিকা ১৭ দ্বিখপ্ডিত এবং অভুক্ত চপির দিকে তাকিয়ে কি বল্লেন! আমাকে নিরুত্তর দেখে প্লেটটি তুলে নিয়ে চলে গেলেন। কিছু- ক্ষণের মধ্যেই কিছু কেক্‌ স্তানডুইচ কমলালেবু এবং আতা! জাতীয় কয়েকটা কি ফল সামনে রেখে গেলেন তৃপ্তির সঙ্গে তা আহার করলাম

তারপর তিনি এসে জিজ্ঞাসা করলেন, চা না কফি? রুশ ভাষায় শব্দ ছটি একই, সুতরাং আমার বুঝতে অসুবিধে হলো! না। কিন্ত আমি এই ছুয়ের কারুরই ভক্ত নই। তবু একটা বল্তে হবে-_না বল্লে এক্ষেত্রে মান থাকে না। গন্ভীর ভাবে বল্লাম কফি।

শুনেছি, কফির আভিজাত্য, চায়ের চাইতে বেশি কিছুক্ষণের মধ্যেই কফি পরিবেষণ করা৷ হলো৷

সুন্দর স্থসজ্জিত ভোজ-কক্ষটি থেকে উঠতে ইচ্ছে কচ্ছিল না, কোন যাত্রীই প্রায় উঠছে না। সবাই গল্পগুজবে ধূমপানে মত্ত আমিও অনেকক্ষণ ধরে বসে বসে কফি পান করলাম তারপর কক্ষ যখন প্রায় জনশৃম্ত হতে আরম্ভ করল, তখন নীচে নেমে গেলাম বিমান ছাডবার আরও আধ ঘণ্টা কাল বাকি

বিমান থেকে নামবার সময় আমাদের পাশপোট্টগুলে। একব্যক্তি নিয়ে গিয়েছিলেন মাইকে কাস্টম্স চেক আপিস থেকে পাশপোর্টগুলে। ফিরিয়ে নেবার জন্য ঘোষণা করা হলো সঙ্গে সঙ্গে কাউণ্টারের কাছে এক লম্বা “লাইন হয়ে গেল। কোলকাতা শহরে আমি কোনদিন "লাইনের অভ্যাস করি নি; সুতরাং “লাইনে” ধাঁড়ানোটা ঠিক আমার ধাতস্থ হতে পারে নি। আমি নিবিকার চিত্তে 'লাইন' থেকে দুরে বেড়াতে লাগলাম ভাবলাম, সবার শেষ হয়ে যাক, তারপরই না হয় আমি আমার পাশপোর্ট নেব, তাড়া কিসের? তবু “লাইনে? দাড়াতে পারব না

এমন সময় শুনতে পেলাম, “মাইকে' আমাকেই প্রথম আহ্বান

করা হচ্ছে। শুনে আমি কাউন্টারের দিকে এগিয়ে গেলাম যে ভবমিকা_ং

১৮ সোভিয়েতে বঙ্গ-সংস্কৃতি

কর্মচারী পাশপোর্ট বিতরণ কচ্ছিলেন, তিনি সহান্যে আমার দিকে অভিবাদনের ভঙ্গিতে এগিয়ে এসে আমাকে জিজ্ঞেদ করলেন প্রফেসার ?

আমি বল্লাম, হ্যা

বলা মাত্র তিনি পাশপোর্টটি আমার হাতে দিয়ে আর একবার অভিবাদন করুলেন। লাইনসুদ্ধ বিদেশী যাত্রী যাত্রিণী আমার দিকে কৌতুহলী দৃষ্টি নিক্ষেপ করে চুপ করে দাড়িয়ে রইল আমি আগেই শুনেছিলাম, সোভিয়েত দেশে 'প্রফেসারে'র বড় সন্মান। পরে তার আরও পরিচয় পেয়েছি কিন্তু এই তার প্রথম প্রমাণ পেলাম ; আমার পাশপোর্ট-ভিসায় আমার বৃত্তিরপে প্রফেসার কথাটি লেখা ছিল, তাই দেখেই তিনি আমাকে এই বিষয়ে অগ্রাধিকার দিয়ে সম্মান দেখালেন। আমি সমস্ত বিমান সুদ্ধ যাত্রীর ঈর্ধার পাত্র হলাম

প্রায় ১টার সময় £210109 বিমান তাসখন্দ বিমান বন্দর থেকে মস্কোর দিকে যাত্রা করল। এবার অনেক উঁচু দিয়ে বিমান চল্তে লাগল, নীচের দিকে তাকিয়ে আর কিছুই দেখতে পাওয়া গেল না অনেক যাত্রীই পানাহার করবার ফলে আসনের মধ্যে বসেই ঘুমিয়ে পড়লেন। কিন্তু আমার কিছুতেই ঘুম এলো না। কারণ, আমি আহারই করেছিলাম, কিছু পান করিনি; তারপর ভাবলাম, পোড়া চোখে কত ঘুমই ছ্ুমিয়েছি, আজ যখন ত্রিশ হাজার ফুট উপরে সোভিয়েত দেশের আকাশ দিয়ে ছুটে চলেছি, তখন না হয় কয়েক ঘণ্টার পথ না ঘুমিয়েই সঙ্ঞানে সচেতনভাবে তার শিহরণটুকু উপভোগ করি, কয়েক ঘণ্টা সময় বইত নয়। শুনেছি সাড়ে তিনটের সময়ই মস্কো বিমানবন্দরে পৌছানো যাবে আমি সারাক্ষণ জেগে থেকেই য। দেখ! যায় না, নীচে তাই লক্ষ্য করে বসে রইলাম যদি দৈবাৎ একটা কিছু চোখে পড়ে তবে তার দাম কে দিতে পারবে !

এইভাবে কতক্ষণ চুপ করে বসেছিলাম জানিনে, হঠাৎ দেখতে পেলাম যাত্রীরা একটু চঞ্চল হয়েছে

ভূমিক। | ১৯

আমার পাশের যাত্রীটি ইংরেজিতে আমাকে বললেন, আমরা মস্কোর কাছে এসেছি, এখনই বিমান নামতে সুরু করবে।

ক্রমে বিমান নীচে নামতে আরম্ভ করল ; কিছু কিছু করে দেখতে পাওয়া গেল, সাদ! থান পরে সারা পৃথিবী যেন চুপ করে ঘুমিয়ে আছে, চারিদিকে সাদ! ছাড়া আর কিছুই এখনও দেখতে পাওয়া যায় না। আমি তখনও বুঝে উঠতে পারিনি, এত সাদা কিসের। বিমান যখন আরও নীচে নেমে এল, তখন মস্কো শহরের বাড়ী- সাদার মধ্যে মধ্যে কালির দাগের মত ভেসে উঠতে লাগল ঘরগুলো সেই তারপর আরও দেখা গেল, নিষ্পত্র বৃক্ষের সারি; দেখতে দেখতে মস্কো বিমানবন্দরে বিমানখানি অবতরণ করল। তখন দেখা গেল, এই সাদা আর কিছু নয়, বরফের স্তর; বিমান বন্দরের চারিদিকেই বরফের আচ্ছাদন, কেবলমাত্র যে অপরিসর পথ ধরে বিমানটি মাটিতে নেমে এল, তার উপর থেকে বরফ সরিয়ে দিয়ে ছু' ধারে ভূপ করে রেখে দেওয়া হয়েছে বিমানের মাইকে ঘোষণা! কর! হলো মস্কোতে তখন তাপ মাত্র শুন্য ডিগ্রির ১২ সেন্টিগ্রেট নীচে

যাত্রীরা পোশাক-পরিচ্ছদ টুগী পরে নামবার জন্য তৈরী হতে লাগল। আমি আমার ওভারকোট্টি খোঁজবার জন্য সাম্নের দিকে গেলাম, গিয়ে এক রাশি ওভারকোটের মধ্য থেকে আমার ওভারকোটটি অতি কষ্টে খু'জে বার করলাম | সবাই মাথায় এঁটে টুপী পর্ছে, কেউ বা তার ছু'পাশ খুলে দিয়ে কান ছু'টোও ঢেকে নিচ্ছে। আমি তেমন টুপী ভারতবর্ষ থেকে সঙ্গে করে নিয়ে যেতে পারি নি, ভেবেছিলুম মস্কো গিয়েই কিনে নেব; কিন্তু মস্কো বিমান বন্দর থেকে শহরে যে কি ভাবে পৌছুব, তা আগে বুঝ তে পারিনি। আমার এক বন্ধু ভার 'বীদর টুপী” বা 2000165 0৪%টি আমার সঙ্গে দিয়েছিলেন, অগত্যা তাই পরে বিমান থেকে নামবার জন্য প1 বাড়ালাম

দেখলাম, আমার আগে এখনও পর্যস্ত আর কেউ নামে নি?

২০ সোভিয়েতে বঙ্গ-সংস্কৃতি

বিমানের নিকটেই কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তি কোন কোন অভ্যাগতকে অভ্যর্থনা করে নেবার জন্য প্রস্তুত হয়ে দাড়িয়ে ছিলেন আমি ভাবলাম, এদের মধ্যে নিশ্চয়ই কেউ আমাকে অভ্যর্থনা করে নেবার জন্য এসেছেন কারণ, দিল্লী থেকে আসবার সময় 10191) 0০০01801101 001601:8] 1২০1901075-এর আপিস থেকে আমাকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল যে, মস্কোর ভারতীয় দূতাবাসে আমার মস্কো যাত্রার কথা জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, তারা বিমান বন্দরে উপস্থিত থাকতে পারে, যদি দৈবাৎ না থাকে, তবে আমি সেখান থেকেই যেন ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করি। দিল্লীর রুশ দূতাবাস থেকেও যখন আমাকে ভিস! দেওয়। হয়, তখন সেখানকার একজন পদস্থ কর্মচারীও আমাকে জানিয়েছিলেন ষে, আমাকে অভ্যর্থনা করবার জন্য মক্কো৷ বিমান বন্দরে লোক থাকবে, আমার কোনই অসুবিধা হবে না। কিন্তু তবু আমার একটা আশঙ্কা ছিল; শনিবার ভোরবেলায় যে আমি মস্কো রওয়ানা হব, তা মাত্র আগের দিন অর্থাৎ শুক্রবার সন্ধ্যায় স্থির হয়েছিল, তাও চূড়াস্তভাবে নয়; কারণ, শুক্রবার সন্ধ্যায় যখন আমার হাতে বিমান-যাত্রার টিকিটটি তুলে দেওয়া হয়, তখনও আমাকে বলা হলো আমি টিকিট পেলাম বটে, কিন্তু আমি সিট (522) পাবই কিনা তা তখনও স্থির (00105177720 ) হয় নি। সুতরাং এত অল্প সময়ে তারা কি করে খবর পেতে পারে? তবু আমি প্রত্যেকের মুখের দিকে তাকাতে তাকাতে ভয়ে ভয়ে সিঁড়ি বেয়ে নীচের দিকে নামতে লাগলাম

কিন্ত শেষ ধাপ পর্যস্ত নামা সত্বেও কেউ আমাকে কোন রকম অভ্যর্থনা জানাতে অগ্রসর হয়ে এলোনা ; আমি বড় বিপন্ন বোধ করতে লাগলাম তারপর বিমান থেকে মাটি অর্থাৎ বরফের উপর পা! দিতেই নৃতন জুতোয় পা পিছলে গিয়ে একেবারে ধরাশায়ী অর্থাৎ তুষার শয্যাশায়ী হয়ে পড়বার উপক্রম হলো। কোন রকমে টাল সামলে নিলাম ; কিন্তু ভাবনা হোল, কাউকে যে দেখতে

ভূমিক। ২১ পাচ্ছিনে, এখন আমার উপায় কি হবে! তাপমান শুন্য ডিগ্রীর নীচে নামলে যে কি অবস্থা হয়, তা আগে আমার কোনদিন জানা ছিল না, তাও আবার বার ডিগ্রী নীচে! বিমানের বাইরে মুখ বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে যেন মুখটা এক বরফের দেয়ালের গায়ে লেগে থেতলে গেল বলে মনে হলো কিন্তু স্বাঙ্গ খুব সুরক্ষিত বলে মনে হলো ; এমন কি, 2000095 ০৪ পরা মাথাটাতেও ঠাণ্ডা খুব একটা লাগছে বলে বোধ হল না।

আমি বরফের উপর দাড়িয়ে দিশেহারা হয়ে চারদিকে তাকাতে লাগলাম এমন সময় বিমান বিভাগেরই একটি গাড়ী এসে আমাদের সামনে দ্রীড়াল, যাত্রীরা তা'তে উঠতে লাগল, আমিও তা'তে উঠে পড়ে আপাততঃ শীতের প্রকোপ থেকে খানিকটা আত্মরক্ষা করলাম। গাড়ী একটু দূরেই 0850103 0158:97)06 061০ এর সামনে এনে আমাদের নামিয়ে দিল। কাচ দিয়ে চারদিক আটা ঘরটির মধ্যে ঢুকে বেশ আরাম বোধ করতে লাগলাম (0500775-এর ছাড়পত্র ততক্ষণাৎই পাওয়। গেল।

এমন সময় একজন ভদ্রমহিল! এসে আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন, আমি প্রোফেসার ভট্টাচার্য কি না। ভট্রীচার্য শব্দটির উচ্চারণ আমি আন্দাজ করে নিলাম। আমি অকুলে কুল পেলাম সন্ধ্যা আসন্ন হচ্ছিল, বন্ধু-বান্ধব ভাষাজ্ঞানহীন দূর প্রবাসে সেই তুষারাচ্ছন্ন সন্ধ্যায় নিরাশ্রিত হয়ে পড়বার আশঙ্কায় আমার বুকের রক্ত হিম হয়ে আসছিল এতক্ষণ পর যেন স্বাভাবিক ভাবে নিঃশ্বাস নিতে পারলাম। আমি তাকে ইংরেজিতে নিজের পরিচয় দিলাম ; তিনি ইংরেজি জানেন, ইংরেজিতেই বললেন, 11150গ 02 17181)61 [:079080100-এর পক্ষ থেকে আমাকে অভ্যর্থনা করে নেবার জন্য তিনি গাড়ী নিয়ে বিমান-বন্দরে উপস্থিত হয়েছেন। আমি তাকে কৃতজ্ঞতা ধন্যবাদ জানালাম তিনি আমাকে গাড়ীতে উঠতে বল্লেন

সোভিয়েত দেশে “কুলি” ( 20:65] ) বলে বিমান-বন্দরেই হোক

২২ সোভিয়েতে বঙ্গ-সংস্কাতি কিংবা রেল-স্টেননেই হোক, কোথাও কোন সম্প্রদায় নেই, নিজের মোট নিজেই বইতে হয়, স্ত্রী-পুরুষ সকলেই সে কাজ করে আমার সঙ্গে একটি বিরাট স্ুটকেস ছিল, কাস্টমস থেকে মুক্ত হয়ে তা? কাস্টমস্‌ ক্রিয়ারেন্সের ঘরেই পড়েছিল যখন ভদ্রমহিলা আমাকে গাড়ীতে উঠতে বললেন, তখন আমি কাতরভাবে আমার সেই সুট্কেসটির দিকে তাকালাম, আমার একার তা গাড়ীতে তোলবার সাধ্য নেই। আমার অক্ষমতার কথা বুঝতে পেরে আমার অভ্যর্থনা- কারিণী মহিল! তার দিকে নিজেই এগিয়ে গিয়ে তা” ধরে তুল্তে গেলেন, আমি তাকে বাধা দিয়ে একজন নারীর কাছে নিজের পৌরুষের মর্যাদা রক্ষা করতে অগ্রসর হয়ে গেলাম

আমি আমার প্রাণপণ শক্তিতে সুট্কেসের হ্যাণ্ডেল ধরে তুলতে গেলাম, তিনি নিজে সরে দাড়ালেন না, নিজেও হাতে ধরলেন এবং প্রকৃতপক্ষে ছু'জনেই টেনে নিয়ে তা গাড়ীতে তুললাম বিরাট গাড়ীটিতে একজন পুরুষ ড্রাইভার এতক্ষণ চুপ করে বসেছিলেন, আমরা গাড়ীতে উঠবা মাত্র, তিনি গাঁড়ী ছেড়ে দিলেন। তুযাঁররাঁশির উপর দিয়ে বিমান বন্দরের এলাকা অতিক্রম করে গাড়ী গিয়ে বাইরের বাঁধান পথে পড়ল।

পথের ছুই ধারে যতদূর দেখা! যায়, কেবল তুষার ছাড়া আর কিছুই নেই, পথের ছুই ধারে পাইন বার্জ গাছগুলে। নিষ্পত্র, যেন বজ্রাহতের মত আডষ্ট হয়ে আছে। বনভূমিও তুষারে আচ্ছন্ন ; সমস্ত দেশ যেন এক বিধবার বেশ ধারণ করেছে বিমান-বন্দর থেকে মস্কো শহর প্রায় পনের মাইল দূরে ততক্ষণে সূর্যাস্ত হয়েছে ; কিন্ত তাঁর আলে! তখনও নিশ্চিহ্ন হয়ে যায় নি। তবে শীতের সন্ধ্যা বলে সেই আলোতে কোন দীপ্তি নেই, কেমন যেন মলিন

আমাকে অভ্যর্থনা করে নেবার জন্য যে ভদ্রমহিলা বিমান বন্দরে এসেছিলেন, তার নাম কুমারী শেস্তাকোভা। রীমা। তিনি ইংরেজি এবং ফরাসী ভাষার