উষারঞ্তন ভট্টাচার্য

স্যা তার পাবরিসগাস প্রম-টি ২৫/২৬, কছেজ ব্রা মার্কেট কলিকাতা-১২

প্রথম প্রকাশ £ আষাঁড ১৩৭১

প্রকাশক উৎ্পলকা1স্তি ভন্টাচাধ পুরেোগামী গ্রন্থনা

৩৫১ চিত্তরঞ্জন এভেনিউ কলি কাতা-১২

মুত্রাকর £

বীরেশ্খবর চক্রবর্তী

স্ট্যাগার্ড আর্ট প্ররিপ্টাস ১১৫-এ, নাজ রামমোহন সরণি কলি কাতা-৯

প্রচ্ছদ শিল্পী £ বরুণ. গহন:

ল্মরণ করি তাদের

বাঙ্গালী জাতি পুনহংপ্রতিষ্ঠার

মহত্তর এ্তিহাসিক সংগ্রামে

সংশ্রামরত মুক্তি যোদ্ধাদের উদ্দেশে **.

লেখকের অন্যান্য উপন্যাস £

নীল সমুক্ের পাণুলিপি

লুলি হারির কাহিনী (যন্রস্থ ) যে ধাআর শেষ নেই রঃ সবুজ উপনিবেশ গল্প সংকলন ঞচ

এক

দিগন্ত রেখা ক্রমেই বিসারিত হতে হতে অদৃশ্য হলো দূরে... ভেসে উঠলো! অস্পষ্ট পাহাড়রাশি। ধোয়াচ্ছন্ন কুয়াশার আবরণে ঢাকা সবুজ পাহাড়রাশি ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠলো ক্রমেই স্পষ্ট থেকে হলো স্পষ্টতর। রৌদ্রের আলোকে বেশীক্ষণ চেয়ে থাকা যায় না। তবু এক অজানা আকর্ষণে চেয়ে থাকি। চেয়ে থাকে আরো অনেকে" "জাহাজের আপার ডেক্***লোয়ার ডেঁড:এর..'পোর্ট-হোল দিয়ে চেয়ে আছে.."দাড়িয়ে আছে। সবার চোখই যেন উৎস্থক''সবার মনেই যেন আকর্ষণ'*' এই সে প্রতীক্ষিত শহর'**ডাানৃ_ দক্ষিণ আফ্রিকার অন্যতম বন্দর-শহর। জাহাজ থেকে দেখে মনে হয় যেন আমার বাঙলারই কোন বন্দর*..এই জল'**এই আকাশ যেন আমার বাঙলারই আকাশ আর জল। একই নীলিমায় ঘেরা গুলার শীতল হাওয়ার মতোই এই হাওয়া:''এই জল। জানা কাউকে যদ্দি কেউ বলে***ওই যে দেখা যায়***দূরে '**"সে আমার চির-সবুজ বাঙলার সমুদ্রতট, অকাতরে মেনে নোবে তাই | ওই দুরের সবুজ'**এই আকাশ.''এই বাতাস" যেন বাঙলারই প্রতিবিম্ব !

ইয়!ফ.রিক!

এবার সমুদ্রতট আরো স্পষ্ট হয়ে উঠলো আর একটু পরেই আমাদের নাগালের মধ্যে এসে যাবে এই বিখ্যাত বন্দর- শহর ভাবান। এখান থেকে পেছনে তাকিয়ে জল ছাড়া,আর কিছুই দেখা যায় ন।...পেছনে-রেখে-আসা আমার বাঙল। এখান থেকে কতোদুর-*'পেছনে দিগন্ত-প্রসারিত অগাধ সমুদ্র শুধু!

সমুদ্র থেকে বয়ে-আসা এই প্রশস্ত ছোট খাল ধরে এগিয়ে চললে! আমাদের জাহাজ সামনে-পেছনে টাগবোট ***পথের নিশানা দিচ্ছে তারাই বাঁপাশে আধা-সবুজ লালমাটির পাহাড়রাশি'ডান-পাশে সমুদ্রসৈকত। সে সৈকতে মানুষে মানুষে ভীড়..*কেউ বড়শী ফেলে মাছ ধরছে*** কেউ রোদের আমেজে জুড়িয়ে নিচ্ছে দেহ। কেউ কেউ প্রেয়সীকে নিয়ে চেয়ে আছে দূর সমুদ্রে থেকে থেকে সমুক্ধের ঢেউ আছড়ে পড়ছে সৈকতে আমাদের জাহাজ বন্দরের ভেতর আসতেই ওদের অনেকেই আমাদের জাহাজ দেখতে লাগলো কেউ কেউ আকাশে হাত উচিয়ে আমাদের স্বাগত জানায়। জাহাজ থেকেও অনেকেই প্রত্যুত্তর দেয় আকাশে হাত উড়িয়ে।

কয়েক পলকেই এই প্রশস্ত খাল পেরিয়ে জাহাজ এলো বন্দরের ভেতরে বন্দরের চারপাশে ছড়িয়ে আছে আমাদের জাহাজেরই মতে প্রকাণ্ড প্রকাণ্ড সমুদ্রগামী জাহাজ একখানা বড় ওয়েল-ট্যাঙ্কারের পাশ কেটে জেটির কাছে এসে" ক্রমে

জেটির পাশ ভিড়ে স্থির হলে! আমাদের জাহাজ এবার আমাদের চোখের সামনেই সেই প্রতীক্ষিত শহর ডাবান। রঙ- বেরঙের আকাশছোয়া অতিআধুনিক দালান-মঞ্রিল আমাদের ছ'চোখের সামনে আমরা চেয়ে চেয়ে দেখি শুধু

আমাদের জাহাজ দেখতে কতো মানুষের সমাবেশ। যাত্রীবাহী জাহাজ এলে যে-কোনো বন্দরে এমনি ভীড় জমে। উৎসুক চোখে ওরা চেয়ে আছে কতো লোক.."কয়েক শতই হবে হয়তো ইউরোগীয় আর ভারতীয়দের ছড়াছড়ি সমগ্র জেটি জুড়ে। ওদের সবার চোখ যেন কিছু খুঁজে বেড়ায়-*" হয়তে৷। পরিচিত মুখ দেখতে চায়-..অথবা নতুনের মাঝে আবিষ্কার করতে চায় নতুন কিছু কিন্ত একজনও নিগ্রো এই শত মানুষের ভীড়ে দেখ! গেলো না। অথচ আমার মন চাইছিল নিগ্রো আর নিগ্রোতে ভরে উঠুক এই বন্দর। কেননা, ওরাই আসলে এই মাটির মালিক।

জাহাজ থেকে গ্যাঙওয়ে নামিয়ে দেয়া হলো। তারপরেই জেটি থেকে উঠে এলো কোম্পানীর এজেন্ট--সরকারী কাস্টমস্-অফিসার '** এবং আরো অনেকে জেটির ওপরে গ্যাঙওয়ের পাশে এসে দাড়ালো কোম্পানীর পোষাকধারী ছ'জন শ্বেতাঙ্গ শান্ত্ী।

যে ক'জন যাত্রী বয়ে এনেছিলাম আমরা কিছুক্ষণের মধ্যেই একে একে নেমে গেলো ওরা সবার শেষে সেই বৃদ্ধ আর বৃদ্ধ! যাত্রী হ'জনেও নেমে গেলে। তার্দের অষ্টাদী

কন্তাকে নিয়ে। এতোদিন যার সৌন্দর্য দেখে দেখে কেটেছে আমাদের এই জাহাজী জীবন__অনেকে এই অষ্টাদশী কন্ঠাকে নিয়ে নিজের মনে স্বপ্রের জাল বুনেছে*"'আমাদের চোখের সামনে দিয়েই তারা চলে গেলো যাওয়ার আগে ওর! কেউ একবারও ফিরে চেয়ে দেখলে! না এই জাহাজকে '"'এই জাহাজের জীবনকে**যে জাহাজ আর জীবনের সঙ্গে তাদের জীবনের অনেক কিছু জড়িয়ে ছিলো৷ এতোদিন। জাহাজকে এমনি সবাই ভুলে যায়***বিগত ত্রিশ বছর ধরে কতো ন৷ যাত্রী পারাপার করেছে এই জাহাজ **. এতোদিনে সবাই ভুলে গেছে--"এই যাত্রীরাঁও ভুলে যাবে একদিন "*"জাহাজী জীবনকে এমনি ভূলে যায় সবাই

এমনি সময় আমার পেছন থেকে এসে কাধে হাত রাখলে উইলিয়াম চোখ ইসারায় বললো! £ “চল.*"বসি |”

আমি এতোক্ষণ ধরে দাড়িয়েছিলাম আপার ডেকে। ঈাড়িয়ে ধাড়িয়ে দেখছিলাম সব.*.ভাবছিলাম এই নতুন দেশের কথা".*এই সব নতুন মানুষের কথা**যাদের আমি জানতাম না...ধাদের আমি চিনতাম না। উইলিয়ামের কথায় আমার ভাবনায় বাধা পড়লে! তার দিকে চেয়ে নীরবে ক্যাপস্টানটার ওপরে বসলাম *** উইলিয়ামও বসলো আমার পাশের ক্যাপস্টানে। এই জাহাজে আসার পর বিগত ক'মাস থেকে এই ক্যাপস্টান ছুটির ওপরে আমরা বসি.'"গল্প করি। আজে।

বসলাম আবার। কিন্তু আমাদের দৃষ্টি জেটির ওপর.*.এই সব আগন্তক দর্শনার্থীদের ভীড়ে

“আমাদের স্বপ্ন বুঝি চলে গেলো-..না ?” উইলিয়াম বললো!

হ্যা, তোমার স্বপ্নের নায়িকা! চলে গেলো, উইলি।” আমি বললাম

“চলে গেলো '"'যাবে কোথায়**"ঘানির জোয়াল ছেড়ে যাবে কোথায় 1” হেসে উঠলো উইলিয়াম। বললে। : “চল স্তানি"*" বেরিয়ে পড়বে তাড়াতাড়ি""কতোক্ষণ জাহাজে ইছুর মারতে বসে থাকবো **'বুঝলে। স্তানি -"'তোমাকে নিয়ে যাবো'*"দি হেতেন ভার্বান:*আহাঃ-"*কিন্তু থাটি জ্যুলু মাল একটা দেখতে পাবে না"*'শহরে। থেকে ওরাও আমাদের মতো পাহেব হয়ে গেছে.*"তবে রঙটা আর বদলাতে পারেনি***এই যা। যদি দূর জঙ্গলে যেতে তাহলে হয়তো ***কিন্ত স্তানি, তোমাকে নিয়ে ভয়। তুমি তো রাজনীতির গন্ধ পেলে পাগল হয়ে উঠবে'*'সে চেষ্টা এখানে তুমি করে! না, স্তানি। এখানকার আইন-কানুন বড় কড়া...বিশেষ করে তোমাদের জন্তে""'আর নিগ্রোদের জন্যে"*-তবে হ্যা" 1”

বলেই হঠাৎ থেমে গেলো উইলিয়াম। ডুবে গেলো গভীর ভাবনায়। অনেকক্ষণ কোনো কথা বললো নাসে। একটা সিগারেট ওকে এগিয়ে দিলাম.*নিজেও ধরালাম একটা নিরাসক্তের মতো! সিগারেটটা হাতে নিলো! সে। লাইটার

জ্বালাতেই সমাধিগ্রস্ত উইলিয়াম যেন ফিরে এলো।। সিগারেটটা। জ্বালিয়ে মুখ-ভণ্তি ধোয়া ছেড়ে তাকালো আমার চোখে চোখে

“বেশ আছো, স্তানি।” উইলিয়াম বললো : “আমাকে কি সেন্ট পিটার বানাতে চাও-..সে চলবে না দোস্ত'-*চুপটি করে বসে আমার বারোট। বাজানো চলবে না.""মনে রেখো দোস্ত'**এটা জাহাজ''জাহাজী জীবন**মদ আর মাল ব্যস-_ তাছাড়া আর কিছু নেই***নেই.'বুঝলে স্তানি আরে"'আরে স্তানি'**ওই যে**'ওই দেখো*"'নিগ্রো মাল**ওই যে-"খাস। মাল ! বড় জোর আঠারে। আহা. 'বুকটা-*'চেয়ে দেখো স্তানি ***কেমন জমাট বেঁধে উঁচিয়ে আছে ! আহাঠ খাসা হবে স্তানি ডাকবে নাকি.***

“কি যে করছো উইলি, চুপ করে বসো 1” বাধা দিতেই বসে পড়লে। সে।

“চেয়ে দেখো! তো"'খারাপ হলো ক্রি! "*'খাঁটি নিগ্রে। মাল পাওয়৷ যায় ন। স্তানি **" দেখো না *** দেখে। *** কেমন ছাকাচ্ছে আমাদের দিকে" "ডাকবে নাকি স্যানি***”

“চুপ করো উইলি।”

“ন! দোস্ত, চুপ করার কথ নয়***চেয়ে দেখো |?

সে ভীড়ের মাঝে একটি মাত্র নিগ্রো*"'তাও আবার মেয়ে ***সেই ছুরস্ত ভীডের মাঝে মেয়েটি হারিয়ে ছিলো। এতোক্ষণ। এবার সে ভীড় অনেকটা হালকা হয়ে গেছে.*.এবং মেয়েটিও

গু

নিজের। স্বাতন্ত্র্য নিয়ে ওই বড় গুদামের বারান্দার এক কোণে দাড়িয়ে আছে। নিগ্রো-..হয়তো জ্যলু। বয়স ষোল থেকে কুড়ির মধ্যেই হবে***এর বেশী নয়। যৌবনে ভর তার দেহ। সাদ! গাউনটা বেশ মানিয়েছে এই কালো দেহের সঙ্গে খুব মিশমিশে কালে নয় মেয়েটি এই রঙ আমাদের দেশেও দেখা যায় অনেক। মাথার চুলগুলো কিছুটা কৌকড়ানে৷ হলেও চুলগুলো কাধ অবধি টেনে এনে লম্বা করে রেখেছে" খোপার বদলে লাল ফিতে দিয়ে বেঁধে চুলগুলোকে ঝুলিয়েছে কাধের ওপর। সুঠাম সমর্থ দেহ। বাঙলার মেয়েদের মতোই লম্বা স্থগোল পুষ্ট স্তনযুগল। চোখ উজ্জ্বল-''চঞ্চল নয়-..ধীর স্থির গাউনের হাতা কুম্ুই অবধি ঢাকা পায়ে কালো মোজা -** কালো জুতো। মেয়েটির সঙ্গে আট-দশ বছরের একটি ছোট্ট নিগ্রো ছেলে সেও ফ্যাল ফ্যাল করে চেয়ে দেখছে। মেয়েটি নীরবে, তখনে। লক্ষ্য করছে আমাদের

“খাসা মাল-"বলে দিলাম শ্তানি। এতো! খাসা নিগ্রে। মাল খোলাখুলি পাওয়া যায় না.."কালার্ড..ধ্যত...পা৮ মেশালী মাল আর ভালো! লাগে না..খাসা জ্যুলু'-'স্যানি'"" তুমিঃ যদি না চাও"..আমি দেখছি ।৮ বলতে বলতে উইলিয়াম উঠে দাড়ালো তাকে সঙ্গে সঙ্গে টেনে বসালাম। কিন্ত

উত্তেজিত হয়ে ওঠলো সে। «কিন্ত উইলি"*'এখন যাবে কোথায় 1 আমি বললাম £ ওকে তো আর এখন পাচ্ছো না. ।”

“ৰলে! কী ন্তানি-"*কেবিনে এনে রেখে দেবো-"'বুঝলে দোস্ত ***তা হলে আর বাইরেই যাবো নাশুয়ে-শুয়ে কাটিয়ে দেবো -"' দিন আর রাত "'বাইরে গিয়ে কি হবে-'এই স্যানি'' দেখো" "দেখো কেমন তাকাচ্ছে আমাদের দিকে"'আহাঃ **"খাস। হবে স্তানি।”

বলতে বলতে ডান হাত তুলে ঠোট ছুঁয়ে চুমু। ছুড়লো৷ মেয়েটির দিকে বলে উঠলো : “অ-মাই-ডালিং ফর ইউ ।...*

কিন্তু গম্ভীর মেয়েটি নীরবে চোখ ফিরিয়ে নিলো তারপর ধীরে ছেলেটির হাত ধরে গুদামের বারান্দা! থেকে নেমে পথ চলতে শুরু করলো চলতে চলতে আর একবারও ফিরে তাকালো! না আমাদের দিকে

“অ-ডালিং'."আরে'""আরে স্তানি"ও চলে যাচ্ছে যে!” ব্যধিত কে উইলিয়াম বললে! কিন্তু ততক্ষণে মেয়েটি পথের বাঁক ঘুরে পাথরের বড় পুলটার আডালে হারিয়ে গেলে!

প্হায়রে স্তানি'''চলে গেলো।”

“ষাৰে না তো তোমার জন্তে বসে থাকবে নাকি !”

*সব তুমি:মাটি করলে স্তানি-*সৰ মাটি করলে |”

উইলিয়ামের কথার মাঝেই স্ট,য়ার্ড এসে জানালে! যে বরফ আর হুইস্কির বোতল কেবিনে রেখে এসেছে সে।

“অঃ.."ভেরী গুড |” চেঁচিয়ে উঠলে উইলিয়াম : “চলো ্তানি..'এবার হুইস্কি দিয়ে মনের, ছুঃখটা শেষ করে চাঙ্গা হয়ে বেরিয়ে যাঝো 1”

“তাই চলে! উইলিয়াম ।” আঙি বললাম

দুই

আমরা ছজন বেরিয়ে এলাম জাহাজ ছেড়ে। রাত্রির অন্ধকার ততোক্ষণে ঢেকে ফেলেছে চারপাশ নিয়ন লাইটের কৃত্রিম আলোয় রাত্রির অন্ধকার যেন চমকে উঠছে আমাদের নেশ। চাপা পড়ে গেছে উৎফুল্পতার আড়ালে একটা বড় গুদামের পাশ কাটিয়ে আমর পথে এলাম। এই সব পথ-ঘাট উইলিয়ামের চেনা চলতে চলতে সে বললো £ ৭ওই যে টেলিফোন বুথ....একটা ট্যাক্সি ডেকে নি-..দেরী হয়ে গেলো স্তানি ।”

আমি নীরব রইলাম। আমাদের সামনেই টেলিফোন বুথখ। উইলিয়াম এগিয়ে গেলে। আমি বারান্দার সি'ড়িতে উঠে এসে দাড়ালাম আমার দেহে কেমন এক রোমাঞ্চ জাগানে। শিহরণ। কেমন এক ছুর্মনীয় শক্তি আমার দেহ জুড়ে। মনে হয় ছুটে যাই। এমনি সময় ফোন সেরে বেরিয়ে এলো উইলিয়াম। নিজের পকেট থেকে একটা সিগারেট বের করে ধরালো সে। হছৃ'জনেই অপেক্ষা করতে লাগলাম."-ট্যাকসি এখুনি আসবে। কিন্তু উইলিয়ামের যেন তর সইছে না। ক্রমেই সে বিরক্ত হয়ে উঠছে-*'ব্যস্ত হয়ে উঠছে। হঠাৎ জরঙ্গম্ত সিগারেটটা ছুড়ে ফেললে সে। আরেকটা সিগারেট

রি

বের করে ধরালে তখুনি। যেন পেছনে তার তাড়া। চঞচল' হয়ে দেখছে চারদিকে

ডক অঞ্চল প্রায় নিশ্চপ। ছু'একজন নাবিককে দেখা যায়***কেউ গ্নগুনিয়ে গাইতে গাইতে চলেছে'*'একা। গুদামের ওপাশে দেখ। যার কোনো জাহাজের চিমনি'*'অথব। মান্তল। প্রশস্ত পথ ধরে একখানা মোটরগাড়ী ছুটে আসছে আলে! জবালিয়ে। আমরা সিঁড়ি থেকে নেমে এসে পথে দাড়ালাম। গাড়ীখানা আমাদের কাছ দিয়ে চলে গেলো আরোহী! রয়েছে তাতে। কিন্তু ক্ষেপে উঠলো উইলিয়াম আপন মনে বলে উঠলো : “বাস্টারড...এক ঘণ্টা ধরে অপেক্ষা করছি ।”

আমি কোনে! সাড়া দিলাম না। আবার দেখা গেলে। ছু'টো আলে ছুটে আসছে। কিছুক্ষণের মধ্যেই আমাদের সামনে এসে থেমে গেলো ট্যাকসিখানা। জ্বলে উঠলো!

ভেতরের আলো।

“কেন**কেন'*এতো দেরী কেন?” ধমকে উঠলো উইলিয়াম |

“ন্যরি ... স্তরি স্তার।” বলে ক্ষমা চাইলো শ্বেতাঙ্গ ড্রাইভারটি।

নীরবে আমরা উঠে বসলাম কোথায় যেতে হবে সেকথ৷ ড্রাইভারকে জানিয়ে দিলো! উইলিয়াম ট্যাকসিখান

১৩

ঘুরিয়ে নিয়ে আবার প্রশস্ত পথ ধরে ছুটে চললো! খানকয়েক গ্রাথরের সেতু পেরিয়ে মোড় ঘুরে ট্যাকসিখানা চলে এলো বন্দর-শহরের রাজপথে এখান থেকে বন্দর-বেসিনের ওপারে আমাদের জাহাজ স্পষ্ট দেখা যায়। দেখা যায় জাহাজের রূপালী চিমনি। আমি চেয়ে চেয়ে বন্দর দেখতে লাগলাম।

“খবরদার স্তানি।” হঠাৎ বলে উঠলো উইলিয়াম : “মোম্বাসার মতো! কেলেঙ্কারী করে বসো না যেন *"* তাহলে সোজা বেঁধে নিয়ে যাবে পুলিশ'"'স্যানি-"'মনে থাকে যেন" এটা দক্ষিণ-আফ্রিক!। এখানে ব্যাপার সবই আলাদ। 1”

“ভয় পেয়ে না উইলি-"'আমি সাবধান থাকবো 1৮ আমি বললাম।

“হা-*"সাবধান স্তানি-*-ভূলে যেও না এটা দক্ষিণ-আফ্রিকা ***“যার তার সঙ্গে কথা বলো না.""রাজনীতির কথা তো৷ একটিও নয়।

“আচ্ছা **'আচ্ছা উইলি।৮ আমি তাকে অভয় দিয়ে বলি যে ভয় নেই.""'আমি সাবধান থাকবে।। কথা বলতে বলতে উইলিয়াম আরো উৎফুল্প হয়ে উঠলো

“শোনে স্যানি।” উইলিয়াম বলতে লাগলো : “আমর যাচ্ছি হিমালয়ে**'এভারেস্ট বিজয়ই বলতে পারো"'"তবে তোমার পর্বত হিমালয় নয়.**ওট1 বিরাট হোটেল'''কালে। আদমীদের জন্তে'' কালে! আদমীর এতো বড় হোটেল দক্ষিণ- আফ্রিকার আর কোথাও নেই। তবে মজা কি জানো"

১৯

হোটেলটির মালিক একজন খাস সাদা আদমী*""ইউরোপীয়ান--. পয়সার মাঝে কিন্ত কলার-বার নেই। কিন্তু স্তানি'*.আইনতৃ আমি ওখানে যেতে পারি না**'তবুও আমি যাই***ওরা হয়তো ভাবে আমি কালার্ড**"আরে**"কালার্ড-ফালার্ড কি'** মাল পেলে যেখানে খুসি যাওয়া যায়। এই ড্রাইভার" ডান দিকে-*ওই যে স্তানি'-*ওই হলো ম্মীৎ স্ট্রীট-..আমাদের এজেন্টের অফিস ওখানে'"'রাতে আর কি দেখবে স্যানি** কি-ই বা দেখার আছে। এই সব দালান-দোমালা তোমার ক্যালকাটাতেও আছে। তবে."'ই। স্তানি'"'এমন খাস! মাল তোমার ক্যালকাটায় নেই...এই ড্রাইভার*..আরো। জোরে "". সোজ! হিমালয়'*"”

“ইয়েস স্যার ।” সাড়। দিলে। ড্রাইভার।

“্যানি'"ওই হলো ফিল্ড জ্রীট*..ওই যে ডার্বানের টেলিফোন এক্সচেঞ্জ বাঁদিকে ড্রাইভার *.*.. আরো জোরে চালাও ম্যান**'শেষে যে সব পাখী উড়ে যাবে !”

“ইয়েস শ্যার।” আবার সাড়া দিলো ড্রাইভার

“আরে স্তানি'''তুমি কি ঘুমিয়ে পড়লে ।”

“ন। উইলি'**ভার্বানকে দেখছি*"উইলি

“ইয়েস স্যানি।” বলে সে ফিরে চাইলে। আমার দিকে

“ভারত রাষ্ট্রের ফাদার করমর্ঠাদ গাধীর রাজনৈতিক শিক্ষা এই ভাবান থেকেই""'গীধী-দর্শন এই ভার্বান থেকেই পেয়েছিল দার্শনিক ভিত।” হঠাৎ আমি বলে উঠলাম। আমার মন্ত্রে

১৭

হল".কতো৷ না ইতিহাস...কতো না স্মৃতি জড়িয়ে আছে এখানে কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে উইলিয়াম ধমকে উঠলো

“হ্যাট আপ স্তানি"'আমর! দার্শনিক হতে আসিনি" এসেছি মেয়ে আর মদ নিয়ে ফুতি লুটতে-*.কিন্তু-"*খবরদার স্যানি'.-'আবার বলছি'""রাজনীতির ধারে কাছেও যেও না." তাহলে মরবে ড্রাইভার .*'এবার সোজা." 'স্যানি-**ওই যে." ওই হলো ইগ্ডিয়ান মার্কেট**.বলতে পারো সমস্ত অঞ্চলটাই ইণ্ডিয়ান রিজার্ভ। এখানে সব ইত্িয়ান বিজনেসম্যান"' বাণিয়ারাই থাকে এখানে স্তানি '*" এই সব ইত্ডয়ান্সদের সঙ্গে মিশতে যেও না *** একবার ওদের পাল্লায় পড়লে তোমাকেও বাণিয়া তৈরী করে ছাড়বে*হ্যা-'পয়সা আছে ওতে'**সোনা-রূপা-ডায়মণ্ড"* "সব তোমাকে দিয়ে পাচার করতে চাইবে'*'তোমাকে নিয়ে আমার ভয় স্তানি'**ওই**"ওই যে**" দি হেভেন:-গগ্র্যাণ্ড হিমালয় 1”

আকাশচুম্বী চারতল। দালান...আলোয় আলোয় ঝলমল করছে। ট্যাকসিখানা থামলে! তারই সামনে এসে ট্যাকসি থামলেই আমরা নেমে পড়লাম ছু'জনে। ট্যাকসির পয়সা উইলিয়ামই মিটিয়ে দিলো। আমি ততোক্ষণ চারপাশে দেখতে লাগলাম

“আরে "চলো স্তানি'"'দেখার সময় পাবে আরো-""ওদিকে যে পাখীর! উড়ে যাবে।” বলতে বলতে আমাকে প্রায় টানতে টানতে এগিয়ে চললো উইলিয়াম

১৩

ওপর থেকে ভেসে আসছে মধুর বাজনার শব্দ '''উচ্ছাস- জাগানে ছন্দ। ওপরে বিরাট লাউগ্র। আনন্দ আর উচ্ছলতায় ভরে উঠেছে সব। গেটে ধাড়িয়ে আছে ছু'জন নিগ্রো দারোয়ান। বাঁপাশে কাউণ্টার। সামনে সিঁড়ির পাশে লিফট সিঁড়ির পাশে দেয়াল-ঘেঁষে মস্ত বড় আয়না সে আয়নায় আমাদের ছু'জনের চেহারা প্রতিবিষ্বিত হয়েছে। লিফটের সামনে এসে উইলিয়াম ফিরে দাড়ালো "লিফট নেমে আসতে যেটুকুই সময়ের প্রয়োজন--"সেটুকুও অপেক্ষা করার সময় নেই উইলিয়ামের। সে আমাকে হাত ধরে মিড়ি বেয়ে ওপরে উঠে এলো। অনেকেই আমাদের চেয়ে চেয়ে দেখলো আসলে উইলিয়ামের ব্যস্ততার হেতু--নিজেকে কালার্ড বলে পরিচিত করা। এখানে কালে! আর কালার্ড ছাড়া শ্বেতাঙ্গের প্রবেশ নিষেধ।

দোতলায় প্রশস্ত হলঘর। হলঘরের সামনেই উন্মুক্ত আকাশের নিচে সেই বিরাট লাউগ্র। হলঘরের প্রবেশদ্বার কয়েক মুহুর্ত দাড়ালাম আমর! যেন এই পরিবেশকে উপলব্ধি করে নিতে চাই। হলঘরের বাজনার সঙ্গে সঙ্গে উইলিয়মও তার দেহ দোলাতে লাগলো গুনগুনিয়ে গাইতে লাগলো গান ' ছুরস্ত ভীড় এখানে ভারতীয়**"ছু'একজন নিগ্রো'""আর কালার্ড পুরুষ-মেয়ের। সমাবেশ এই সমাবেশ জ্ুছন্দ বাজনার মত্ততায় আচ্ছন্ন হয়ে আছে। চলছে টুইস্ট* আমেরিকান

১৪

বৃত্যু। সেছন্দ আর বাজনায় এক উন্মত্ততা। সে উন্মত্ত! ছড়িয়ে পড়েছে প্রতিটি মানুষের দেহে." "হয়তো হৃদয়েও। যার! বসে আছে...পা...হাত...অথবা মাথা নেড়ে তালের সঙ্গে সমতাল রাখছে। শাড়ী পরে একজন ভারতীয় নারীকে দেখা গেলো -'"বয়স ত্রিশও হতে পারে" 'পঞ্চাশও হতে পারে.*'রঙ ঢেলে তার যৌবনকে জাগিয়ে রেখেছে মেদ-ভরা ওই দেহ অসম্ভব স্ুল। নাচের তালে তালে সমস্ত দেহও নেচে নেচে উঠছে। নাচের সঙ্গে সমতাল রাখতে গিয়ে ঠাপিয়ে উঠছে। আর অন্য সবাই ইউরোগীয় পোষাকে আচ্ছাদিত। শুধু বর্ণ থেকেই চেনা যায় এদের ** কালার্ডদের দেখে অনেক “সময় ভ্রম জাগে'""কাউকে দেখে মনে হয় ভায়তীয়**'কাউকে নিগ্রো""' কারো দেহ-গঠন আর বর্ণ একেবারে ইউরোপীয় উইলিয়ামকে তাই এই ভীড়ে কালার্ড বলেই মনে হবে।

“চলে স্যানি "*' ছু'রাউণ্ড ক্যাইন মারা যাক আগে." তারপর অন্য কথ11”৮ উইলিয়াম বললো চাপান্বরে | .

এখন আর তার ব্যস্ততা নেই। নীরবে আমরা ভেতরে লাউঞ্জে এসে একটা টেবিল নিয়ে বসলাম ছু'জনে। এখান থেকে পরিষ্কার দেখা যায় চারদিক। লাউঞ্জে বসে আছে অনেকে''কেউ সহযোগিনী নিয়ে-'কেউ একা'*'বসে বসে মদ খাচ্ছে'."অথবা কথ। বলছে'''কথা বলছে আপন মনে""'এক! ! বেয়ারা এসে ফাড়ালে!৷ আমাদের সামনে

*টু ডবল ক্যাইন.*.এণ্ড আইস ।” হলঘরের“দিকে তাকিয়ে

১৫

থেকে উইলিয়াম বললো : “ন্যানি--'কোনটা চাই তোমার" ওই শাড়ীপরা ইণ্ডিয়ান যুটকী-."পছন্দ£ঃ করে বলো স্তানি*** তোমার হাওলা করে দিচ্ছি...এক পাউও থেকে পচিশ পাউগ '""বয়স যাতো! কম হবে *.'টাকাটা৷ ততো বাড়বে...ওই যে বুড়ী মাগী'' "দশ শিলিং-এ কাজ সার! যাবে-''দেখিয়ে দাও স্তানি “কোনটা চাই তোমার ।”

“আচ্ছা-.*বলবে। পরে।” আমি বললাম।

“বুঝেছি*'তুমি এড়িয়ে যেতে চাইছ ****

উইলিয়ামের কথার মাঝেই বেয়ার এলো! ট্রে থেকে ক্যাইন-ভরা ছ'টো গ্লাস নামিয়ে রাখলো৷ টেবিলের ওপরে*" আর বরফ-ভরা একটি পাত্র। বিলটাও সেই সঙ্গে চাপা দিয়ে চলে গেলো গ্লাস ছ'টোতে কয়েক টুকরো বরফ ঢাললে৷ উইলিয়াম তারপর গ্লাস ছোয়াছুয়ি করে চুমুক দিলাম ছু'জনে।

“ইট ইজ ফাস্টক্লাস স্টাফ. স্তানি **" দক্ষিণ আফিকার একেবারে নিজন্ব জিনিস। আখ থেকে তৈরী **" এতো কড়া মাল যে ছু” ডবলেই নেশায় বুঁদ হয়ে যাবে। কিন্তু মজাটা হলো""সে নেশ। বেশীক্ষণ থাকে না স্তানি **" ব্যস ""* তারপর মনেই হবে না যে তুমি মদ খেয়েছিলে।”

কথা বলতে বলতে পরপর আরো ছু'টো! ডবল ক্যাইন খেলাম আমরা.'তারপরই উঠে দাড়ালো উইলিয়াম।

বললো : “ন্তানি *. তুমি তো৷ আর নাচতে যাবে না.*" বসে বসে ক্যাইন খাও ... দেখে দেখে নাচটাও শেখার চেষ্টা

করো''-যেও না কোথাও'.'পছন্দ করে আছুল ইসারায় শুধু *দেখিয়ে দিও 1” বলতে বলতে আমার কানের কাছে ঝুঁকে পড়লো উইলিয়াম বললো : “খবরদার স্তানি''.কারো সঙ্গে রাজনীতির কথা বলে! না.*.বের্ফাস কথা বলে ফেলে। না"** পুলিশের ফেউ আছে এখানে -*'হু'সিয়ার স্যানি'"'আমি নাচতে চললাম ।”

“আচ্ছা! উইলি-"তুমি যাও।” আমি বললাম।

আমার কথার অপেক্ষা না করেই উইলিয়াম ছুটে গেলো আসরের কাছে। গিয়েই সে কোমর ঝুঁকিয়ে দাড়ালো *" "হাত. ছু'টো দিয়ে উরুতে তাল রেখে নাচের মাঝে মিশে গেলো' সে। সে একক*''একা। কয়েক মুহূর্তেই সে সঙ্গিনী পেয়ে গেলো। নাচের ছন্দে উদ্দাম হয়ে উঠলে। উইলিয়াম

আমার বুক্তও নেচে নেচে উঠতে লাগলো মনে হলে! আমিও মিশে যাই নাচের ভীড়ে। তালে তালে''.ছন্দে ছন্দে". এক রোমাঞ্চকর শিহরণ জাগে আমার রক্তে উইলিয়াম আর ছুনিয়ায় নেই যেন। কখনো একে*''কখনে। ওকে কাছে টেনে নিয়ে নেচে যাচ্ছে সে। সেই শাড়ী-পর। মোটা মেয়েটিকেও কাছে নিয়ে নাচতে লাগলো নাচতে নাচতে আমার দিকে চেয়ে চেয়ে মুচকি হেসে চোখ টিপলো আমি নীরবে হাসলাম শুধু

ক্যাইনের গ্লাস শেষ করে এবার ভরা-গ্লাস সাম্পেন আনালাম। সে সচ্ছন্দ বাজন! হঠাৎ উত্তঙ্গে উঠে থেমে

ইয়াফরিকা

গেলো" এক লহমার জন্তে নেমে এলো৷ এক নিথর স্তব্ধ] তারপর এক উচ্ছল হাসির হুল্লোড়ে ভরে উঠলো হলঘর ভরে উঠলে হাততালির সঙ্গতে

একটি কালার্ড মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে বাজনদারদের মঞ্চের কাছে গিয়ে বসলো উইলিয়াম গল্লে গল্পে মসগুল হলো তারা ছ'জনে। কথার মাঝে মেয়েটির হাত তুলে চুমু খেতে লাগলে! সে। আমি বসে আছি একা লাউঞ্জে ভীড় জমেছে আমার টেবিল ঘিরে চেয়ারগুলো এখনো খালি। এমনি এক। আর কতোক্ষণ বসে থাকা যায়।

আবার বেজে উঠলো! বাজনা আবার এক..*ছুই করে আসরের মাঝে জমে উঠতে লাগলো ভীড়। আবার শুরু হলো বাজন।..*নাচ। সে ছন্দোবদ্ধ তালে আবার জেগে উঠলো' গ্র্যাণ্ড হিমালয়। আবার সেই রোমাঞ্চ. ..আবার সেই শিহরণ

আমি চোখ ফিরিয়ে নিলাম স্াম্পেনের গ্লাসটা তুলে চুমুক দিলাম! কেমন এক অনুভূতি জাগলো আমার মনে নেশার আচ্ছন্নতা যেন ক্রমেই আমাকে অবশ করে ফেলতে লাগলো

হলঘরে যে বিচ্ছিন্নতা ভরে উঠেছিলো ...মিলিয়ে গেলে। মুহুর্তে-.'নাচ শুরু হবার সঙ্গে সঙ্গে। সে নাচের ভীড়ে উইলিয়াম হারিয়ে গেছে। আমার দিকে চেয়েও দেখছে না সে। হঠাৎ তার সঙ্গিনীকে ছেড়ে ছুটে এলো উইলিয়াম। সেই চেয়ারখান।; টেনে নিয়ে বসে পড়লো আমার মুখোমুখি আমার হাত থেকে স্তাম্পেনের গ্লাসটা! টেনে নিলো

১৮

তিনি

এক চুমুকে সাম্পেনটুকু নিঃশেষ করে গ্রাসটা টেবিলের ওপর নামিয়ে রাখলো তারপর হলঘরের দিকে চেয়ে আমাকে খুঁচিয়ে উঠলে। সে। আমি চোখ ফিরিয়ে চাইলাম

“ওই দেখো স্যানি।” উৎফুল্ল হয়ে উইলিয়াম বললে! : “ঘানির জোয়াল ছেড়ে যাবে কোথায়***ওই দেখ***ওই যে***”

“কি.-"কি দেখব !” হলঘরের দিকে চেয়ে বললাম

“ওই যে বাপাশে"'মঞ্চের কোণায়-""বলছিলাম না""'যাৰে কোথায়-."আসতেই হবে-*ওই যে স্তানি--'দেখতে পেলে না এখনো -*-ওই যে।-*"”

“ই্যা। এবার দেখেছি ।” আমি বললাম।

দেখেই চিনতে পারলাম'*'সেই নিগ্রো মেয়েটি-*.আমরা পৌছনোর পরই যাকে দেখেছিলাম গুদামের বারান্দায় দাড়িয়ে থাকতে। সেই মেয়েটি-."এক কোণায় একটি চেয়ারে চুপ করে বসে আছে। নিরাসক্ত চোখে চেয়ে আছে নৃত্যরত মানুষগুলোর দিকে। যেন কোন এক গভীর ভাবনায় ডুবে আছে মেয়েটি। এই প্রথর আলোকে তার চোখ ছুটে স্পষ্ট দেখা যায়। স্তব্ধ দৃষ্টি। সে দৃষ্টিতে যেন ধর! পড়ছে না কিছুই কেমন নিপ্িপ্ত সেই চাহনি। সেই সাদা গাউন এখনো তার পরনে রঙ

১৯

মেখে তার মুখাবয়বে কোনো কৃত্রিম সৌন্দর্য ফুটিয়ে তোলেনি। এই পরিবেশে মেয়েটিকে যেন কেমন বেমানান মনে হলো এই পরিবেশে যেন নিজেকে মিশিয়ে ফেলতে পারেনি লে।

“দেখতে পেলে স্তানি।” উইলিয়াম বললে আবার।

“হ্য]...ওই তো।৮ আমি বললাম।

“এবার টস করছি'*"কার.বরাঁতে জোটে দেখি ।”

উইলিয়াম বললো : “রাজার মাথা আমার 1৮ বলেই একটি সেণ্ট বের করে টস করলো। কিন্তু তার নিজের বাজীতে নিজেই হেরে গেলে। সে। হেসে উঠলে। উইলিয়াম বললে। : “যাও স্যানি'''বাজী জিতলে"*"মাল নিয়ে এসো."*.আমার আপত্তি নেই।”

“আমি যাচ্ছি না1৮ আমি বললাম

“আচ্ছা দোস্ত'''তোমার জন্যে না হয় একবার দালালই হলাম।?

“যেও না উইলিয়াম*'ছেড়ে দাও ওসব 1৮

“আরে দোস্ত"'মালের ব্যাপারে আমার লজ্জা নেই।”

ততোক্ষণে উইলিয়াম চলে গেলো কোনে দিকে না৷ 'তাকিয়ে হাত বাড়িয়ে দিলো সে। হয়তো বললোও কিছু। উইলিয়ামের হাত ধরে মেয়েটি উঠে ফাড়ালেো। তারপর ছু'জনেই মিশে গেলে। নাচের ভীড়ে মেয়েটির চেহারায় কোনে আনন্দ...কোনো ফ্‌তি দেখা গেলো না। নাচতে হবে বলেই যেন সে নেচে চলেছে উইলিয়াম কখনো! চেয়ে দেখছে

আমার দিকে কখনো চোখ টিপছে-*"কখনে। মুচকি হাসছে কখনো! কথা বলছে মেয়েটির সঙ্গে নাচতে নাচতে মেয়েটিও আমাকে চেয়ে চেয়ে দেখছে। তার চোখে জেগে ওঠে উৎসুক". জিজ্ঞাসা নাচ থেকে হঠাৎ সন্তর্পণে মেয়েটিকে নিয়ে বেরিয়ে এলো! উইলিয়াম। এসে বসলো! আমার মুখোমুখি চেয়ারে মেয়েটি পলকহীন চোখে চেয়ে আছে আমার দিকে আমি চোখ ফিরিয়ে নিলাম

“হেই বেয়ারা।” হেঁকে উঠলো! উইলিয়াম। সঙ্গে সঙ্গে বেয়ার এলো উইলিয়াম উৎফুল্ল হয়ে বললো : “থি, ডবল ক্যাইন।”

“অং.""ইয়েস স্যার |” বেয়ার চলে গেলো

উইলিয়াম ফিরে চাইলেো। আমার দিকে তারপরেই চোখ ফিরিয়ে নিলে! মেয়েটির দিকে বললো : “হ্থ্যা-""আপনার নামটা আগেই জেনে নিই 1৮**"

'ডিঠিবি ক্যমালো।” ধীর কণ্ঠে মেয়েটি বললো

“আপনার সঙ্গে আমার বন্ধুর পরিচয় করিয়ে দিচ্ছি।” বলে উইলিয়াম বানিয়ে বানিয়ে আমাকে চিত্রিত করতে লাগলে। এক মহাগুণী ব্যক্তি বলে। উইলিয়াম বললো: “হয়তো দেখবেন'*"যার সঙ্গে আপনার পরিচয় করিয়ে দিলাম* "হয়তো আপনাদের জ্যুলু জীবন নিয়ে কোনে উপন্তাসই লিখে ফেলৰে একদিন-""হয়তো দেখ! যাবে যে সে উপন্যাসের নায়িকা! আপনিই..-ই্যা তখন বলবেন আমাকে ***1৮ বলে ঠোট চেপে উইলিয়াম হাসতে লাগল

২৯

উইলিয়ামের কথ। শুনতে শুনতে মেয়েটির চোখে জাগলো প্রথর জিজ্ঞাস!...এক বিস্মিত উৎস্বক নয়নে সে চেয়ে থাকলো, আমার দিকে

“স্ট্য।.**তখন বলবেন*"'এ চান্স ছাড়বেন না."'সাগর পাড়ি দিয়ে দশ সহত্র মাইল দূরে.*'সেই সুদূর বাঙলা দেশে*"" আপনি হবেন তার উপন্থাসের নায়িকা বাঙলার ঘরে ঘরে এই জ্যুলু যুবতীকে জানবে সবাই***কম কথা নয়**.কি বলো স্টানি-*"তুমি লিখবে 1”

“কে জানে 1” আমি বললাম

“কে জানে মানে কি"''তোমাকে লিখতেই হবে দোস্ত"". হ্যা.*বলে দিলাম।৮ উইলিয়ামের কথার মাঝেই বেয়ারা ক্যাইন নিয়ে এলো। গ্রাসগুলো। তুলে নিয়ে উইলিয়াম বললো : “এই যে... আস্থন -** ক্যাইন *.. না সাম্পেন চলবে ।”

“না'"*ধন্তবাদ"'"আমি ওসব খাই না” বিনীত হয়ে মেয়েটি বললো £ “কিছু মনে করবেন না 1”

“এযা'**'সে কী কথা.."কি ধরনের জ্যুলু আপনি-''এই ক্যাইন যে আপনাদের জিনিস |”

“আমি অভ্যাস করিনি''"তাই।” আবার মেয়েটি বললো! তারপরই আমার মুখোমুখি . হয়ে শুধালো : “আপনি বুঝি বাঙালী-ইপ্ডিয়ান ?”

হ্যা *** বাঙলা আমার দেশ ।” আমি বলি।

২,

“আপনি কতোদিন দেশ ছেড়ে এসেছেন ?” মেয়েটি শুধালো।

“খুব বেশী দিন নয় **" এই কয়েক মাস।৮ আমি বলি।

“আবার কবে দেশে ফিরবেন ?”

“আমাদের ফিরে যাওয়া মানে ফিরে গেলেই ফেরা হল ।”

“ওঃ।৮ বলে মেয়েটি চুপ করলো। কি যেন ভাবতে লাগলো এক গভীর চিন্তার ছায়৷ ফুটে উঠলো! তার চোখে '** তার মুখে

উইলিয়াম উঠে দাড়ালো হঠাৎ। ক্যাইনটুকু এক চুমুকে নি:শেষ করে গ্লাসট। নামিয়ে রাখলো

বললো : “স্যানি তোমরা কথা বলো, আমি নাচতে চললাম ।”

হেসে হেসে আমার দিকে চেয়ে চোখ টিপে উইলিয়াম চলে গেলো হলঘরের দিকে আমাদের এক৷ থাকার স্থুযোগ- টুকু দিয়ে গেলো সে। কিন্তু অনেকক্ষণ আমরা কোনো কথা বললাম না। মেয়েটিও যেন কোন গভীর এক ভাবনায় ডুবে থাকলো কি বলে যে আবার কথা শুরু করি '** ভেৰে পেলাম না। উইলিয়াম হলে এতোক্ষণে জমিয়ে তুলতো। আমার ইচ্ছে হলে! যে নতুন করে আবার কথ বলি।

“আপনার নামটা যেন কি বললেন” হঠাৎ বলে ফেললাম আমি।

“উঠিবি ক্যমালো |” ধীরে স্পষ্ট করে নামটা উচ্চারণ করলে। মেয়েটি যাতে বুঝতে কোনে! অস্থুবিধে ন! হয়, তাই এক একট! অক্ষর আলাদ! করে বললো! : “ডি-ঠি-ৰি **কুযু- মালো।”

“কি কাজ করেন আপনি ?” আবার আমি বললাম। কিযে আর বলবে! *** ভেবে পেলাম না। কথাটা বলে নিজেই লজ্জিত বোধ করলাম

“কাজ!” যেন বিব্রত বোধ করলো সে। আবার খানিক ভাবলে।। ভেবে ভেবে বললে! £ “আপনি কি কখনো! এখানে আসেন নি!”

“না **" এই প্রথম এলাম ।” বললাম আমি।

€ওঃ |” মেয়েটি আবার গম্ভীর হলো। তার চোখে জিজ্ঞাসা আরো প্রথর হয়ে উঠলো চোখের গভীর দৃষ্টি আমার চোখে চোখে আমি চোখ ফিরিয়ে নিলাম

সে বললো : “সহরে থাকতে হয় বলে আমাকে 1একটা কাজ করতে*হয় *." কিন্তু '** আপনি একথা জিজ্ঞেস করলেন কেন?

“ন। *** এমনি ।৮ আমি সাড়া দিলাম

“হ্যা '** আমি কাজ করি **" বিজনেস গার্ল "*" ভাই লেখ আছে গভর্নমেপ্টের খাতায়***কিন্ত।৮ থেমে গেল মেয়েটি।

“ওঃ 1” কথা শুনে আমি চুপ করে গেলাম। বিজনেস গার্ল কি '** আমি জানি **" দেহ আর দৈহিক সৌন্দর্যই যার

২৪

একমাত্র মূলধন *** জীবনের সম্বল। কেন জানি না আমার “মন এক সহানুভূতিতে ভরে উঠলো আমি ভাবলাম, মেয়েটি কেন সত্য গোপন করতে চাইলে না

“আপনি আমাকে খুব খারাপ ভাবছেন, না?” আমাকে নিশ্প দেখে মেয়েটি বললো : “এই না হলে যে আমি শহরে থাকতে পারি না।”

“না'*'না আপনি কিছু মনে করবেন না।” আমি বললাম।

“কেন, খারাপ ভাবলেন না .*. আপনি তো! একজন সাহিত্যিক ।”

“আপনি ভুল ভাবলেন।” আমি বললাম: “আমি মানুষকে এমন করে বিচার করি না... আমি আপনাদের দেশের কথা অনেক শুনেছি ।”

“কি *** কি শুনছেন।” উৎস্কভর! কণে মেয়েটি বললো।

“হী! *** সে অনেক কথা *** আপনাদের কথা। কিন্তু দেখার সুযোগ কখনো হয়নি "*" সে স্থুযোগ হয়তো হবেও না।”

আমার কথার মাঝেই ফিরে এলো উইলিয়াম। সঙ্গে ছু'জন পুরুষ সঙ্গী। ছু'জনেই বেজায় উৎফুল্ল *.* বেজায় রসিক। একজন ভারতীয় **. অন্তজন কালার্ড। ওর! নিজেদের মধ্যে কথ! বলতে বলতে নিজেরাই হেসে উঠলো! "*. মেতে উঠেছে আনন্দে। ওদের সঙ্গে নিয়ে উইলিয়াম বসলো! আমাদের 'পাশে। বসেই উইলিয়াম পরিচয় করিয়ে দিলো ।. সত্য মিথ্য।

মসলা চড়িয়ে আমার পরিচয় দিলো সে। কালার্ড ভদ্রলোকটি একটি ট্রেড ইউনিয়নের সম্পাদক '." মিঃ লেসলী। আর ভারতীয় যিনি মিঃ নাইডু-.একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অধ্যাপক ওর! ছ'জনেই নেশাগ্রস্ত। উইলিয়ামের সঙ্গে ওদের পরিচয় অনেক দিনের উইলিয়াম এই দক্ষিণ-আফিকায় এসেছে বহু- বার! তাই আন্তরিকতা গড়ে উঠতে দেরী হয়নি। উইলিয়ামের কথ শেষ হতেই শুরু হলো! আমাদের কথা ছুই দেশের জৈবিক প্রশ্ন নিয়েই শুরু হলো আমাদের আলাপ

“আপনারা ধন্য *****" আপনারা ধন্য 1৮ লেসলী বলতে লাগলো : “আমাদের হিংসে হয় -.. মিঃ গাধীকে যদি আপনারা কেড়ে না নিতেন দক্ষিণ...আফ্রিকায় নতুন ইতিহাস সৃষ্টি হতো! *** আপনারা |”

“অঃ” বাধা দ্রিয়ে উইলিয়াম বলে উঠলো : “তোমাদর নিয়ে যতো জ্বাল! '.. সব রস মাটি করতে চাইছে! তোমরা **" একে তো! জানে না .." রাজনীতির গন্ধ পেলেই মেতে উঠবে *** হেই বেয়ার! **" ক্যাইন *** ডবল ।৮

আমার ভালই লাগলে! উইলিয়াম আলোচনার মোড় ঘুরিয়ে দিলে বলে। এই আলোচনায় উৎসাহ বোধ না! করলেও ভাবলাম অন্ততঃ একটা কথা তাদের বলি। আমি বললাম : “হ্যা মি: লেসলী -." আমরা তাকে যতোটুকু জানি তা বোধ হয় এই পৃথিবীব আর কেউ জানে না-."”

“ত্য।1” চমকে উঠে লেসলগী বললো! : «কি বলতে চাইছেন 1

“হা... তাই -** ভারতবধষের বিভিন্ন জাতিসত্তা তাকে ভালো করেই জানে -.* আপনাদের এদেশের কথা আমি বলতে পারবো না *** তবে এরই মধ্যে আমি অনেক কিছু উপলদ্ধি করতে পেরেছি মিঃ লেসলী”। আমি বললাম : “কাজ নেই এসব আলোচনায় '.. ফ.ত্তি করতে এসেছি'"'তাই ভালো! '"* জীবনটাকে আরো জানা যাবে। জীবনের গভীর অনুভূতির মাঝেই ডুবে যাওয়া যাক ।”

“বলেন কী!” লেসলী আশ্ষ কণ্ে বলে উঠলো। হয়তো বা আমার কথায় ব্যথিত হল।

“হী... তাই -* কিছু নয়।”

আমার কথা ফুরোলো৷ না হঠাৎ থেমে গেল এই উদ্দাম বাজনা *." নাচ *** নেমে এলো! এক গভীর থমথম স্তব্ধতা। আমরা সচকিত হয়ে ফিরে চাইলাম। হঠাৎ এই ছন্দপত্তনে আমর! উদগ্রীব হলাম কোনে! কথা সরলো না কারো মুখে খটখট শব্দ --. প্রায় কুড়ি জন শ্বেতাঙ্গ আর ভারতীয় পুলিস এসে ঢুকলে৷ হলঘরে। জনাকয়েক দাড়িয়ে রইলো দোরের সামনে কাউকে বাইরে যেতে দিলে! না ওরা কেমন এক ভীতিবিহ্বল মুহূর্ত নেমে এলো চারপাশে এখানকার প্রত্যেককে নির্বাক করল ওদের উপস্থিতি। পুলিশের প্রতি এক স্বৃণিত অবজ্ঞা যেন প্রত্যেক দেশেই সমান।

কোন এক সময়ে ডিঠিবি তার চেয়ারখানা ঠেলে ঠেলে

আমার কাছঘেষে বসলো ধীরে আমার ডান হাত তুলে নিলে! তার ছু'হাতের মাঝে আমি ফিরে চাইলাম তার দিকে ।' কেমন ভীত *." কেমন সন্ত্রস্ত হয়ে উঠলো সে। আমি চোখ ফিরিয়ে নিলাম।

“আপনারা নাচ বন্ধ করলেন কেন'' "ক্যারি অন মিউজিক ।” ওয়ার্ডেন ছুটে এসে গর্জে উঠলো : «নেচে যান ". নেচে যান ।৮

আবার তালে তালে শুরু হলো ড্রামের শব্দ ... ধীরে সুর উঠলো অন্যান্ত বাজনার যারা সঙ্গিনী সহ থমকে দাড়িয়ে ছিলো *** আবার শুরু হলো সেই নাচ। যেন দমহীন পুতুল- গুলে! নেচে চলেছে একসারে। সে জৌলস ... সে জমক আর নেই "সে উদ্দামতা .. সে হাসি হারিয়ে গেছে." নেমে এসেছে এক অজানা শঙ্কা

উইলিয়াম বলেছিলো! যে এখানে পুলিশের ফেউ আছে ".. এবার পুলিশের অগ্রদূত হিসেবে সেই ছদ্মবেশী ফেউগুলো তৎপর হয়ে উঠলো এতোক্ষণ এই উদ্দামতায় মিশে ছিলো এরা ... কেউ ভারতীয় '"" কেউ কালার্ভ। তারা ঘুরে ঘুরে একে ওকে প্রশ্ন করতে লাগলো অনেককে ধরে নিয়ে একপাশে জড়ো করে রাখলো! তিনজন পুলিশ এসে দাড়ালো আমাদের সামনে উইলিয়াম এবং আমাকে ওর! প্রশ্ন করলো না। হয়তে! আমাদের নৌ-পোষাক দেখে ওর! বিরত রইলো!

ডিঠিবির দিকে ঢেয়ে জানতে চাইলো! তার পরিচয়। ভীত ডিঠিবি উঠে ঠাড়ালো। ভয়ে যেন তার মুখখান! শুকিয়ে

-৮

গেছে '" ঠোট ছু'টো। যেন ফ্যাকাশে হয়ে উঠলো। তবু তার »ভ্যানিটি ব্যাগ খুলে একখান! ভাজ করা কা এগিয়ে দিলে

ওদের হাতে। ভয়ে আড়ষ্ট হয়ে ঈাড়িয়ে রইলো সে। তার মুখে কোনো কথা নেই। পুলিশরা সেই কার্ডখান। দেখতে লাগলে! ... দেখতে লাগলে! ডিঠিবিকেও। এমনি সময়ে এক অদ্ভুত কণ্ঠে হেসে উঠলো! উইলিয়াম |

“হায় **" হায় *.. ডায়মেট ।” বলে উঠলো সে: পত্রাদার একটানা পঁচিশ দিন কাটিয়ে এলাম সমুদ্রে -' একটু ফি." একটু আনন্দ ... কে জানে কখন ডুবে মরবে সমুদ্রে ব্রাদার "'. সে ফিটুকু কেড়ে নিতে চাও কেন '.. এই যে ** জাহাজী সিগারেট, ফাইন স্টাফ. ! আর যদি না চলে তাহলে**»

চোখ ইসারায় ডিঠিবিকে দেখিয়ে মুচকি হেসে চোখ টিপলো উইলিয়াম উইলিয়ামের প্রাণখোলা ব্যবহারে পুলিশরা ষেকি ভাবলে৷ কে জানে উইলিয়ানের কথায় তারাও হেসে উঠলো! তারপর ডিঠিবির কার্ডখান। ফেরত দিয়ে হেসে তার চলে গেলো আমাদের সামনে থেকে। হয়তো ভাবলে নাবিকরা তো মদ আর মেয়ের সন্ধানেই আসে .* তাই হয়তো তারা চলে গেলো

আমরা বসলাম আবার। পরস্পরের চোখে চোখে চাইলাম। তারপরই খেয়াল হলে! যে লেসলী আর নাইড়ু কখন কোন ফাকে সরে পড়েছে ... আমরা টেরও পাইনি

“ভালোই হয়েছে ।” উইলিয়াম বললে। : “তাহলে স্যানি,

২৯

রাতে আর ফিরে যাবো না। আমিও একজন জুটিয়ে নেবো -* কি বলো?”

“ঠিক আছে।”

“হেই বেয়ার 1৮ হেঁকে উঠলো উইলিয়াম : *তিন ডবল ক্যাইন।”

৩)

চার

ডিঠিবি তখনো! আমার কাছে-..আমার দেহ ঘেঁষে। কেমন এক শঙ্কা তার হু'চোখে। উইলিয়ামও কেমন ঝিমিয়ে গেছে। সমস্ত হলঘরেই এই আচ্ছন্নতা। চারপাশে চোখ বুলিয়ে ডিঠিবির দিকে চাইলাম।

“ভয় পেলে ডিঠিবি ?” আমি বললাম।

«“এা.'"ভয়-'"না"'না |” সে বললো।

কিন্ত তার কণ্ঠে ভয়ের জড়তা জেগে আছে। চোখ ছু'টোয় সে কাতরতা আরে স্পষ্ট। তার কমনীয় আভাকেও ম্লান করে দিয়েছে কোন এক ছৃশ্চিন্তায় ছেয়ে আছে তার মুখাবয়ব।

“কি হয়েছে তোমার ?” আবার বললাম আমি

“কিছু নয়.*.কিছু নয়।৮ ভাবনা জড়িত কে বললো! সে।

হলঘরের দিকে এখনো! সে দেখছ আড়চোখে পুলিশর! ঘুরছে তখনো! পুলিশ প্রহরায় বেশ ক'জন দাড়িয়ে আছে দোরের সামনে আমাদের কথা আর জমলো৷ না। সমস্ত হলঘর আর লাউগ্জ জুড়ে এক বিমর্ষতা। বাজনা এখনো বাজছে তেমনি'"'তেমমি নাচছে অনেকে'"'কিস্ত আগের সে মনখোলা আনন্দ যেন আর নেই। আমর! নির্বাক হয়ে বসে রইলাম ক্যাইনের গ্লাস মুখের সামনে ধরে বসে আছে উইলিয়াম

৩১

এই পরিবেশ যে তার ভালো লাগছে না” তার মুখমণ্ডলে' তা স্পষ্ট ভেসে উঠেছে।

তারপর পুলিশরা1! একসময়ে জনকতককে ধরে নিয়ে চলে গেলো পুলিশরা চলে যাওয়ার খানিক পর আবার থেমে গেলো বাজন:*"থেমে গেলো নাচ। আবার নেমে এলো সেই থমথম নীরবতা নেমে এলে! নির্বাক ব্যস্ততা সবাই যেন এখান থেকে চলে যেতে পারলে বাচে। দোরের সামনে জমে উঠলো! ভীড়। সবাই একসঙ্গে বেরিয়ে যেতে উদ্ভত। ছোট দোর...তাই এক এক জন করে বেরিয়ে যেতে লাগলো ভীষণ যুদ্ধের পর যেভাবে স্তিমিত হয়ে ওঠে রণাঙ্গণ তেমনি স্তব্ধতায় ভরে উঠলে। এই গ্র্যাণ্ড হিমালয়

এখন এই আমরা জন কয়েক ছাড়া আর কেউ নেই। লাউঞ্জের ওপাশে আমাদের মুখোমুখী বসে আছে একটি কালার্ড মেয়ে "** বসে আছে নিঃসঙ্গ মাঝে মাঝে আমাদের তাকিয়ে তাকিয়ে দেখছে। তার চোখ ছু'টোয় নেশার ঘোর। উইলিয়াম হঠাৎ উঠে এগিয়ে গেলো মেয়েটির কাছে। গিয়ে বসলে! ওর পাশে। খাণিকক্ষণ কথা বললো। তারপর মেয়েটিকে নিয়ে ফিরে এলে! উইলিয়াম। এসেই সেহেঁকে উঠলো ; “এই বেয়ার! !”

বেয়ার আসতেই আবার ক্যাইন আনার কথা বললে! সে। এখন আর ক্যাইনের জন্যে অনেকক্ষণ অপেক্ষা করতে হলে! ন1। চোখের পলকে হু বোতল ক্যাইন নিয়ে ফিরে এলে! বেয়ারা।

৩২

“এতো ক্যাইন দিয়ে কি হবে ?” হঠাৎ বলে উঠলো ডিঠিবি।

“কি হবে মানে'*'খাকো--খেয়ে নেশায় বুদ হব।” গ্লাসে গ্লাসে ক্যাইন ঢালতে ঢালতে উইলিয়াম বললো: “শালা বাস্টারড...*আমাদের রাতটাই মাটি করে গেলো।” গ্লাস তুলে উইলিয়াম চুমুক দিলো

“আপনি: খাবেন না?” ডিঠিবিকে উদ্দেশ করে বললাম

“আমি, খেতে পারবো না” কেমন চঞ্চল মনে হলে তাকে।

“ওহে স্যানি'**'বসে রইলে যে."চালাও।” উইলিয়াম বললো : “তোমার ডালিং একেবারে ভেজিটেরিয়ান।” বলে একটি গ্লাস তুলে কালার্ড মেয়েটির হাতে এগিয়ে দিলে বললো : “কাম্‌ অন্‌ ডালিং*-.শাল। পুলিশরা সব মাটি করে গেলো ।”

যতোক্ষণ বোতল ছু'ট শেষ হলে না"" আমরা একের পর এক ডবল খেতে লাগলাম। কেউ কোনো কথা বললাম না আর। ক্রমেই নেশার আচ্ছন্নতায় ভরে উঠলো। আমার দেহ ডিঠিবি বসে আছে নীরবে নীরবে সে লক্ষ্য করছে আমায়। আমার দেহ ধরে রাখার সংগতি যেন আমি হারিয়ে ফেলছি।

“না'**না'".আর খাবেন না আপনি ।৮ বলে হঠাৎ আমার গ্লাসটা ভিঠিবি ধরে ফেললো আমি তার চোখে চোখে তাকালাম

৩৩

ইয়াফরিক1

“আর খাবেন না""*আর খাবেন না” ডিঠিৰে বললো। গ্লাসট! আমার হাত থেকে নামিয়ে রাখালো। আমি চেয়ারের ওপর এলিয়ে পড়লাম।

“ওহে স্তানি- মেয়েটি তোমার প্রেমে পড়েছে।” নেশা জড়িত কে হেসে উঠে উইলিয়াম বললো : “আপনি থাকবেন-..থাকবেন পুরো! রাত...”

“থাকবো'থাকবো-শন্ই্যা-হ্যা 1” ব্যস্ত কণ্ঠে ডিঠিবি বললো

“রেট কতো ?” নিরুদ্বেগ কণ্ে শুধালো৷ উইলিয়াম

“পরে বলবো""'কাল ভোরে ।”

“ভোর-টোর নয়.*"পরে ঝামেলা বীধাবে

“আপনাদের যা খুশী।৮ ডিঠিবি বললো

“ছুই পাউগ্ড

«আচ্ছা |” ডিঠিবি সম্মতি জানালো

আমি চোখ ফিরিয়ে তার দিকে তাকালাম মনে মনে ভাবপাম""'সে হয় ন।-"*এ আমি চাই না।

«উইলি।” আমি বললাম: “আমি জাহাজে ফিরে যাবো ।”

“ক্যাট আপ স্যানি।” তেড়ে উঠলো উইলিয়াম : “জাহাজে ফিরে যাবে না'"'কোনো। রকমেই'*'্্যা "তোমাকে থাকতে হবে ।”

“না-'"আমি থাকবে! না'**তোমার যা খুসী করো” ৰলে

৩৪

উঠে দাড়ালাম আমি। সঙ্গে সঙ্গে আমার হাতখানা ধরে ফেললো! মেয়েটি। আমি আবার বসলাম। চাইলাম ওর চোখে চোখে

মেয়েটি বললে! : “আমাকে পছন্দ হলো! না-*'আমি জ্যুলু-** খাটি জ্যুলু-দোহাই...আপনি থাকুন*** |”

“এা।” ওর কথায় আমি চমকে উঠলাম। স্তব্ধ চোখে চেয়ে রইলাম ওর দিকে সে চোখে আর উদ্বেগ নেই*"" বিমর্ষতা নেই। মনে হলে! যেন'*"এই চোখ ছুটে। আমার কতোকালের চেনা ডিঠিবির হাত ধরে আমি উঠে ঈ্াড়ালাম নীরবে

“সাবাস স্যানি *** সাবাস।” প্রীয় টেঁচিয়ে উঠলে। উইলিয়াম

তারপর কালার্ড মেয়েটিকে তার কাছে টেনে নিয়ে উঠে ঈ্াড়ালো। আমরা ধীরে বেরিয়ে এলাম। আমাদের ছ'পাশে ছুটি মেয়ে। মানব জীবনের সব চেয়ে রহস্তান্বিত আকর্ষণ !

“ন্যানি।” আমার কানের কাছে মুখ এনে উইলিয়াম বললো! : প্্যানি *** হাটতেই পারছে! না যে ** এতো নেশা না করলেও জীবনকে চিনতে পারতে স্তানি।”

আমি কোনো সাড়া দিলাম না। ডিঠিবির হাতখান! শক্ত করে ধরলাম। ফিরে চাইলাম উইলিয়ামের দিকে একবার। বারবার সে ঢলে ঢলে পড়ছে তার সঙ্গিনীর ওপরে কিন্ত আমার পদক্ষেপ তখনো! সচেতন

৩৫

পাঁচ

একট ফিসফিসানি শব্বে আমার ঘুম ভেঙ্গে গেলো। ঘরখানা আবছ! অন্ধকার। এই অন্ধকারে কিছুই অনুমান করতে পারলাম না! এখন আর নেশার অবসন্নতা নেই মনে এলে নব *** মনে আসতেই এক বিতৃষ্ণায় ভরে উঠলো আমার মন। আমার পাশেই সে শুয়েছিলো-..আমার কাছেই ".* যেন আমারই দেহের একাংশ কেমন এক অশান্ত ঝড় বইতে লাগলে। আমার মনে। সেই ফিসফিসানি শব্দ। যেন ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাদছে কেউ। আমি কান পাতলাম। ছুবার এক শিহরণ খেলে গেলে! আমার দেহে হাত বাড়িয়ে দেখলাম *-" সে আমার পাশে নেই। মনে হলো হয়তো সেই মেয়েটিই কাদছে। মনে হতেই হাত বাড়িয়ে আলো জ্বাললাম।

মেয়েটি বসে আছে মাথা গুজে *. খাটের ওপাশে "** আমার পায়ের দিকে। তার পরণে সেই ছোট্ট নিকার ... আবরণী জুড়ে আছে বক্ষে। মাথা ুয়িয়ে ফুঁপিয়ে ফু পিয়ে কাদছে সে। কেঁপে কেঁপে উঠছে তার দেহ। বুকের পাঁজর- গুলোয় সে কান্নার শিহরণ। কেন যে'সে কাদছে *** আমি বুঝতে পারি না ..* বুঝতে পারলাম না। আমি ধীরে উঠে

৩৬

এলাম তার কাছে *"* তার পাশে" তার কাধে হাত রাখলাম:*“তবুও যেন টের পেলে না সে।

“কাদছে! কেন?” আমি শুধালাম।

আমার কথা শুনে ধীরে মুখ তুললো সে। তার চোখ ছু'টো জলে ভরা সেই জল ভরা চোখে পলকহীন দৃষ্টি মেলে চেয়ে রইলো৷ সে আমার দিকে

“কি হয়েছে তোমার""'বলো।” আবার বললাম আমি

সাড়া দিলো না মেয়েটি। হঠাৎ ... পলক ফেলার আগেই আমার বুকে ঢলে পড়লে! সে। অঝোরে ফুঁপিয়ে কাদতে লাগলে! মনে মনে ভাবলাম "." কোন ফ্যাসাদে পড়লাম আমি আমি বুঝি না। এক দেহ-ব্যাবসায়িণীর সঙ্গে যেখানে ঘণ্টা কয়েকের পরিচয় *.. যার সঙ্গে সম্পর্ক শুধু অর্থের সেখানে এই কান্না কেন "" তার হেতু খুঁজে পাই না! আমি তবু মনে এলো '' এমন জীবন তো চাইনি আমি "-" তবু... তবু." কেন এমন হলো!

"আমাকে ক্ষমা করো "" না. না .এ আমি চাইনি '.. কিন্ত. . কিন্তু "আমি কি করতে পারি এখন।” আপন মনে বললাম আমি।

কিন্তু মেয়েটি তবু নিরুত্তর রুইলো। তেমনি আমার বুকে মাথ। গুজে কাদতে লাগলো তাঁর এই ব্যবহারে। নিজেকে মনে হতে লাগলো! অপরাধী মনে মনে ভাবি *.. এমন উন্মাদনা! কেন আসে। ওর মতো কান্না কেন এলো ন৷

৩৭

আমার মনে। ধীরে ওর মুখখান। তুলে ধরলাম। সে কাদছে .** ধার! বেয়ে গড়িয়ে পড়ছে স্কটিকের মতো! স্বচ্ছ জল।

“তুমি কাদছে। কেন ." আমি জানি না কেন এমন হলে1।”

“না -.. না -:1% অক্ষুষ্ট কণ্ঠে মেয়েটি বললো : “না -- আমি কাদছি না '". আমি কাদবে। না।»

থেমে গেলো সে। নিম্পলক চোখে চেয়ে থাকলো। আমার চোখের গভীরে হাত বাড়িয়ে তার চোখের জল মুছিয়ে দিলাম। তবু তার পাষাণ দৃষ্টির কোনো! পরিবর্তন হলো না। তার শ্বাসপ্রশ্বাস ক্রমে শাস্ত হয়ে এলো আমাকে এতো করে কি দেখছে সে" আমি বুঝি না। মনে মনে ভাবলাম ""- হায়" কী ফ্যাসাদ হলো। আমার জীবনে ডার্বানে আমার জীবনের এই প্রথম রাত্রি'''এই মুখ-বোজা মেয়ের সঙ্গে আমার পরিচয় *** কোথায় নিয়ে চললো আমাকে ! মনে মনে শপথ করলাম ... আর নয় "' জীবনে আর এমন করে জড়িয়ে পড়বো না কোথাও।

ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখলাম -.' রাত্রি চারটে ... ভোর হতে আর দেরী নেই। ভাবলাম... এই মিছে অভিনয় থেকে আমি সরে যাই। উঠে দাড়ালাম আমি। মেয়েটি আমার হাত ধরলে! *-. আমার হাতথান! টেনে নিলে। তার ছুই হাতের মাঝে আমি আবার তার পাশে বসলাম। আবার কোন এক উদ্মাদনা জেগে উঠলো! আমার শিরায়। আমি হাত বাড়িয়ে আলোটা নিবিয়ে দিলাম

৩৮

সর্ধের আলোয় আলোয় ভরে উঠেছে এই কক্ষ। প্রশস্ত জানালাগুলো পর্ধায় ঢাকা এই পর্দাগুলোও সুর্যের আলোয় আলোকিত। আমি চোখ কচলে আবার চাইলাম। ঘড়ি দেখলাম .. বেলা দশটা কেমন এক ঘ্বণা' আর ক্ষোভে ভরে উঠলে! আমার মন। চোখ ফিরিয়ে দেখলাম '** মেয়েটি বসে আছে একটি চেয়ারে ... আমার শিয়রে। আমি ঝট করে উঠে বসলাম। সঙ্গে সঙ্গে মেয়েটি চাইলে। আমার দিকে তার চোখে কোনে ক্লান্তি নেই এখন .-. কান্নার আভাষও নেই। কিন্তু চোখ. ছু'টোয় ভর! রয়েছে জিজ্ঞাসা

“আমার অনেক দেরী হয়ে গেলে1।” আমি বললাম।

«আপনাকে খুব ক্লান্ত দেখাচ্ছিল -. তাই ডাকিনি।” মিষ্টি স্বর তার কণ্ে।

কিন্ত ক্ষোভে কোনো কথা বলতে পারলাম না আমি। জাহাজে গিয়ে কি জবাব দেবো এতে! দেরী হয়ে গেলো আমাকে কি না ডেকেই চলে গেলে উইলিয়াম ওদিককার একটি কামরায় তার থাকার কথা একবার দেখে এলে হয়। কোনে দিকে না তাকিয়ে বাথরুমে ঢুকলাম আমি হাত-সুখ ধুয়ে মুহূর্তে বেরিয়ে এলাম। এখন আর সময় নেই একটুকুও। পোষাক পরতে পরতে মেয়েটিকে একবারও চেয়ে দেখলাম ন1। তবু আমার নজর এড়ালে। না যে মেয়েটি গভীরভাবে লক্ষ্য করছে আমায়

“তোমাকে কতো! দিতে হবে 1” শুধালাম সরাসরি

“আমি তে টাকার জন্ত আসিনি” শান্ত কণ্ঠে মেয়েটি বললে!

“মানে 1”

“স্থ্যা "* আমি টাকা চাই না ... কিছু চাই না।%

“বলছে কি তুমি "' তাহলে এসেছ কেন? বলে চেয়ার থেকে টিউনিকট। তুলে নিলাম।

সঙ্গে সঙ্গে নিঃশবে মেয়েটি উঠে এলো আমার সামনে। আমার হাত থেকে টিউনিকটা নিয়ে পরিয়ে দিলে। সে। তারপর ফিরে এসে আমার মুখোমুখী দাড়ালো দাড়িয়ে টিউনিকের বোতামগুলো আটকে দিতে লাগলো তার মুখখান। ক্লান্তির ছায়ায় ভরে উঠেছে চোখে অনিদ্রার আভাস স্পষ্ট যেন অনিচ্ছায় চোখ ছু'টো৷ খুলছে সে। বোতাম আাটতে আটতে সে বলতে লাগলো! :

“আমাকে ভুল বুঝবেন না *' আমি টাকার জন্তে আসিনি . আজ কতোদিন অপেক্ষা করছি "যেন আপনারই অপেক্ষায় ছিলাম ... আপনাকে ".. আপনাকে ।”

“মানে *. কি বলতে চাইছে তুমি!” বাধা দিয়ে বললাম

1." তাই... আমি বুঝতে পারছি না... এমন ভুল